২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

‘রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নদীগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে’

-

দেশের পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেছেন, দখল এবং দূষণ অব্যাহত রেখে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না করেই চলমান উদ্ধার তৎপরতা নদীগুলো ও দেশের জন্য মারাত্মক অকল্যাণ বয়ে আনবে। প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নদীগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। এর সাথে জড়িত সবার শাস্তির দাবি জানান তারা।
বাংলাদেশের নদীরক্ষায় নিবেদিত সামাজিক সংগঠনগুলোর জোট ‘বিশ^ নদী দিবস উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (সাগর-রুনি মিলনায়তন) সেগুনবাগিচা, ঢাকায় ‘বিশ^ নদী দিবস ২০১৯ এর জাতীয় প্রতিপাদ্য ঘোষণা ও অনুষ্ঠান প্রস্তুতি বিষয়ে’ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ^ নদী দিবস উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের আহ্বায়ক ডা: মো: আব্দুল মতিনের সভাপতিত্ব এবং পরিষদের সদস্য সচিব শেখ রোকনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ^াস, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল, স্ট্যামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখ। এ ছাড়াও আয়োজক সংগঠনগুলোর অন্যান্য প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট গবেষক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
ডা: মো: আব্দুল মতিন তার লিখিত বক্তব্যে জানান এবারের নদীরক্ষা দিবসের মূল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নদীর জন্য পদযাত্রা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় পুরাতন ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে প্রথমে জমায়েত হয়ে বক্তব্য প্রদান, ঘোষণা পাঠ এবং প্রধান অতিথির ভাষণ প্রচার হবে। এরপর বেলা ১১টায় পদযাত্রা শুরু করে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে সদরঘাট টার্মিনালে গিয়ে পদযাত্রা শেষ হবে। দুপুর ১২টায় টার্মিনালে সংক্ষিপ্ত জমায়েত ও বক্তব্য। দুপুর সাড়ে ১২টায় সমাপ্তি ঘোষণা।
এ দিকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ নদীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নদীগুলোকেও রক্ষায় কাজ করতে হবে। প্রতি বছর গড়ে ১টি নদী ও ১৫টি খাল বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, যা সারা বিশে^র জন্যই হুমকিস্বরূপ।
মিহির বিশ^াস বলেন, রাজনৈতিক কারণে দেশের নদীগুলো দিন দিন ধ্বংস হচ্ছে নদী উদ্ধার করাই শেষ কাজ নয়, নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা প্রবাহমান নদী চাই।
শরীফ জামিল বলেন, দেশের চলমান নদী উদ্ধার তৎপরতায় কোনো কোনাে ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ়তা জাতির মনে আশার সঞ্চার করেছে। কিন্তু এই উদ্ধার তৎপরতা নদীর সীমানা যথাযথভাবে চিহ্নিত না করে চালানোর কারণে এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ উদ্যোগ। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড় বড় দখলদার চিরস্থায়ী বৈধতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
শেখ রোকন বলেন, নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সাধারণত জনগণকে অনেক হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও নদী রক্ষায় কাজ করতে হবে। ফৌজদারি আইন সংশোধন করতে হবে। যেন দখলদাররা নদী কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ভয়ভীতি দেখানোর মতো দুঃসাহস না পায়।


আরো সংবাদ