২২ নভেম্বর ২০১৯
কাল সারা দেশে প্রতিবাদ

ভোলার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত : বিএনপি

-

ভোলার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার ঢাকা মহানগরীতে থানায় থানায় এবং সারা দেশে জেলা ও মহানগরীতে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভোলার ঘটনায় পুলিশি ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, আমি ভোলার সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
তিনি ভোলার ঘটনা ‘পূর্বপরিকল্পিত’ অভিহিত করে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই দেশে অনাদিকাল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনুপম নিদর্শন হয়ে আছে। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস। কোনো ধর্ম নিয়ে অনাকাক্সিক্ষত মন্তব্য করা এই দেশের আবহমানকালের ঐতিহ্যে নেই। আমরা মনে করি, ভোলার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। যে কারণে ভোলাকে রক্তে রঞ্জিত করা হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদেরকে থদৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে হবে।
ভোলার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই, জনগণকে যারা অবজ্ঞা করে তাদের পরিণতি শুভ হয় না। গণমানুষের জানমাল নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলবেন না। যথেষ্ট হয়েছে। ভোলার গণহত্যার বিচার করতে হবে। ভোলার ঘটনায় জনগণের দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে।
পুলিশি ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে মোশাররফ বলেন, পুলিশের এমন মারমুখী আচরণ ও নিষ্ঠুরতা ক্ষমার অযোগ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহিতা করতে হয় না বলেই সামান্য কিছুতেই নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা যেন এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এই ভোটারবিহীন সরকারের দুঃশাসনে মানুষের জীবনের মূল্য এখন পশু-পাখির মূল্যের চেয়ে কমে গেছে।
বিদেশে অনেক বড় বড় বিক্ষোভে পুলিশকে একটি বুলেট খরচ না করেও ধৈর্য সহকারে মোকাবেলা করতে দেখেছি আমরা। আর এ দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই অসহিষ্ণু আচরণ করে পুলিশ বাহিনী। ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় প্রতিনিয়ত অস্থির সরকার এবং তাদের রক্ষাকারী বাহিনী। ভোলায় বিক্ষোভ করতে দিলে কি সরকারের পতন হয়ে যেতো?
ভোলার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা (বিক্ষোভকারীরা) একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য জড়ো হয়েছিল। এটি তো কোনো অপরাধ নয়। তারা কোনো ভাঙচুর করেনি, কারো ক্ষতি করেনি। প্রতিবাদ করা কি অন্যায়? তারা কি কোনো দাঙ্গায় লিপ্ত হয়েছিল? যেকোনো ধর্ম সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করে মানুষের বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা নতুন কিছু নয়। এটাই স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, আমরা আশ্চর্যের সাথে লক্ষ করছি, স্থানীয় প্রশাসন সুকৌশলে ভোলার মানুষের প্রতিবাদটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়ার ঘৃণ্য চক্রান্ত চালাচ্ছে। আপনারা ভোলার হত্যাকাণ্ডের পর সরকার ও প্রশাসনের বক্তব্য শুনলে অনুধাবন করতে পারবেন তারা দুঃখ প্রকাশ না করে হত্যাকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গাইছে। আর প্রধানমন্ত্রী তার স্বভাবসুলভ ভাষায় প্রতিবাদকারীদের প্রতি হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ, নুরী আরা সাফা, মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ