১৮ নভেম্বর ২০১৯

চমেক ছাত্র আবিদ হত্যার বিচার নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় পরিবার

-

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের (চমেক) ৫১তম ব্যাচের বিডিএস তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আবিদুর রহমান আবিদ হত্যা মামলায় নি¤œ আদালতে ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। রায় ঘোষণার তিন মাস পর সংবাদ সম্মেলনে এসে আবিদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। উচ্চ আদালতে যাতে ন্যায়বিচার পান সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আট বছর আগে খুন হওয়া আবিদের পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, মামলার সব আসামি খালাস পাওয়ায় তারা সংক্ষুব্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত আবিদের ভাই জিল্লুর রহমান বলেন, আবিদকে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা কয়েক ঘণ্টা হকিস্টিক, লাঠি, স্ট্যাম্প ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। ছাত্র সংসদ নামের টর্চার সেলে নিয়ে আবিদকে তিন-চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করা হয়। চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবিদ মারা যায়।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু হলে চমেক ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ ও বুয়েট প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু আবিদ হত্যার পর চমেক প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। খুনিদের প্ররোচনায় এবং কলেজ প্রশাসনের ইন্ধনে ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেয়া চার্জশিটে আসামিদের মধ্যে ১০ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তাদের অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করে পুলিশ।
চার্জশিট দেয়ার সময় মামলার বাদিকে কিছুই জানানো হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদি নারাজি না দেয়ায় ১২ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে মামলার বাদিকে (আমার মামা) আদালত প্রাঙ্গণ থেকে অপহরণের চেষ্টা হয়। এরপর থেকে তিনি আর আদালতে যাননি। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আবিদের মা সৈয়দুন্নেসা, মনসুরুল আহমেদ, বোন মোরশেদা ইয়াসমিন, সাজেদা ইয়াসমিন, শাহেদা ইয়াসমিন ও ভগ্নিপতি সোহেল প্রমুখ।


আরো সংবাদ