১৪ নভেম্বর ২০১৯
দেশে উন্নয়নের জুয়াতন্ত্র ও সন্ত্রাসতন্ত্র চলছে : রব

স্বৈরশাসকরা জনগণকে বিভক্ত করে ক্ষমতায় থাকতে চায় : ড. কামাল

মুক্তিজোটের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ড. কামাল হোসেন হনয়া দিগন্ত -

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ক্ষমতায় থাকতে স্বৈরশাসকদের মূল চেষ্টা থাকে সাম্প্রদায়িকতা ও সঙ্কীর্ণ দলীয় মানসিকতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করা। তারা জনগণকে বিভক্ত করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তবে অতীতে এ ধরনের শাসকেরা এসব করে ক্ষমতায় থাকতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। সাময়িকভাবে ক্ষমতায় থাকলেও জনগণের ঐক্যের কারণে তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে দেয়, জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যের ডাক জেলা, গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় নিয়ে যেতে হবে আপনাদের। ক্ষমতার মালিক হিসেবে জনগণ যেন নিজের ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য ঐক্যকে সুসংহত করতে হবে।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ‘নির্বাচনকেন্দ্রিক সঙ্কট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে মুক্তিজোট। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া ও জেএসডি সহ-সভাপতি তানিয়া রব। মুক্তিজোটের জাতীয় সমন্বয়ক এ আর শিকদারের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিজোটের প্রধান সংগঠক আবু লায়েস মুন্না, স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান মো: সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
ড. কামাল হোসেন বলেন, যখনই আমাদের কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঐক্যের প্রয়োজন হয়, তখনই অসাধারণ সাড়া পড়ে। দেশের মূল লক্ষ্য সামনে রেখে যখনই আমরা ঐক্য গড়ার চেষ্টা করি, তখনই কালো টাকা দিয়ে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে সামনে আনা হয়। কিন্তু জনগণ এগুলো প্রশ্রয় দেয় না বলে সরকার সফল হয় না। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রাষ্ট্রকে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আমাদের অর্থনীতি আরো গতিশীল করে, গণতন্ত্রকে ভালোভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার যে পদক্ষেপগুলো রয়েছে, সেগুলো আমরা অবশ্যই নেবো।
আ স ম আবদুর রব বলেন, অঘোষিতভাবে দেশে এখন কোনো সংবিধান নেই। ক্ষমতাসীনরা যেমন ইচ্ছে সেভাবে দেশ পরিচালনা করছে। স্বৈরশাসকদের দেশ পরিচালনায় কিছু নিয়ম থাকে, কিন্তু এখন দেশে এক ব্যক্তির শাসন চলছে। মশা মারা থেকে শুরু করে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ধরতে তার নির্দেশ লাগে। তার হুকুম ছাড়া কিছুই হয় না। দেশে উন্নয়নের জুয়াতন্ত্র (ক্যাসিনো), উন্নয়নের সন্ত্রাসতন্ত্র (আবরার হত্যা) চলছে অভিযোগ করে রব বলেন, দেশটা জাহান্নাম বানিয়েছে তারা। এখন বলা হচ্ছে ছাত্ররাজনীতির কারণে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, দেশবিরোধী চুক্তির বিরোধিতা করার জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে। আসাদ হত্যার কারণে আইয়ুব খানকে এ দেশ থেকে চলে যেতে হয়েছে উল্লেখ করে রব বলেন, আবরার হত্যার কারণে আপনাদের ক্ষমতা থেকে চলে যেতে হবে। সেটার বেশি দেরি নেই।


আরো সংবাদ