২২ নভেম্বর ২০১৯
চাকরির নামে প্রতারণা : বেকার যুবকরা টার্গেট

উত্তরা থেকে ৮ প্রতারক গ্রেফতার

সচিবালয়ের ভেতরে মৌখিক পরীক্ষা, ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান
-

চাকরির নামে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে প্রতারকচক্রের আট সদস্যকে গ্রফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতাররা হলোÑ গিয়াসউদ্দিন পিন্টু ওরফে আকাশ (৩৭), হাসান গাজী (৩১), বিল্লাল শেখ (৩০), শেখ শের আলী রাজু (৩০), গণেশ প্রসাদ সাধন (৪১), সোহাগ (৩১), আজাদুল ইসলাম (১৯) ও রশি আক্তার (২১)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত র্যাব-৪ এর একটি দল উত্তরায় সেক্টর-৪ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। বেকার যুবকদের টার্গেট করে সচিবালসহ বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা নিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদানের নামে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে।
র্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, গ্রেফতারদের কাছ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আওতাধীন শূন্যপদে অফিস সহকারী পদে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ভুয়া নিয়োগপত্র, এপি ফাউন্ডেশনের মানি রিসিপ্ট, গোল্ডেন লাইন মেডিক্যাল সেন্টারের সিলযুক্ত খালি মেডিক্যাল চেকআপ ফরম, এপি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের বাঁধাই করা প্রজেক্ট প্রাফাইল, এপি ফাউন্ডেশনের টাইপকৃত প্যাডে চেয়ারম্যান; পুলিশ সুপার; জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রদত্ত চিঠির কপি, এপি ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামযুক্ত পদবির সিল এবং কম্পিউটারের সিপিইউ ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
র্যাব জানায়, চক্রটি তিনটি ধাপে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। প্রথম ধাপে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের টার্গেট করে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেয়। পরে রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া করা জাঁকজমকপূর্ণ অফিসে নিয়ে তাদের কাছে নিজেদেরকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে ধরে। দ্বিতীয় ধাপে চাকরিপ্রত্যাশীদের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন ভুয়া কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে। তারা যাবতীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে বিভিন্ন প্রকার শর্ত আরোপ করে এবং চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের টাকার মৌখিক/লিখিত চুক্তি করে। এরপর সংশ্লিষ্ট চাকরিপ্রার্থীকে সচিবালয়ের ভেতরে নিয়ে মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এভাবে তৃতীয় ধাপে চাকরিপ্রত্যাশীদের মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে চুক্তির টাকা পরিশোধ করতে বলে। প্রতারকরা চাকরিপ্রার্থীদের হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়, স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য সেবিকা, তাদের অফিসের আঞ্চলিক ম্যানাজার এবং বিভিন্ন ধরনের চুক্তিভিত্তিক, অস্থায়ী ভিক্তিক, মাস্টার রোলে ভুয়া নিয়োগ দিয়ে দু-এক মাসের বেতন প্রদান করে। পরে চাকরিপ্রার্থীরা জানতে পারেন তাদের নিয়োগপত্র এবং চাকরি সবকিছুই ভুয়া এবং তারা প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন।
র্যাব আরো জানায়, প্রতারকচক্রটি এপি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের নকল লগো ব্যবহার করে এপি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের অধীনে এপি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট, এপি ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রিকালচার, এপি ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট, এপি সিকিউরিটি ফোর্স অ্যান্ড ক্লিনার সার্ভিস, এপি ফাউন্ডেশন, এপি ফ্যাশন নামক বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরায় প্রতারণা কাজে ব্যবহারের জন্য তাদের দু’টি অফিস এবং জামালপুরে লোক দেখানো ভুয়া ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। প্রতারকচক্রটি তিন-চার বছর ধরে কাজ করছে এবং প্রতারণার মাধ্যমে দুই থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বারের কাছে বিভিন্ন চিঠি প্রদান করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়।

 


আরো সংবাদ