২০ অক্টোবর ২০১৯

দেশের আড়াই কোটি মানুষ আক্রান্ত বিশ্বে ৪০ সেকেন্ডে একজনের আত্মহত্যা

আজ মানসিক স্বাস্থ্য দিবস
-

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বাংলাদেশে ১৬ দশমিক ১০ শতাংশ পরিণত বয়সের নারী-পুরুষ মানসিক রোগে ভুগছে। এ হিসেবে দুই কোটি ৫৬ লাখ মানুষ মানসিক রোগী। এরা নিউরো সাইকিয়াট্রিক ডিজঅর্ডারে ভুগছে। মানসিক রোগীদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেশি থাকে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশে গড়ে দৈনিক ২৮ জন আত্মহত্যা করে। এদের বেশির ভাগ ২১ থেকে ৩০ বছরের নারী। এছাড়া বাংলাদেশে ৬৫ লাখ মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে আছে। বিশ্বব্যাপী প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন করে আত্মহত্যা করে।
বাংলাদেশে আড়াই কোটির বেশি মানসিক সমস্যা আক্রান্ত রোগী থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের মাথাপিছু বরাদ্দ এক টাকারও কম। এ বরাদ্দের মধ্যেই চিকিৎসা ও অন্যান্য কিছুর ব্যবস্থা করতে হয়। এ অবস্থাকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশে পালিত হবে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে, ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে একসঙ্গে প্রচেষ্টা’।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আইসিডিডিআরবি বলছে, বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা মারাত্মক। কিন্তু ব্যক্তিগত, পারিবারিক অথবা সরকারিভাবে এ সমস্যাটিকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। চিকিৎসকরা বলছেন, পারিবারিক ও সামাজিক কারণে ৫০ থেকে ৫৯ বছরের বিধবা মহিলাদের মধ্যে মানসিক সমস্যা বেশি দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট মানসিক রোগীর মধ্যে বয়স্কদের হার ১৬ দশমিক ১০ শতাংশ এবং অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সীদের হার ১৮ দশমিক শূন্য চার শতাংশ।
মানসিক রোগীর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে ঢাকা ও পাবনার দুটি হাসপাতালে ৭৯০টি বেড রয়েছে। পাবনার মানসিক হাসপাতালে ৪০০ এবং ঢাকার জাতীয় মানসিক হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বেড সংখ্যা ৩৯০। অন্য দিকে মাদকাসক্তির চিকিৎসা করা হয় এমন বেসরকারি মানসিক ক্লিনিক রয়েছে ৪০০-এর কাছাকাছি। তবে এসব ক্লিনিকের চিকিৎসা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। মানসিক রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২৫০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ৮৫ জন ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট রয়েছেন।
সামাজিকভাবে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেয়ার জন্য ঢাকা মানসিক হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট গত দুই যুগে চার হাজার সাধারণ চিকিৎসককে প্রশিক্ষিত করেছে। এর বাইরে দেশব্যাপী ৫০ জন সিভিল সার্জন, পাঁচ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী, ২০০ ইমামকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
জাতীয় মানসিক হাসপাতালে দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসাও খুব সহজ নয়। এখানে ভর্তি হলে ১০ দিনের টাকা পরিশোধ করে ভর্তি হয়। পেয়িং বেডের জন্য দৈনিক ভাড়া ২২৫ টাকা। ১০ দিনের জন্য দুই হাজার ২৫০ টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়া দরিদ্র পরিবারের জন্য সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে চিকিৎসাও হয় না অনেকের।
মানসিক রোগীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি থাকে। বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন, দাম্পত্য কলহ ও সম্পর্কের জটিলতার কারণে। উত্যক্তকরণ ও প্ররোচিত করার কারণেও আত্মহত্যা হয়ে থাকে বাংলাদেশে। এছাড়া অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণ এবং এ কারণে লোক লজ্জার ভয়েও আত্মহত্যা ঘটে থাকে। এর বাইরে রয়েছে প্রেম ও পরীক্ষায় ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং আত্মহত্যার উপকরণের সহজলভ্যতা। কিছু শারীরিক অসুস্থতার কারণেও আত্মহত্যা হয়ে থাকে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এগুলো হলোÑ বিষণœতা, ব্যক্তিত্বের বিকার, সিজোফ্রেনিয়া। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যাকে বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কেউ আত্মহত্যা করতে চায় এমন প্রমাণ হলে দণ্ডবিধির ৩০৯ নম্বর ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। আইনটি সম্বন্ধে আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে এরা তো নয়ই, যারা আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার কাজটি করেন তাদেরও অনেকেই জানেন না।

 


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik