২০ অক্টোবর ২০১৯

ভিন্ন মত ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ হতে পারে না : তথ্যমন্ত্রী

-

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশে অবশ্যই ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন মত ছাড়া একটি গণতান্ত্রিক সমাজ হতে পারে না। ভিন্ন মত থাকবে, সমালোচনাও থাকবে। সমালোচনার জবাব সমালোচনার মাধ্যমে হয়। ভিন্ন মতের জবাব নিজের মত প্রকাশের মাধ্যমে হয়। ভিন্ন মতের জবাব কোনোভাবেই আক্রমণ করে হতে পারে না। এটি আমাদের সরকার সমর্থন করে না, আমাদের দলও সমর্থন করে না।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে ফেডারেশন অব টিভি প্রফেশনালস অর্গানাইজেশনস-এফটিপিওর নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা প্রথম থেকেই এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কেউ দাবি তোলার আগেই এর সাথে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা এ ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হবে, তারা যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় এ জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রাথমিকভাবে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, ইতোমধ্যেই তাদের সবাইকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে তাদের গ্রেফতারও করা হয়েছে।
হাছান মাহমুদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সঠিক তথ্য প্রচার করবে এবং এই ঘটনার নিন্দাও হবে, নিন্দা হওয়া উচিত। কিন্তু এই ঘটনাকে পুঁজি করে অপপ্রচার করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। অতীতেও যারা এভাবে অপপ্রচার করেছে, এ ধরনের কিছু ছড়িয়েছে সেটির বিরুদ্ধে কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও কেউ যদি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় সে চেষ্টা সফল হবে না।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানির ডিটিএইচ অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়। বিদেশী কোনো ডিটিএইচ কোম্পানিকে এখানে ডিটিএইচ যন্ত্র বসিয়ে সম্প্রচারের অনুমোদন দেয়া হয়নি। সুতরাং বিদেশী যে সমস্ত ডিটিএইচ যারা ব্যবহার করছেন বা যাদের মাধ্যমে ব্যবহার করছেন, পুরোটাই অবৈধ। বাংলাদেশে কয়েক লাখ বিদেশী ডিটিএইচ সিস্টেম বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, শুধু শহরে নয় গ্রামেও লাগানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটা বিদেশ থেকে কেনা হয়, বাংলাদেশের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে যায়। এগুলো যারা ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে এক বছরের টাকা নিয়ে নেয়া হয়। কোম্পানি তো বিদেশী, মাসে মাসে নেয়া কঠিন, এ জন্য এক বছরের টাকা নিয়ে সেগুলো আবার হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়। এভাবে দেশের ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার বেশি বিদেশে পাচার হয়। এটি চলতে দেয়া যায় না, এটি সমীচীন নয়।
মন্ত্রী বলেন, আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। সমস্ত অবৈধ বিদেশী ডিটিএইচ যন্ত্র ব্যবহার এর মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে। এরপর আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব। ক্যাবল নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলার জন্য যেভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে, একইভাবে ১৫ ডিসেম্বরের পরে অবৈধ বিদেশী ডিটিএইচ কেউ যদি ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik