২০ অক্টোবর ২০১৯
ডিকাব টকে মিয়া সিপ্পো

বাংলাদেশে মতপ্রকাশের সুযোগ সঙ্কুচিত হওয়ায় উদ্বিগ্ন জাতিসঙ্ঘ

ডিকাবের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন জাতিসঙ্ঘের আবাসিক কো-অর্ডিনেটর মিয়া সিপ্পো : নয়া দিগন্ত -

বাংলাদেশে জনস্বার্থে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের মতপ্রকাশের সুযোগ সঙ্কুচিত হওয়ায় উদ্বিগ্ন জাতিসঙ্ঘ। মতপ্রকাশ ও সমাবেশ করার স্বাধীনতা ক্ষুণœ না করার জন্য আন্তর্জাতিক ফোরাম থেকে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। জনসমক্ষে বা ব্যক্তিগতভাবে কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করলে বা দায়িত্ব পালনের জন্য মানবাধিকার কর্মীদের দমন-পীড়নের শিকার হওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতি (ডিকাব) আয়োজিত সংলাপে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সিপ্পো এ মন্তব্য করেন। গতকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস মিলনায়তনে ‘ডিকাব টক’ নামে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিকাব সভাপতি রাহীদ এজাজ।
বাংলাদেশকে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ও বৈদেশিক অনুদান আইন এবং তার বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সংস্থার চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগপ্রক্রিয়া সংশোধন করা প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা সঙ্কটকে চলমান সময়ের ট্র্যাজেডি হিসেবে আখ্যায়িত করে মিয়া সিপ্পো বলেন, এই সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালন করেছে। এখন বিশ্বকে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। এই সঙ্কটের শেকড় মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানে রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের দুই পাশেই জাতিসঙ্ঘ কাজ করছে। রাখাইনের পরিস্থিতি উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের সম্ভব সব কিছু করা প্রয়োজন।
জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে রাজি করাতে না পারার ব্যর্থতাটা আমাদের সবার। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার সঙ্কট রয়েছে। এই সঙ্কট দূর করতে কফি আনান কমিশনের দেয়া সুপারিশগুলোর আলোকে মিয়ানমারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছেÑ এমন ধারণার বিরোধিতা করে মিয়া সিপ্পো বলেন, আমাদের হাতে থাকা তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার হার স্থানীয় অধিবাসী, এমনকি ইউরোপ-আমেরিকায় আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের তুলনায় কম। তাই ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো সম্প্রদায় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা থেকে।
শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় আনা বৈদেশিক সহায়তার কতটা রোহিঙ্গাদের জন্য, আর কতটা জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো পরিসংখ্যান আমাদের হাতে নেই। তবে আমরা সহায়তার অর্থ শরণার্থীদের জন্য কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করি।
ঢাকায় নিজের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ডেঙ্গু অনেক দেশের জন্যই সমস্যা। বাংলাদেশে ডেঙ্গু এবার মহামারীর রূপ নেয়নি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সঙ্কট মোকাবেলার জন্য বিশেষ করে শহরাঞ্চলের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

 


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik