১৮ নভেম্বর ২০১৯

বোমা নয়, লাগেজে পাওয়া গেল মাথাবিহীন যুবকের খণ্ডিত লাশ

-

রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি লাগেজকে ঘিরে চরম কৌতূহল ও আতঙ্ক এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মধ্যে। গুঞ্জন রয়েছে, লাগেজের মধ্যে বোমা রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীও সতর্ক ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর পুলিশ লাগেজটি খুলল। দেখা গেল, বোমা নয়, সেই লাগেজের ভেতর পাওয়া গেল মাথা ও হাত-পাবিহীন যুবকের খণ্ডিত লাশ। টানা ১২ ঘণ্টা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কড়া প্রহরায় থাকার পর সোমবার সকালে ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম ব্রিজের কাছে রেখে যাওয়া লাল ট্রলি লাগেজের ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো যুবকের দ্বি-খণ্ডিত লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে কে বা কারা লাল রঙের ট্রলি লাগেজটি ব্রহ্মপুত্র নদীর ব্রিজের কাছে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। প্রথমে মনে করা হয় যে, কোনো যাত্রী লাগেজটি রেখে গাড়ির অপেক্ষা করছে; কিন্তু না লাগেজটি দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও কেউ নিচ্ছে না। এ নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হলে ট্রাফিক পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে বোমা সন্দেহে লাগেজটির এক পাশে বালির বস্তার বেষ্টনী দিয়ে পাহারা বসায় র্যাব-পুলিশ। খবরটি চাউর হলে সর্বত্রই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে লাগেজে কী আছে জানতে চান। রাতভর সন্দেহ, আতঙ্ক আর গুজবের মধ্যদিয়েই অতিবাহিত হয়।
পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, পাটগুদাম ব্রহ্মপুত্র নদের ব্রিজের কাছে রাস্তার পাশে সারা দিন লাল রঙের একটি ট্রলি লাগেজ পড়ে থাকতে দেখে সন্ধ্যায় ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য থানা পুলিশকে অবহিত করেন। বোমা সন্দেহে রাত আটটা থেকে লাগেজটি ঘিরে রাখে পুলিশ ও র্যাব। খবর দেয়া হয় বোমা ডিসপোজাল টিমকে। সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা এসে ৯টার দিকে লাগেজের চেইন খুলে ভেতরে থাকা পলিথিনে মোড়ানো মাথা ও হাত-পাবিহীন দ্বি-খণ্ডিত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে। অজ্ঞাত যুবকের বয়স হবে আনুমানিক ২৫-৩০ বছর। ধারণা করা হচ্ছে, ঠাণ্ডা মাথায় হত্যার পর খণ্ডিত করে লাশটি লাগেজের ভেতর রেখে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। হত্যাকারীদের ধরার জন্য পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘এটা অ্যাবসুলেটলি ক্রিমিনাল কেস। কাজটা যেই করেছে খুব ঠাণ্ডা মাথায় করেছে। মনে হয়, যথেষ্ট সর্তকতামূলক পন্থা অবলম্বন করেই কাজটা করা হয়েছে। তবে যেই করুক না কেন অপরাধের কিছু আলামত রেখে যায়। লাগেজে ফিঙ্গার প্রিন্ট থাকে। পদ্ধতিগত যেসব বিষয় আছে, তা অনুসরণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ দিকে রোববার রাতেই ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি এবং র্যাবের সিইও লে. কর্নেল ইফতেখার উদ্দিনসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।


আরো সংবাদ