১৫ অক্টোবর ২০১৯

দীর্ঘ মেয়াদে ওয়াশ খাতে ব্যয়ের প্রবণতা ক্রমেই কমছে ড. হোসেন জিল্লুর

বাজেটে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন খাতে বরাদ্দ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ড. হোসেন জিল্লুর : নয়া দিগন্ত -

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন ওয়াশ খাতে ব্যয়ের প্রবণতা ক্রমাগতভাবে কম বলে পরিলক্ষিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর (ডিপিএইচই) এবং পৌরসভায় মানব সম্পদ ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ওয়াটারএইড, ইউনিসেফ, পিপিআরসি, ফানসা-বিডি, ডব্লিউএসএসসিসি-বি, এফএসএম নেটওয়ার্ক, স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল এবং ওয়াশ অ্যালায়েন্সের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য প্রশংসা করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডাইরেক্টর মো: খায়রুল ইসলাম, ইউনিসেফের ওয়াস স্পেশালিস্ট মনিরুল আলম, এসডব্লিউএ-এর দক্ষিণ এশিয়া সিএসও সদস্য মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান প্রমুখ।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ২০১৯-২০ সালের জাতীয় বাজেটে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে বরাদ্দ বাড়লেও এটি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে বিরাজমান চ্যালেঞ্জগুলো পূরণে যথেষ্ট নয়। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ষষ্ঠ অর্জনের লক্ষ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে আরো ন্যায্য বরাদ্দ প্রয়োজন। কাউকে পেছনে রেখে নয়, এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিশ্চিত করতে শহর ও গ্রামীণ এলাকার বাজেট বরাদ্দে বৈষম্য হ্রাস করাসহ দুর্গম এলাকা, যেমন পাহাড়, চর, হাওর এবং উপকূলীয় দ্বীপগুলোতে ওয়াশ বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। হতদরিদ্র ও গরিব এ দু’ধরনের জনগোষ্ঠীর নিকট নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা আবশ্যক। পানি ও স্যানিটেশন সেক্টরের জন্য ‘সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ২০১১-২৫’ এর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহর এলাকার মধ্যে বৈষম্য হ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
ওয়াটারএইড এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় এবং পাওয়ার ও পার্টিসিপেসন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) বিশ্লেষণে তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ওয়াশ বাজেট বরাদ্দে দীর্ঘ মেয়াদি ধারাবাহিকতায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞা রক্ষা করে চলেছে।
তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ এর সংশোধিত বাজেট বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য চিত্র দেখা যায়, যা ৬৮.৪৯ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৯৫.৭০ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১০১.৬১ বিলিয়ন টাকায়। এ ছাড়া বিশ্লেষণে ওয়াশ বাজেটের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক বৈষম্য লক্ষ করা যায়। গ্রামীণ ও চর এলাকায় তীব্র চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নগর ও শহরগুলোতে বরাদ্দের পরিমাণ তুলনামূলক অনেক বেশি হয়ে থাকে। মোট ১১টি সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার চারটি ওয়াশায় বরাদ্দ বেড়ে গেলে গ্রামীণ এলাকায় বরাদ্দ কমেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের (ডিপিএইচির) সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ ২০১৮-১৯ সালে ২০.৫১ বিলিয়ন থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৪.১৩ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু তারপরও এই বাজেট, উল্লিখিত চারটি ওয়াশার জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তার অর্ধেকেরও কম যা ৪৫.১৮ বিলিয়ন। এই বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতিতে এখনো বেশ অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্যানিটেশন প্রচারাভিযানকে টেকসই ও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং শহুরে এলাকায় সমন্বিত পানি পরিশোধন ও সরবরাহের প্রতিশ্রুতি এখনো অর্জন হয়নি।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum