১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

ভারতীয় ঋণে ঈশ্বরদীতে ট্রান্স এশিয়ান আইসিডি

ভারতের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি হবে ; প্রকল্প ব্যয়ের ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশই পরামর্শক সেবায়
-

ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার কনসালটেন্সি সার্ভিসেস লিমিটেড (ডব্লিউএপিসিওএস) সমীক্ষা সুপারিশের আলোকে ঈশ্বরদীতে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) নির্মাণ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এটি হবে সড়ক ও রেল নির্ভর আইসিডি। কারণ ঈশ্বরদী-ঢাকা রেলওয়ে লাইনটি ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে রুটের অন্তর্ভুক্ত। পাঁচ বছরে প্রায় ২৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি স্থাপন করা হবে। রেলওয়ে বলছে, ঈশ্বরদীতে এই ধরনের একটি আইসিডি নির্মাণ করা হলে তা দেশের অভ্যন্তরসহ ভারত এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে রেল ফ্রেইট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা পরামর্শক সেবা ক্রয়ের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা বিভাগের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রেলওয়ের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। বন্দর থেকে আমদানিকৃত মালামাল খালাস পরবর্তী বা রফতানির জন্য নির্ধারিত পণ্য সড়ক পথে আনা-নেয়া করা হয়; যা সড়কে অনেক চাপ সৃষ্টি করে। স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে বেনাপোল সর্ববৃহৎ। মালামাল পরিবহনে এখানেও সড়ক যোগাযোগের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। অথচ রেলের মাধ্যমে পরিবহন করা গেলে জ্বালানি সাশ্রয়ীভাবে নিরাপদে এবং যানজট এড়িয়ে বড় শহরগুলোতে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব। রেল ফ্রেইট ট্রেড বিষয়ে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তঃসরকার রেলওয়ের সভায় (আইজিআরএম) বাংলাদেশ ও ভারত সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট টিম গঠিত হয়।
ওই সমীক্ষা টিমের কাজ ছিল কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য একটি উপযুক্ত ইন্টারমোডাল এক্সচেঞ্জ ইয়ার্ড নির্ধারণসহ যশোরে একটি কনটেইনার ট্রেন পরিচালনা এবং এ জন্য যশোরে একটি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং টার্মিনাল নির্মাণের সমীক্ষা সম্পাদন করা। এ ছাড়া ব্রেক বাল্কের পরিবর্তে কনটেইনারাইজড কার্গোর মাধ্যমে ফ্রেইট ট্রাফিক পরিবর্তন করার বিষয়ে সমীক্ষা করাও তাদের কাজ ছিল। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার কনসালটেন্সি সার্ভিসেস লিমিটেড (ডব্লিউএপিসিওএস) এই সমীক্ষাগুলো করে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ঈশ্বরদীতে সড়ক ও রেল নির্ভর একটি আইসিডি নির্মাণ সম্ভব এবং যৌক্তিক।
রেলওয়ে বলছে, ঈশ্বরদীতে এই ধরনের একটি আইসিডি নির্মাণ করা হলে তা দেশের অভ্যন্তরীণসহ ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে রেল ফ্রেইট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর ভারতীয় ডলার ক্রেডিট লাইন-৩ এর আওতায় ঈশ্বরদীতে এই আইসিডি নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪২ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা; যার মধ্যে ভারতীয় ঋণ ধরা হয়েছে ২০৭ কোটি ৬৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। চলতি অর্থবছর প্রকল্পটির কাজ শুরু করা গেলে আগামী ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।
প্রকল্পের ব্যয়ের ব্যাপারে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদফতরের ২০১৪ সালের রেইট শিডিউল ধরে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে ২০১৮ সালের রেইট শিডিউল অনুযায়ী ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। ডিপিপিতে জনবল প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এতে জনবল কমিটির কোনো সুপারিশ সংযুক্ত করা হয়নি। মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ ব্যয় হবে পরামর্শক সেবা ক্রয়ে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে এই ব্যয় অনেক বেশি। এটাকে যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে এই ব্যয় প্রকল্প সহায়তা থেকে না করে সরকারি অর্থায়নে করা যায় কি না সেটা চিন্তা করা হচ্ছে। তাতে পরামর্শকের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র বলছে, এলওসি-৩ এর অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মন্ত্রণালয় খসড়া প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) ইআরডিতে প্রেরণ করবে। এরপর ইআরডি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে ডিপিপি শেয়ার করবে। তাদের মতামত জানতে চাওয়া হবে। তাদের মতামত থাকলে এবং পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। মন্ত্রণালয় সে মোতাবেক যৌক্তিকভাবে ডিপিপি পুনর্গঠন করবে। তবে এই প্রকল্পটি ইআরডিতে প্রেরণ করা হয়নি।
পরিকল্পনা কমিশনের রেল পরিবহন উইং সূত্র বলছে, এলওসির-৩ এর আওতাধীন প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশের অংশ থাকতে পারে। তাই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে ডিপিপি নিয়ে আলোচনায় বিষয়টি তুলে ধরা দরকার। পাশাপাশি পরামর্শক খাতের ব্যাপারে পরিমাণ যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং জিওবি থেকে এটার ব্যয় নির্বাহ করা প্রয়োজন। এতে তাদের ওপর সরকারের একটা নিয়ন্ত্রণ থাকবে। অন্য দিকে বিদেশী অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা উচিত।

 


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik