১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

লুট করে ক্ষমতা দখলকারীরা দেশের মালিক না : ড. কামাল

গণফোরামের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ড. কামাল হোসেন : নয়া দিগন্ত -

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, যারা লুটপাট করে, যেনতেনভাবে ক্ষমতা দখল করে, তারা কিন্তু দেশের মালিক না। জনগণই দেশের মালিক। তবে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। এর চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন। এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই জনগণের বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গণফোরামের উদ্যোগে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে উল্টাপাল্টা কাজ করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু নাম ও ছবি ব্যবহার করে যারা আখের গোছাচ্ছে তারা বড় অপরাধ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ড. কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কী স্বপ্ন দেখেছিলেনÑ এটা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে বুঝান। মানুষ এটা বুঝলেই কিন্তু রুখে দাঁড়াবে। দেখবেন, যারা তার নাম নিয়ে, তার ছবি নিয়ে কাজ করছে উল্টো। জনগণের ক্ষমতা তাদের স্বার্থে না লাগিয়ে, উনার ছবি দেখিয়ে, উনার ছবি নিয়ে নিজের আখের গোছাচ্ছে। এটা ষোলআনা বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের পরিপন্থী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কখনই চাইতেন না এ দেশে স্বৈরশাসন কায়েম হোক। তিনি বলেন, আমি একদম হলফ নিয়ে বলতে পারি যে, উনি এ দেশে স্বৈরশাসন থাকবেÑ এটা কোনো দিন ভাবতেই পারেননি। উনি জীবন দিয়েছেন এই কারণেই। উনি জীবন দিয়েছেন এ দেশে গণতন্ত্র থাকবে, নির্ভেজাল গণতন্ত্র, নামকা ওয়াস্তে গণতন্ত্র নয়। কারণ উনার সারা জীবনের লড়াই ছিল, যার জন্য উনাকে জীবনও দিতে হলো। উনি জনগণকে দেশের মালিক হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। যদি আজকে কেউ মনে করে যে, রাষ্ট্রের মালিকানা কোনো এক ব্যক্তির বা এক দলের, তাহলে বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা হবে, বঙ্গবন্ধুর কথাকে প্রত্যাখ্যান করা হবে। কারণ তিনি সংবিধানে লিখে দিয়ে গেছেন জনগণই ক্ষমতার মালিক।
তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ সব সময় বঙ্গবন্ধুকে মনে রাখবে। কারণ তিনি কখনো জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতেন না। আর জনগণ যে হবে সব ক্ষমতার মালিক তিনি তা শিখিয়ে গেছেন। এবং জনগণকেই এ দেশের মালিকানা সংবিধানের মাধ্যমে জনগণের হাতে দিয়ে গেছেন। জনগণ হবে ক্ষমতার মালিক। তাই বঙ্গবন্ধু সব সময় অমর হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে তিনি অমরই হয়েই থাকবেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি বলব, কিভাবে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। নির্বাচন পদ্ধতিকে করে দেয়া হয়েছে অবাধ নির্বাচনের ষোল আনা উল্টা। টাকা-পয়সা, নানা রকমের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সেই অপপ্রয়োগের মধ্যে একটা রায় দিয়ে দেয়া। মানুষ যাকে ভোট দিতে চায় না, মানুষ যার উল্টাটা চায়, তারা সামনে এসে বলে আমরা নির্বাচিত, আমরা এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মালিক।
ড. কামাল হোসেন বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ নির্বাচনে ভোট হয়নি, ভোট দিতে যেতে পারিনি। অথচ আমাদের মোবারকবাদও দিয়ে দেয়া হয় সুষ্ঠুভাবে ভোট দেয়া হয়েছে বলে। বলা হলো ভোট দিয়ে বিজয়ী করার কারণে এ মোবারকবাদ। কিন্তু আমি কেন, কেউই ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেনি।
আলোচনা সভায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, মহসিন রশিদ, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক হোসেন, আমীন মোহাম্মদ আফসারীসহ মাহমুদুল্লাহ মধু প্রমুখ।

 


আরো সংবাদ