২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সিআইএসভুক্ত দেশে রফতানি বাড়বে বাণিজ্যমন্ত্রী

-

কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটসভুক্ত (সিআইএস) দেশগুলোর সাথে বাধা দূর হলে রফতানি কয়েকগুণ বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ তৈরী পোশাক রফতানিতে পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। বিশ্ববাজারে দিনদিন তৈরী পোশাক রফতানি বাড়ছে। বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছে। দেশে একের পর এক গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। বাংলাদেশ উজবেকিস্তানসহ সিআইএসভুক্ত দেশ-আজারবাইজান, বেলারুশ, কাজাখাস্তান, কিরগিজিস্তান, আর্মেনিয়ায়, মলদোভা, রাশিয়া এবং তাজিকিস্তানে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে গত মঙ্গলবার দেশটির টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত উজবেকিস্তান টেক্সটাইল কনফারেন্স ও পাঁচ দিনব্যাপী গ্লোবাল টেক্সটাইল ডে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন।
আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপনায় তৈরী পোশাক খাতের বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতির হাল নাগাদ চিত্র তুলে ধরা হয় এবং বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে প্রত্যাশা মোতাবেক পণ্য উজবেকিস্তানে পণ্য রফতানি হচ্ছে না। জটিলতা নিরসনে উজবেকিস্তানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ। সিআইএসভুক্ত দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে গত মে মাসে ইউরেশিয়ান ইকনোমিক কমিশনের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
তিনি বলেন, উজবেকিস্তান বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্থপিত স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক দেশ বাংলাদেশের স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিনিয়োগ শুরু করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে।
উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য বাড়ানোর কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে তৈরী পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালস ইত্যাদি আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য এবং উজবেকিস্তান সরকারের বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং কৃষিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তানের চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ফোরামের রাউন্ড টেবিল বৈঠকে যোগ দেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের তৈরী পোশাক ছাড়াও পর্যটন, যৌথ বিনিয়োগ, ঢাকা-তাসখন্দ সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং বাংলাদেশের স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তান সরকার ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।


আরো সংবাদ