২৩ আগস্ট ২০১৯

বক্তব্যের পক্ষে প্রিয়া সাহা যে ব্যাখ্যা দিলেন

-

বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু নিখোঁজ হওয়া বিষয়ে প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গতকাল একজন সাংবাদিকের সাথে ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসরণে এ কথা বলেছেন তিনি। ২০০১ সালে নির্বাচনের পরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৯৪ দিন ধরে চরম নির্যাতন চলছিল। তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন। তখন তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষার জন্য সারা পৃথিবী ঘুরেছেন। সব জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে তার অনুসরণে এ কথা বলেছি। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো জায়গায় বলা যায় এটা আমি তার কাছে শিখেছি। তিনি বলেন, এই কথাগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা।
প্রিয়া সাহা আরো বলেন, ২০০১ সালের সাম্প্রদায়িক সরকার সংঘ্যালঘুদের বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে নির্যাতন করেছে তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী সারা পৃথিবীতে কিভাবে কষ্ট করেছেন তা আপনারা জানেন।
প্রিয়া সাহা বলেন, বাংলাদেশ মৌলবাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও মৌলবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। বাংলাদেশে যাতে মৌলবাদের উত্থান না ঘটে, মৌলবাদের কবলে না পড়ে সে জন্য মার্কিন প্রশাসন যাতে বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করে সেজন্য আমি মৌলবাদের বিরুদ্ধে বলেছি।
বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু নিখোঁজ হওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০১ সালে বাংলাদেশের সরকারি পরিসংখ্যান বইয়ের তথ্য অনুসারে দেশভাগের সময় সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল শতকরা ২৯ দশমিক ৭ ভাগ। এখন এটা হয়েছে শতকরা ৯ দশমিক ৭ ভাগ। আর বাংলাদেশে বর্তমান জনসংখ্যা ১৮ কোটির মতো। বাংলাদেশের জনসংখ্যা যেভাবে বেড়েছে সে হারে যদি সংখ্যালঘুরাও বাড়ত তাহলে এই পরিমাণ সংখ্যা (তার অভিযোগ মতে নিখোঁজ ৩ কোটি ৭০ লাখ) থাকার কথা। কিন্তু সেটা নাই। সেটা নাই কেন। সে জনসংখ্যা হারিয়ে গেছে।
প্রিয়া সাহা বলেন, সরকারি বইয়ের এ তথ্য নিয়ে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাত। তিনি এ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে ৬৩২ জন সংখ্যালঘু হারিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে ক্রমাগতভাবে সংখ্যালঘুরা হারিয়ে গেছে। ২০১১ সালে আমি তখন স্যারের সাথে কাজ করেছি। সে কারণে আমি এ বিষয়টা সম্পর্কে অবগত।
বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ কখন কিভাবে হারিয়ে গেছে, তারা কোথায় গেছে, কোনো পত্রিকায় এ বিষয়ে কোনো রিপোর্ট হলো না কেন এ বিষয় জানতে চাইলে প্রিয়া এর উত্তর এড়িয়ে শুধু বলেন, আপনারা এটি জানেন, আপনারা এ বিষয়ে সচেতন আছেন। একপর্যায়ে ওই সাংবাদিক তার কাছে পাল্টা প্রশ্ন করেন আপনি যেহেতু বলেছেন তাই আপনার জানা থাকার কথা।
তবে তার বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালানোর তথ্য দিয়ে প্রিয়া বলেন, পিরোজপুরে তার বাড়ির আশপাশে ২০০৪ সালে ৪০টি সংখ্যালঘু পরিবার ছিল। এখন আছে ১৩টি।
কিভাবে প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন সে বিষয়ে তিনি বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আমন্ত্রণে তিনি গেছেন। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক দূত স্যাম ব্রাউন বেকের নেতৃত্বে তিনি হোয়াইট হাউজে যান। প্রিয়া দাবি করেন হোয়াট হাউজে যাবার ৪০ মিনিট আগেও তিনি জানতেন না যে তিনি সেখানে যাবেন এবং প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ হবে বা তিনি কথা বলার সুযোগ পাবেন।
এ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে প্রিয়ার বক্তব্য নিয়ে সারা দেশে নিন্দা প্রতিবাদের ঝড় অব্যাহত রয়েছে। গতকালও বিভিন্ন মহল থেকে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করা হয়েছে।
এ দিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রিয়া সাহার মিথ্যা বক্তব্যের ভয়ঙ্কর পরিণতি নিয়েও নানা ধরনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে। তিনি সম্মেলনে যোগ দেয়ার পর বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কিভাবে হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাতের জন্য মনোনীত হলেন তা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউজে মার্কিন রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাতের জন্য মনোনীত হওয়া কোনো মামুলি বিষয় নয়। অনুমতি পেতে যেমন তার সম্পর্কে গভীর অনুসন্ধান, সব তথ্য তাদের হাতে থাকতে হয় তেমনি দেখা করার জন্যও অনেক নিয়মকানুন, কঠোর নিরাপত্তা প্রভৃতি ধাপ পার হতে হয়। সে প্রেক্ষাপটে তাকে হোয়াইট হাউজ পর্যন্ত পৌঁছানোর পেছনে শক্তিশালী একটি লবি কাজ করেছে বলে বলে মনে করেন অনেকে।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet