১২ ডিসেম্বর ২০১৯

মিসর-তুরস্ক থেকে দ্রুত আমদানির উদ্যোগ ভারত থেকে পেঁয়াজ আনতে যোগাযোগ চলছে : সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

-

মিসর ও তুরস্ক থেকে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং ভারতের রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি। তার মতে, চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ কম উৎপাদন ও ভারত রফতানি বন্ধ করায় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ। সংসদে প্রশ্নোত্তরে গতকাল তিনি পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের আনোয়ার হোসেন খানের (লক্ষ্মীপুর-১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হূমায়ুন লিখিত জবাব পড়ে শোনান এবং সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।
মন্ত্রী বলেন, মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য প্রতিষ্ঠিত আমদানিকারকদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তা ছাড়া ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পাশের দেশ বিশেষ করে ভারত থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যা হওয়ার কারণে সেখানে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারত গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের সর্বনি¤œ রফতানি মূল্য প্রতি টন ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে, যা পূর্বে প্রতি মেট্রিক টন ছিল ২৫০-৩০০ ডলার। সে দেশে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পেঁয়াজের রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে রসুনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। আর গত বছর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন। তার মধ্যে ৩০ শতাংশ সংগ্রহকালীন ও সংরক্ষণকালীন ক্ষতি বাদ দিলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৩১ লাখ মেট্রিক টন, যা চাহিদা মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, পেঁয়াজ-রসুনের দাম ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রতিদিন চারটি করে মোট ২৮টি মনিটরিং টিম ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এ ছাড়া টিসিবির ডিলারদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ঢাকা মহানগরীতে ৩৫টি পয়েন্টে ন্যায্য মূল্যে ট্রাক সেলের মাধ্যমে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik