১৬ জুলাই ২০১৯

সুলতানি আমলের স্মৃতিবিজড়িত বারো দুয়ারি মসজিদ অনন্য স্থাপত্য

-

সুলতানি আমলের নিদর্শন শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বারো দুয়ারি মসজিদ। প্রাচীন আমলের এ মসজিদটিতে প্রবেশের জন্য রয়েছে বারোটি দরজা তাই ঐতিহাসিকভাবে এটি বারো দুয়ারি মসজিদ নামে খ্যাত। শেরপুর জেলা থেকে ৭ মাইল উত্তর-পশ্চিমে শ্রীবরদী থানার পূর্ব দিকে গড়জরিপা ইউনিয়নে এর অবস্থান।
এককালে ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তরাঞ্চলীয় ভূভাগ শেরপুরসহ গারো পাহাড় সন্নিহিত এলাকার মানকেন্দ্র ছিল গড়জরিপা। কথিত আছে, কামরূপের রাজার রাজ্য গড়জরিপার শাসক ছিলেন দলিপ সামন্ত। এখানে তার রাজধানী ছিল। রাজধানীর প্রধান দুর্গটি খুবই নিরাপদ ছিল বলেই মনে হয়। মাটির তৈরি দুর্গের ভেতরে ৭টি বেষ্টনী ছিল। বর্তমানে মাটির দুর্গের চিহ্ন না থাকলেও ধ্বংসাবশেষ এবং এখানে-ওখানে মাটির ঢিবি দেখতে পাওয়া যায়। অন্য মতে, মুসলিম আমলেই দুর্গটি নির্মিত হয়েছিল। জরিপ শাহ্ ফকির ছিলেন গড়জরিপার শাসক। তার নামানুসারেই গড়জরিপা নাম হয়েছে। এখানে বাংলার সুলতান সাইফউদ্দিন ফিরোজ শাহের (১৪৮৬-৮৯) একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে। তার আমলেই দুর্গটি নির্মিত হয়েছিল বলে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে প্রমাণিত হয়।
বারো দুয়ারি মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা হলেই এখানে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ইংরেজ আমলে এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে মসজিদটি মাটি চাপা পড়লে অনেকদিন এর খোঁজ পাওয়া যায়নি। চাপাপড়া মসজিদের ওপর বিশাল এক বৃক্ষ দীর্ঘদিন শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে দাঁড়িয়েছিল। এ কারণে এর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে এ মসজিদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল সর্বত্র।
জামালপুরের শরীফপুর ইউনিয়নের পিঙ্গলহাটির কুতুবগঞ্জ হাক্কানি দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুল আজিজ অনেক বছর চেষ্টার পর এ মসজিদ ফের আবিষ্কার করেন। ১৯৬০ সালের দিকে মাওলানা আব্দুল আজিজ শেরপুর জেলার শ্রীবরদীতে ভূমিজরিপ কার্যালয়ে পিএলএ পদে চাকরি করতেন। এ জন্য তিনি পিএলএ মাওলানা নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি শ্রীবরদীতে চাকরির সুবাদে মাঝে মধ্যে গড়জরিপা আসতেন বারো দুয়ারি মসজিদের খোঁজে। কয়েক যুগ আগে এক ঘূর্ণিঝড়ে বটগাছটি ভেঙে উপড়ে গেলে সেখানে একটি মসজিদ দৃষ্টিগোচর হয়।
এ সংবাদ পেয়ে আব্দুল আজিজ স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বটগাছ কেটে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে মাটি খোঁড়া শুরু করেন। অবশেষে মাটির নিচে একটি মসজিদের ভগ্নাবশেষ দৃষ্টিগোচর হয় যা ছিল বহু প্রত্যাশিত বারো দুয়ারি মসজিদ। কিন্তু ১০ ফুট খনন করলে চার দিকে পানি ও কাদামাটি বের হতে থাকে। পরে খননকাজ বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে প্রাচীন মসজিদটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে বারো দুয়ারি ও মসজিদের সাবেক ভিটির ওপর ১২টি দরজা তিনটি গম্বুজবিশিষ্ট নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। আগের মতোই নবনির্মিত বারো দুয়ারি মসজিদের সামনে ৯টি, দক্ষিণে, দু’টি উত্তরে একটিসহ মোট ১২টি দরজা রয়েছে। অপরূপ নকশা ও কারুকার্য খচিত মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক লোক আসেন।
বর্তমানে মসজিদটির বর্ধিত অংশ আধুনিকায়ন, দ্বিতল ভবন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। মসজিদের প্রবেশমুখে সংযোজন করা হয়েছে নতুন ডিজাইনের নান্দনিক ১২টি দরজা। শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্য বারো দুয়ারি মসজিদের বেশ সুনাম রয়েছে। দূর-দূরান্তের অনেক পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয় এ পবিত্র স্থানটি।


আরো সংবাদ

বেসরকারি টিটিসি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি কলেজ শিক্ষার্থীদের শতাধিক মোবাইল জব্দ : পরে আগুন ধর্ষণসহ নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির কমিটি রাজধানীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নারীসহ দু’জন নিহত রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের কাল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এরশাদের মৃত্যুতে ড. ইউনূসের শোক ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না : রাষ্ট্রপতি ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের হজ প্রতিনিধিদল সৌদি আরব যাচ্ছেন

সকল




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi