২০ অক্টোবর ২০১৯

সম্রাট অসুস্থ : রিমান্ড শুনানি হয়নি

-

কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি (সদ্য বহিষ্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।
গতকাল বুধবার বেলা দেড়টার দিকে সম্রাটের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ডা: মহসিন আহমেদ বলেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে সবগুলো রিপোর্টই ভালো এসেছে। তিনি বলেন, সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা মিলিয়ে বর্তমানে তিনি ভালো আছেন। তবে গত মঙ্গলবার রাতে তার হৃদস্পন্দন অনিয়মিত ছিল। তাই তাকে আরো ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ার প্রয়োজন আছে কি না জানতে চাইলে ডা: মহসিন বলেন, তার কোনো ঝুঁকি নেই এবং তাকে বিদেশে নেয়ারও প্রয়োজন নেই।
র্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর সম্রাটকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। তাকে রোববার রাতে কেরানীগঞ্জে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার সকালে সম্রাটের হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানের চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
এ দিকে যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট অসুস্থ থাকার কারণে হাজির হতে না পারায় গতকাল আদালতে তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে তার সহযোগী আরমানের বিরুদ্ধে রমনা থানার মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, সম্রাটের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ১০ দিন ও অস্ত্র মামলায় রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন বিচারক। গতকাল বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরাফুজ্জামান আনছারী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রত্যেক মামলায় উভয়ের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে র্যাব। এরপর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন আরা সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনসহ রিমান্ড শুনানির জন্য গতকাল দিন ধার্য করেন।
গ্রেফতারের পর র্যাব সম্রাটের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ও অস্ত্র আইনে রমনা থানায় দু’টি মামলা দায়ের করে। মাদক আইনে দায়ের করা মামলাটিতে সম্রাট ছাড়াও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা আরমানকেও আসামি করা হয়েছে।
উভয় মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল ও পল্টনসহ রাজধানীতে ১০টি ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা ছিল। সবার কাছে সম্রাট ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দলীয় পদের অপব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতেন। কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করত সম্রাটের কর্মীরা। সম্রাটের কার্যালয় থেকে র্যাব অবৈধ অস্ত্র, মাদকসহ ইলেকট্রিক শকড মেশিন উদ্ধার করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik