২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আশুরা উপলক্ষে বিএনপির দোয়া মাহফিল জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের প্রতীক রিজভী

-

‘জিয়াউর রহমান অবৈধ রাষ্ট্রপতি ছিলেন’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে জিয়াউর রহমান অবৈধ রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। কারণ ডাকাতরা যখন কারো বাড়িতে ডাকাতি করে তারা কি বলে যে আমরা অবৈধ কাজ করছি? কিন্তু যার বাড়ি ডাকাতি হয় সে বুঝতে পারে কী হয়েছে? সত্যিকারার্থে জিয়াউর রহমান হলেন গণতন্ত্রের প্রতীক। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও কথা বলার স্বাধীনতা মানেই জিয়াউর রহমান। শান্তিতে ঘুমানো মানেই জিয়াউর রহমান। আইনের শাসন মানেই জিয়াউর রহমান। গত মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় পবিত্র আশুরা উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। বিএনপি আয়োজিত এ অনুষ্ঠান পরিচলনা করে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল। সংগঠনের আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হকের সভাপতিত্বে সদস্যসচিব মাওলানা নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান, ওলামা দলের কেন্দ্রীয় নেতা শাহ মো: মাসুম বিল্লাহসহ ওলামা দল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ মিথ্যাচারের কোম্পানি। এই কোম্পানির বিজ্ঞাপন ম্যানেজার হচ্ছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর সরকারি বিজ্ঞাপন ম্যানেজার হচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, এই মিথ্যাচার কোম্পানির চেয়ারম্যান স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তিনি কী বলেন, আর না বলেন, আজকে দোয়া অনুষ্ঠানে সেটি আর কী বলব?
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি কিসের গর্ব করেন? আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ হচ্ছে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানো আর কুৎসা রটানো। আপনি আজকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, এটা তো জিয়াউর রহমানের দান। আপনি তো এ পদে থাকতে পারতেন না, যদি সেদিন শহীদ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির পদে থেকে আপনাকে সুযোগ করে না দিতেন। দেশের মালিক জনগণ তারা বুঝতে পারছে। তাদের ভোটাধিকার, চলাফেরার স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাÑ সেটা কি হরণ করেনি আওয়ামী লীগের এই ডাকাত সরকার? তিনি তো অস্বীকার করবেন, কারণ তিনি নিজেই তো ডাকাতি করছেন। যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করছেন, তারা কি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলবেন? কারণ জিয়াউর রহমানকে স্বীকৃতি দিলে তারা যে হত্যাকারী, সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। বাকশাল গঠনের মাধ্যমে সংবাদপত্র হরণ করেছিল কে? রাজনৈতিক দলগুলোকে কথা বলার স্বাধীনতা বন্ধ করে দিয়েছিল কে? সব কিছুর জন্য কে দায়ী? এমন প্রশ্নও রাখেন রিজভী। আশুরা প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, হজরত মুহাম্মদ সা:-এর নাতিদ্বয় ইমাম হাসান ও হোসেন আমাদের উদারতা এবং ত্যাগের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। কারবালার প্রাঙ্গণে তাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত বেদনাদায়ক।


আরো সংবাদ