২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ভ্যাট নিরীক্ষার আয়ে প্রবৃদ্ধি ৬৪ শতাংশ

-

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি যেখানে মাত্র ৯.৮৬ শতাংশ সেখানে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের আয়ে প্রবৃদ্ধি ৬৪ শতাংশের বেশি। সদ্য বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংস্থাটি এক হাজার ৯৯৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আদায় করতে সক্ষম হয়েছে; যা কিনা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ৭২০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বেশি। রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৪.৫৫ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ভ্যাট গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে আদায়কৃত রাজস্বের মধ্যে এক হাজার ৮৩৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা উদঘাটিত (ফাঁকি থেকে আদায়) ভ্যাট এবং ১১৯ কোটি ৮ লাখ টাকা ছিল সরাসরি আদায়কৃত ভ্যাট। আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) মোট আদায়কৃত রাজস্ব ছিল এক হাজার ১১৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদঘাটিত ভ্যাট ছিল এক হাজার ৭১ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং আদায়কৃত ভ্যাট ৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
সংস্থাটির মহাপরিচালক এ এফ এম আবদুল্লাহ খান এ বিষয়ে নয়া দিগন্তকে বলেন, গত ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন ও আদায় সম্ভব হয়েছে। ভ্যাট আদায়ে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করার কারণেই ভ্যাট আদায় বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই জোরদার করা ও গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেশি বেশি অভিযান পরিচালনা। এ ছাড়া রাতে টহল দিয়েও ভ্যাট আদায়ে বেশ সাফল্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, আমাদের জনবলের সঙ্কট রয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দায় ৫০ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদ থাকলেও আছে মাত্র ২৩ জন। এই জনবল নিয়ে অডিট, অভিযান ও টহলের কাজ করা বেশ দুরূহ। আমাদের লোকবল বৃদ্ধি প্রস্তাব এখনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংস্থাটি মোট ১৩৬টি প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষা বা অডিট ও অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে ইন্স্যুরেন্স খাতে ১৩টি, সেবা খাতে ১৫টি ও উৎপাদনকারীর ১৯টিসহ মোট ৫১টি প্রতিষ্ঠানে অডিট করে ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ। ওই বছর ২৩টি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান, ১৫টি সেবা ও ব্যবসা খাতসহ মোট ৩৮টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।
ভ্যাট গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, ৫১টি প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষা বা অডিট থেকে আদায় মোট ৩৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা হয়। গোপন তথ্যে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানে তদন্ত পর্যায়ে ৫৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ফাঁকি ধরা পড়ে। আর ৩৮টি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এক হাজার ৪৩৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা। এ ছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন স্পটে টহল দিয়ে ১৪ লাখ টাকা আদায় করেছে।
সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটিত হয়েছে। ওই বছর সর্বোচ্চ এক হাজার ৮৩৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করেছেন ভ্যাট গোয়েন্দারা। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ৭৬৫.৫৯ কোটি টাকা বেশি।
অন্য দিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় আরো বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। যেখানে প্রবৃদ্ধি হার ছিল প্রায় ৯৩.২১ শতাংশ। আগের ২০১৬-১৭ সালে বিভিন্ন সময়ে নিরীক্ষা, তদন্ত, অভিযান, টহলে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল মাত্র ৫৭৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা; যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ৫৩৮.৪৯ কোটি টাকা কম। ওই বছর মোট ভ্যাট আদায় হয় এক হাজার ১১৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
বেশ বড় ধরনের সাফলতা দেখাতে সক্ষম হলেও প্রচার কেন এত কমÑ এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যাট গোয়েন্দার মহাপরিচালক বলেন, আমরা খুব বেশি প্রচার চাচ্ছি না। কারণ কাজটাই বড় দেখি, প্রচার নয়। তা ছাড়া বেশি প্রচারে অনেক সময় কাজে বাধা সৃষ্ট করে। তবে এখন মনে করছি জনসচেতনতার স্বার্থে প্রচারেরও প্রয়োজন রয়েছে।
নিরীক্ষার মাধ্যমে ভ্যাট ব্যবস্থায় অধিকতর শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করে এবং মূসক ফাঁকি রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রেখে এটি আরো জোরদার করা হবে বলেও জানান আবদুল্লাহ খান।


আরো সংবাদ

গণতন্ত্র-খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে কঠোর আন্দোলন চান আইনজীবীরা ইফায় নতুন করে উত্তেজনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কর্মকর্তা বদলি ও শোকজ আওয়ামী লীগের অনেকে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টায় যাকে ধরা হবে তাকেই বহিষ্কার : যুবলীগ চেয়ারম্যান তরুণীসহ গ্রেফতার ২০, বিপুল মাদক ও টাকা জব্দ ইরানের ন্যাশনাল ব্যাংকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আশা করি খেলাঘরের আন্দোলন সফলভাবে এগিয়ে যাবে : ড. আনিসুজ্জামান ধানমন্ডি ক্লাবে র‌্যাবের অভিযান বশেমুরবিপ্রবিতে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন চলছে চট্টগ্রামে অভিযানে ক্লাব বন্ধ : গ্রেফতার ২ ক্যাসিনো-মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সকল