১৭ নভেম্বর ২০১৯

পঞ্চগড়ে কোচের চাপায় নববিবাহিত স্বামী-স্ত্রীসহ ৭ জন নিহত অন্যান্য স্থানে পিতা-পুত্রসহ নিহত ৫ : আহত ২৬

-

পঞ্চগড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইজিবাইকের চালক ও নববিবাহিত বর-কনেসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, কেরানীগঞ্জ, দিনাজপুর, চট্টগ্রামের পটিয়ায় কলেজছাত্রসহ পাঁচজন নিহত ও অপর ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পঞ্চগড় সংবাদদাতা জানান, পঞ্চগড়ে বাসচাপায় ইজিবাইকের চালকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা দেড়টায় পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের মাগুরমারী চৌরাস্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ভজনপুর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারের সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদের ধাওয়া করে। পঞ্চগড় থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়েন তারা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দুর্ঘটনার পরই স্থানীয়রা প্রায় তিন ঘণ্টা পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বিকেল সাড়ে ৪টায় বিক্ষুব্ধ লোকজন অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার পরই বাসের চালকসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশ বাসটি আটক করেছে।
নিহতরা হলেনÑ তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকার ডাকবদলী গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে লাবু (২৭) এবং তার নববিবাহিত স্ত্রী মুক্তি (১৮), পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের চেকরমারী গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে অটোচালক রফিক (২৮), একই উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের সুরিভিটা বদিনাজোত গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে আকবর আলী (৭০) ও তার স্ত্রী নুরিমা বেগম (৫৭), সাতমেরা ইউনিয়নের রায়পাড়া গ্রামের মফিজউদ্দিনের ছেলে মাকুদ হোসেন (৪৩) এবং একই ইউনিয়নের সাতমেরা ইউনিয়নের সাহেবীজোত গ্রামের আকবর আলীর স্ত্রী নার্গিস (৪০)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দেড়টায় কাজী এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। বাসটি সাতমেরা ইউনিয়নের আমতলা স্থানে পৌঁছলে একটি ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে ভজনপুর থেকে আসা একটি ইজিবাইককে চাপা দেয় এবং বাসের নিচে আটকে থাকা ইজিবাইকটিকে প্রায় এক শ’ গজ দূরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পাঁচজন। আহত দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তারাও মারা যান।
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে কোচ ও লেগুনা মুখোমুখি লেগুনা চালক কলেজছাত্র আরিফ (২০) ঘটনাস্থলেই নিহত এবং আহত হয়েছেন অন্তত আরো ২৫ জন।
পৌরশহরের রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের মহেশপুর নামক স্থানে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরিফের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন সেনাবাহিনীর যানবাহন চালকের চাকরির প্রত্যাশা আর পূরণ হলো না।
জানা যায়, ধাপেরহাট থেকে পলাশবাড়ী উদ্দেশে ছেড়ে আসা লেগুনা এবং ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের ওই স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। লেগুনা চালক আরিফ (২০) সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিঁলকপাড়া গ্রামের সনজু মিয়া ড্রাইভারের একমাত্র ছেলে। সে পলাশবাড়ী আদর্শ ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্র বলে জানা যায়।
খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের এসআই শাহ আলমের নেতৃত্বে একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পলাশবাড়ী, পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রমেক হাসপাতালে ভর্তি করে।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, পটিয়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে বাসের চাপায় সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী রনজিত বড়ুয়া নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া গৈড়ালার টেক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রনিজত বড়–য়া রাঙ্গুনিয়া পৌর এলাকার জতিন্দ্র লাল বড়–য়ার ছেলে। তিনি অনুষ্ঠান শেষ কর সিএনজি অটোরিকশায় চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে কক্সবাজারমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ দিকে বিডিনিউজ জানায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তাদের এক স্বজন। জানা যায় উপজেলার রুহিতপুর এলাকায় গতকাল শুক্রবার বেলা ২টায় ছেলে সোহান (৭) বাবা আসহাদুল হক ইপু (৪০) নিহত হন। ইপু তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মোটরসাইকেলে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রাক তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে তারা তিনজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক বাবা-ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। আহত রেশমা আক্তারকে (৩০) ওই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রেশমা আশঙ্কামুক্ত। পুলিশ ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করলেও ট্রাকের চালক-সহকারীকে ধরতে পারেনি।
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানায়, দিনাজপুুরের নবাবগঞ্জে ট্রাক্টরের ধাক্কায় রুকছানা (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার শওগুন খোলা গ্রামের আজাদ মাঠের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রুকছানা উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের শওগুনখোলা গ্রামের মৃত আউয়ালের মেয়ে।
স্থানীয় প্রতেক্ষদর্শীরা জানান, পাশের মাঠ থেকে জমিচাষ করে রাস্তায় ওঠার সময় চালাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বসে থাকা ওই নারীকে ট্রাক্টরটি ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন তিনি। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে এলে, চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 


আরো সংবাদ