১৬ অক্টোবর ২০১৯

মা হলেন নুসরাতের সহপাঠী মনি

-

ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও নুসরাতের সহপাঠী কারাবন্দী কামরুন্নাহার মনি সন্তানের মা হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মা ও মেয়ে সুস্থ আছেন।
নুসরাত হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলেন কামরুন্নাহার মনি। গত ২১ এপ্রিল ১৬৪ ধারায় ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে মনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।
জবানবন্দীতে মনি জানান, গত ৬ এপ্রিল পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান নিয়েই নুসরাত কিলিং মিশনে অংশ নেন তিনি। নুসরাতের শরীর চেপে ধরে তার গায়ে কেরোসিন ঢালতে এবং আগুন দিতে সাহায্য করা ছাড়াও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরকার ব্যবস্থাও করেন তিনি। নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় পরীক্ষা দিয়েছিলেন কামরুন্নাহার মনি। পরদিন ২২ এপ্রিল ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন মামলার অন্যতম আসামি জোবায়ের। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে তিনি বলেন, রাফিকে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় পপি। সেখানে আগে থেকেই আমি (জোবায়ের) অপেক্ষা করছিলাম। আমার সাথে ছিলেন মনি, শাহাদাত ও জাবেদ। রাফি ছাদে এলে আমরা তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দিই। এতে নুসরাত রাজি না হলে তার হাত-পা বেঁধে ছাদে শুইয়ে ফেলি। এরপর রাফির পা চেপে ধরেন পপি, মুখ চেপে ধরেন শাহাদাত, মনি বুক চেপে ধরেন, জাবেদ কেরোসিন ঢালেন এবং আমি (জোবায়ের) দিয়াশলাই দিয়ে গায়ে আগুন ধরাই।
প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে যান। পরীক্ষা শুরুর আগে তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।

 


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum