০৮ ডিসেম্বর ২০১৯
আ’লীগের ‘পুনর্জন্ম’ দেন জিয়া : রিজভী

জিয়াউর রহমান বৈধ প্রেসিডেন্ট : ড. মোশাররফ

-

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জিয়াউর রহমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত ‘বৈধ প্রেসিডেন্ট’। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর গতকাল সোমবার মহিলা দলের র্যালির আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ড. মোশাররফ বলেন, সংসদে কোনো কারণ ছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। তাদের কথায় শহীদ জিয়া নাকি অবৈধ। ১৯৭৮ সালের জুন মাসে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে এ দেশের জনগণ ভোট দিয়ে জিয়াউর রহমানকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছিলেন। এই আওয়ামী লীগের মতো ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ২৯ ডিসেম্বর রাতে ডাকাতি করে নয়। একই অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগকে নতুন জন্ম দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি যদি অবৈধ হন, তাহলে আওয়ামী লীগ ও আজকের প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ! অনুষ্ঠানে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসও বক্তব্য রাখেন। শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড় ঘুরে ফের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। সংগঠনের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, তিনি অবৈধ বলে যা বলেন, সেটা তার নিজের মনে দুর্বলতা। এ জন্য যে, এই সরকার অনির্বাচিত, রাতের অন্ধকারে ভোট ডাকাতি করে গায়ের জোরে রয়েছে। যেহেতু তারা অবৈধ সে জন্য এখন অন্যদের ওপরে দোষ চাপিয়ে এই যে অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছে তা অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চায়। এটা আওয়ামী লীগ সব সময় করে আসছে।
জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাকশাল করে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যা করেছে, ২৯ ডিসেম্বর তারা আবার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। আমাদের নেতা জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে এ দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। আওয়ামী লীগের রেকর্ড হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যা এবং বিএনপির রেকর্ড হচ্ছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আওয়ামী লীগ জোর করে ও অবৈধভাবে আজকে ক্ষমতায় থেকে তারা আবোল-তাবোল কথা বলে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশ-জাতি আজকে এই অবৈধ সরকারের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত। অর্থনীতি আজকে ধ্বংসপ্রাপ্ত, ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে, সামাজিক অশান্তি, নারী-শিশু নির্যাতন, আজকে আমরা বালিশ-পর্দার গল্প শুনি। দুর্নীতি কোথায় গিয়েছেÑ এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। জনগণ এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। এই মুক্তি একমাত্র বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো দিতে পারে। তাই মহিলা দলসহ আমাদের বিরাট দায়িত্ব গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে কারণ তিনি গণতন্ত্রের মা। তাকে জেলে রেখে গণতন্ত্র মুক্ত করা সম্ভব নয়। আপনারা যে যে অবস্থানে আছেন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা সবাই প্রস্তুত থাকুন। দেশে স্বৈরাচার অতীতে টিকেনি, ইনশাআল্লাহ এবারো টিকবে না। সময় আসছে, জনগণ তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, মিডনাইট নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, জিয়াউর রহমান অবৈধ রাষ্ট্রপতি ছিলেন। কেন অবৈধ? এটার কোনো ব্যাখ্যা দেননি। আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত হয়ে বাকশাল হয়েছিল, সেই বাকশাল থেকেই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। তখন একটি আইন হয়েছিল পলিটিক্যাল পার্টি রেগুলেশন। সেখানে আওয়ামী লীগের একজন নেতা দরখাস্ত করে আবার বাকশাল থেকে আওয়ামী লীগে ফিরে এসেছিলেন। এটা তো জিয়াউর রহমানের সময়। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি, তার আইন। তার আইনের আওয়ামী লীগ বাকশাল থেকে আবারো আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন ঘটেছিল। আওয়ামী লীগকে নতুন জন্ম দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি যদি অবৈধ হন, তাহলে এখন আওয়ামী লীগ অবৈধ, আজকে প্রধানমন্ত্রী তিনিও অবৈধ। কারণ ওই আইন তো করেছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সংসদে শেখ হাসিনা আবোল-তাবোল কথা বলেছেন। আসলে যারা গণতন্ত্র হত্যা করে, বাকশাল করে, সংবাদপত্র বন্ধ করে, বিরোধী দল ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হত্যা করে তারা কি বৈধ? আজকে এত সাংবাদিক, পত্রপত্রিকা-টেলিভিশন, এর জন্ম দিয়েছেন জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়ে। জিয়াউর রহমান অবৈধ নন, বরং বৈধতা, গণতন্ত্র ও মুক্ত মনে কথা বলা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতীক।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik