১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঐতিহাসিক মসজিদকুড় মসজিদ

অনন্য স্থাপত্য
-

খুলনার কয়রা উপজেলার ইট-সুরকির তৈরি মসজিদকুড় মসজিদটি দক্ষিণ বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন প্রতœসম্পদ। কপোতাক্ষ নদের পূর্ব পাড়ের বহু প্রাচীন গ্রাম আমাদিতে এই মসজিদের অবস্থান। ধারণা করা হয়, মহাত্মা হজরত খানজাহান আলীর শিষ্য বুড়া খান ও ফতেহ খান এই গ্রামে কাছারি করে এলাকা শাসন করতেন ১৪৫০-১৪৯০ সালের সময়কালে। তারা এখানে ৯ গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদ নির্মাণ করেন।
কপোতাক্ষ সুন্দরবনের নদ। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের সময় এটি রাক্ষসী রূপ পরিগ্রহ করে। মসজিদের দক্ষিণ দিকে বুড়া খান ও ফতেহ খানের কাছারিবাড়ি ও সমাধি ছিল, এর অনেকটাই কপোতাক্ষের বন্যায় ধুয়ে মুছে গেছে। মূল মসজিদও একসময় পলিতে তলিয়ে গিয়েছিল। সব এলাকা জঙ্গল হয়ে গিয়েছিল। জীবজন্তুর ভয়ে মানুষ মসজিদে যেতে সাহস করতেন না। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এলাকার বিপুল সংস্কার করে মসজিদটি উদ্ধার করা হয়।
বর্গাকার এই মসজিদের প্রতি পাশের মাপ হচ্ছে ১৬ দশমিক ৭৬ মিটার, ভেতরের মাপ ১২ দশমিক ১৯ মিটার করে। কেবলামুখী দেয়াল বাদে বাকি তিন দেয়ালে মসজিদে ঢোকার জন্য তিনটি করে খিলান প্রবেশদ্বার আছে। মাঝের প্রবেশদ্বারগুলো অপেক্ষাকৃত বড়। কেবলামুখী দেয়াল খুদে অর্ধবৃত্তাকার মিহরাব তৈরি করা হয়েছে। মাঝের মিহরাব অপেক্ষাকৃত বড়। মসজিদের ভেতরে চারটি স্তম্ভের ওপর ছাদ ভর করে আছে। এই চারটি স্তম্ভ মসজিদের ভেতরের অংশকে ৯টি সমবর্গক্ষেত্রে ভাগ করেছে। বর্গক্ষেত্রগুলো গম্বুজ দিয়ে ঢাকা। মসজিদটি একসময় টেরাকোটা দিয়ে সজ্জিত ছিল, এখন এগুলোর অনেকটাই খসে পড়েছে, নয়তো খোয়া গেছে।
আমাদির মসজিদকুড় মসজিদের নকশার সাথে পাণ্ডুয়ার আদিনা মসজিদের পাশে সিকান্দার শাহর ৯ গম্বুজ সমাধির নকশার মিল লক্ষণীয়। অবশ্য বাগেরহাটে খানজাহান নির্মিত ইমারতগুলোর নকশাও প্রায় একই ধরনের। মসজিদটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে আছে।

 


আরো সংবাদ