২৪ আগস্ট ২০১৯

সাতক্ষীরায় মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ৩ সহোদরকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় একজনের মৃত্যু

-

ছাগল পাটের পাতা খাওয়ার প্রতিবাদ করায় সাতক্ষীরায় মসজিদে ঢুকে নামাজ চলাকালে তিন সহোদরকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার (১৩ জুলাই) মাগরিবের নামাজের সময় সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের একজন ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে গত বুধবার সন্ধ্যায় মারা যান।
নিহতের নাম মো: আকবর আলী সরদার (৫০)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা মাঝেরপাড়া গ্রামের মৃত আহম্মেদ আলী সরদারের ছেলে। আহত অপর দুই ভাই হলো ইউপি সদস্য রইচ উদ্দিন (৪৬) ও আব্দুল গফফার সরদার (৪২)।
নিহতের ভাইপো বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, একই পাড়ার আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী অনুর পোষা ছাগল চাচা আব্দুল গফফারের কয়েকটি পাটগাছ খেয়ে ফেলে। জানতে পেরে আব্দুল গফফার একটি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ছাগলের গায়ে কয়েকটি আঘাত করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাত্তার ও তার ভাইয়েরা গফফারদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এ নিয়ে আকবর, রইচ উদ্দিন ও আব্দুল গফফারের সাথে তাদের বচসা হয়।
তিনি আরো জানান, গত শনিবার মাগরিবের নামাজ আদায় করার জন্য তিন ভাই আকবর, রইচ উদ্দিন ও আব্দুল গফফার স্থানীয় বালিয়াডাঙ্গা জামে মসজিদে যান। একপর্যায় নামাজরত অবস্থায় আব্দুস সাত্তারের ছেলে হাসান, আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে ইদ্রিস আলী ও তার ভাই কুদ্দুস ধারলো রাম দা নিয়ে মসজিদের ভেতরে ঢুকে তিন ভাই আকবর, রইচ উদ্দিন ও আব্দুল গফফারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। মুসল্লিরা ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। মুসল্লিরা আহত তিন সহোদরকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হতে থাকায় আকবর আলীকে প্রথমে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে পরে সেখান থেকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার সন্ধ্যার তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত আব্দুল গফুর বাদি হয়ে গত রোববার হাসানসহ ১০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আটজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি হত্যা প্রচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পর দিন এজাহার নামীয় আসামি ইদ্রিস, কুদ্দুস, আসাদুল, মোতলেব, বেল্লাল, আবু তালেব ও আব্দুস সাত্তার আদালত থেকে জামিন পান। এ দিকে মামলার জামিন পাওয়া আসামিরা বাড়িতে এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদি পক্ষের লোকজনকে হুমকি দিচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হত্যা চেষ্টার মামলাটির সাথে হত্যার অভিযোগ সংবলিত ধারা সংযোজন করে গতকাল আদালতে অগ্রবর্তী করা হয়েছে। আগামী ধার্য দিনে জামিন পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ থাকায় আগের জামিন বাতিলের আবেদন জানানো হবে। মামলার প্রধান তিন আসামি হাসান, আব্দুল্লাহ ও আক্তারুল পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে বলে তিনি জানান।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet