২১ অক্টোবর ২০১৯

জুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় কারবালার শিক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : ডা: শফিক

আশুরার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত -

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, পবিত্র আশুরা-মানব ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের সাক্ষী। বিশেষভাবে আশুরার দিনের ‘শহীদে কারবালার ঘটনা মুসলিম উম্মাহকে এক বিয়োগান্তক ও শোকাবহ ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক ৬১ হিজরির ১০ মহররমের এই দিনে ইরাকের কুফা নগরীর অদূরে কারবালা প্রান্তরে রাসূল সা:-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন বিন আলী (রা:) ইয়াজিদ বাহিনী কর্তৃক পরিবার-পরিজন ও ৭২ জন সঙ্গীসহ নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য এমন আত্মোৎসর্গের ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন। তিনি পবিত্র কারবালার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্যায়, অবিচার ও জুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
রাজধানীর একটি মিলনায়তনে গতকাল জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত ‘পবিত্র আশুরার শিক্ষা ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা: রেজাউল করিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য নাজিম উদ্দীন মোল্লা প্রমুখ।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আশুরার দিন শুধু উম্মতে মোহাম্মদীর জন্যই নয় বরং পূর্ববর্তী উম্মতের কাছেও বিভিন্ন ঘটনার কারণে একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহ আজ ইসলামের সেই গৌরবৌজ্জ¦ল অতীত ভুলে যেতে বসেছে। ত্যাগ, নিষ্ঠা ও কোরবানির শিক্ষা হারিয়ে আত্মপুজা ও ইন্দ্রীয়পরায়ণতায় লিপ্ত হয়েছে। সব কিছুই এখন অশুভ শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। একটি অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশ ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। তারা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের নামে গণমানুষের সাথে প্রতারণা ও প্রহসনের আশ্রয় নিয়েছে। তাই এই স্বেরাচারি, ফ্যাসিবাদী ও গণবিরোধী সরকারের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে হলে পবিত্র আশুরার চেতনায় সবাকে উজ্জীবিত হতে হবে। তিনি অগণতান্ত্রিক ও নব্য বাকশালী সরকারের জুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় এবং দেশে জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানান।
কারবালার ঘটনা আমাদেরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের শিক্ষা দেয় : মকবুল আহমাদ
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমাদ গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে পবিত্র আশুরার দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। কারবালার ঘটনা আমাদেরকে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, আশুরার দিন আল্লাহ জালিম বাদশা ফেরাউনকে দলবলসহ পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন এবং মুসা আ: ও তাঁর অনুসারীরা ফেরাউনের হাত থেকে নাজাত লাভ করেছেন। আশুরার দিন হজরত সুলাইমান আ: তাঁর হারানো রাজত্ব ফিরে পান। এই দিনে হজরত ইয়াকুব আ: হারানো ছেলে হজরত ইউসুফ আ:-কে ফিরে পেয়েছিলেন। এই দিনে হজরত ঈসা আ: জন্মগ্রহণ করেন এবং এই দিনেই তাঁকে দুনিয়া থেকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়।
১০ই মহররম কারবালা প্রান্তরে বিশ্ব নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর দৌহিত্র হোসাইন রা:-এর শাহাদতের ঘটনা মুসলিম জাতির ইতিহাসে একটি অতীব গুরুত্ব স্মরণীয় ঘটনা। এ ঘটনার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। আজো মুসলিম উম্মাহ ব্যথিত হৃদয় কারবালার ঘটনা স্মরণ করে চোখের পানিতে বুক ভাসায়।
হজরত হোসাইন রা: অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে সেই দিন কারবালা প্রান্তরে পরিবার-পরিজন নিয়ে শাহাদত বরণ করেছিলেন। রাসূল সা: কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং তাঁর চার খলিফা কর্তৃক প্রবর্তিত খেলাফতি শাসনব্যবস্থা অক্ষুণœ রাখার জন্য তিনি শাহাদত বরণ করেছেন। ইসলামী খেলাফতের ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস না করার কারণেই কারবালার ঘটনা ঘটেছিল। কারবালার ঘটনা আমাদেরকে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে সংগ্রাম করার কথাই শিক্ষা দেয়।
আজকে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই যে, শোষণ, জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন চলছে তা থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্য আপসহীনভাবে সংগ্রাম করার কথাই ১০ই মহররমের ঘটনা আমাদেরকে শিক্ষা দেয়। কারবালার ঘটনা থেকে শিক্ষা লাভ করে সেই সংগ্রামী চেতনা ধারণ করে আমরা যদি অন্যায়, অসত্য, শোষণ, জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারি তা হলেই মহররমের আলোচনা সার্থক হবে এবং হজরত হোসাইন রা:-এর শাহাদতের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik