২০ অক্টোবর ২০১৯

বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন গোটা দেশটাই এখন টর্চার সেল : রিজভী

-

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হলের কক্ষে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় খুনিদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বিএনপি বলেছে, আবরার খুনের দায় সরকারও এড়াতে পারে না। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গোটা দেশকে এখন একটি টর্চার সেলে পরিণত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো এখন কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্প। ছাত্র-যুবকসহ সর্বস্তরের জনতা এখন তাদের টর্চার সেলের নির্মম শিকার। রিজভী বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের নির্মম মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ক্ষমতাসীনদের খুনের সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চার একটি অংশ মাত্র। তাই বাংলাদেশের পক্ষের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এসেছে। এই অন্ধকারের সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বিকল্প নেই। একজন মাত্র ব্যক্তির ক্ষমতার লিপ্সা, লোভ লাভের কারণে আজ দেশের জনগণই যেন নিজ দেশে পরাধীন। এই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে আমাদের জেগে উঠতে হবে। এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করে দেশের জনগণের অধিকার ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুনিশ্চিত করতে হবে। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
রিজভী বলেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদের বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর যখন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সেøাগানে উত্তাল তখন সরকার ছাত্রদেরকে নিরস্ত্র করার জন্য নানা ছলছাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রীরা নানা রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। আবরারকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। মূলত দেশের মাটি, পানি, আকাশের স্বার্থে স্ট্যাটাস দেয়ায় বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার স্ট্যাটাসের পেছনের কারণই ছিল দেশবিরোধী চুক্তির বিরোধিতা ও সত্য ইতিহাস তুলে ধরা। দেশবিরোধী চুক্তিটি করেছেন বর্তমান মিডনাইট ভোটের সরকার জনগণের সাথে দিনে-দুপুরে প্রতারণা করে। সুতরাং আবরার খুনের দায় সরকারও এড়াতে পারে না। দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল ছাড়া আবরারের আত্মা শান্তি পাবে না। শহীদ আবরারের মা বলেছেন, ‘আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করো না। এই লাশ আমি বহন করতে পারব না। আমি চাই আমার ছেলেকে জীবিত ফিরিয়ে দাও। আমি কার কাছে বিচার চাইব?’
তিনি বলেন, বাস্তবে খুনি ও স্বৈরাচারের কাছে বিচার চাওয়ার সময় এখন নয়। এখন সময় এসেছে স্বৈরাচারের বিচারের। যারা নিজেদের ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য একের পর এক দেশবিরোধী চুক্তি করে দেশের সব কিছু অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে তাদের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগ কিংবা শেখ হাসিনা নিজেদের সমালোচনা কিছুটা সহ্য করতে পারলেও ভারত নিয়ে কোনো সমালোচনা হলেই তারা সেটা সহ্য করতে পারে না। ন্যায্য হিস্যার কথা বললেও তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। সুতরাং আবরার ফাহাদ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর কাছে অপরাধী, কারণ সে আওয়ামী লীগের বন্ধুরাষ্ট্রের বাংলাদেশের প্রতি আচরণের সত্য ইতিহাস তুলে ধরেছিল। এ জন্য তাকে জীবন দিতে হলো।
রিজভী বলেন, যার রুমে যার উপস্থিতিতে আবরারকে হত্যা করা হয় সেই অমিত সাহার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এজাহারে তার নাম নেই, তাকে বহিষ্কারও করেনি ছাত্রলীগ। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুম তথা টর্চার সেলটি অমিত সাহার। তাকে বাঁচাতে বুয়েট প্রশাসন ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছেÑ ‘আবরারকে মারার সময় অমিত সাহা সেখানে উপস্থিত ছিল এবং সে আবরার হত্যায় অংশ নেয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অন্যরা লাশ নিয়ে গেলেও অমিত সাহা তার রুমেই ছিল।’ তিনি বলেন, আবরারের ওপর অকথ্য নির্যাতনের খবর পেয়েও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাকে বাঁচানোর জন্য এখন নানা রকম অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে একটি গোষ্ঠী। আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবির সাথে আমরাও অবিলম্বে অমিত সাহাকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে ছাত্রদের প্রতিটি দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি।
গ্যাস রফতানি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির এই নেতা বলেন, কি হাস্যকর যুক্তি! এই মন্ত্রীকে বলতে চাইÑ বিদেশ থেকে গ্যাস এনে আমাদের প্রক্রিয়া করে ভারতে রফতানি করতে হবে কেন? ভারত নিজে কি প্রক্রিয়া করতে জানে না? আপনি যেখান থেকে গ্যাস আনবেন সেখান থেকে ভারত নিজেই তো গ্যাস নিতে পারে, আপনাকে কেন দিতে বলবে? প্রধানমন্ত্রীকে বলবÑ জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাশ হতে হলো আবরারকে। চুক্তি বাতিল করে প্রমাণ দিনÑ আপনি আবরারের পক্ষে, ভারতের আবদারের পক্ষে নন।
রিজভী আরো বলেন, সরকার গোটা দেশকে টর্চার সেলে পরিণত করেছে। যুবলীগের ইসমাইল হোসেন সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার অফিসে পাওয়া গেছে টর্চার সেল। বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহার ২০১১ নাম্বার কক্ষটিও একটি টর্চার সেল। এক দিকে চলছে গুম খুন অপহরণ আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অপর দিকে সারা দেশে রয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের টর্চার সেল। এই টর্চার সেলগুলোই ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাতের গর্ভে জন্ম নেয়া বর্তমান সরকারের শক্তির উৎস। ঠাণ্ডা মাথায় টর্চার সেলে নিয়ে ভিন্ন দল মতের মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা এখন ছাত্রলীগ-যুবলীগ তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত করেছে।


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik