২০ জুলাই ২০১৯

সৈয়দপুরে দাদা-নাতিসহ বিভিন্ন স্থানে নিহত ১০

-

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দাদা ও নাতি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া লালমনিরহাটে পুলিশের কনস্টেবল পদে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে অটোরিকশার চালকসহ ২ জন এবং অন্যান্য স্থানে আরো ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছে।
নীলফামারী ও সৈয়দপুর সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুরে পিকআপের ধাক্কায় রহমত তুল্যা (৬৫) ও তার নাতি তুরাগ (২) নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়কের ওয়াপদা নয়াহাটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় জনতা চালকসহ পিকআপটিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটক পিকআপ চালক রিমন ইসলাম (২৬) সৈয়দপুর শহরের কয়া গোলাহাট এলাকার মমিনুল ইসলামের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় নয়াহাটের বাসিন্দা পিডিবির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী রহমত তুল্যা তার নাতি তুরাগকে নিয়ে সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় নীলফামারীগামী খালি পিকআপটি দাদা-নাতিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার হাতে আটক হয়। ঘটনাস্থলে মারা যান রহমত তুল্যা এবং গুরুতর আহত শিশু তুরাগ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়।
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মুক্তাগাছার লেংড়ারবাজার এলাকায় আম ভর্তি একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গেলে ট্রাকের চালকসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রাকচালকের নাম সেলিম রেজা দুলাল (৫০)। তিনি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার মেদুর গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে এবং অপরজন নিহত আম ব্যবসায়ী রুহুল আমীন (৪৫) কিশোরগঞ্জ জেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নের চারিতলা গ্রামের হাজী গোলাম মোস্তফার ছেলে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ট্রাকের চাপায় আবেদা বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার বেতবাড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবেদা সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের রেণু মিয়ার স্ত্রী। সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: হোসেন সরকার জানান, দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেতবাড়িয়া এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ামুখী একটি পণ্যবাহী ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই আবেদার মৃত্যু হয়। তিনি জানান, পুলিশ ট্রাকটিকে আটক করেছে।
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভারের চাপাইন সংযোগ সড়কে ইজিবাইক চাপায় এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম- সালেহা বেগম (৬৫)। মাদারীপুর জেলা সদর থানার চরমুকুরিয়া গ্রামে তার বাড়ি।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে চাঁপাইন সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি ইজিবাইক ওই নারীকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ইজিবাইক চালক রকিবুলকে আটক করেছে পুলিশ।
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক পারাপারের সময় গতকাল সকালে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সেতু নামে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র নিহত হয়েছে।
জানা যায়, শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সেতু তার দাদির হাত ধরে মহাসড়ক পারাপার হচ্ছিল। হঠাৎ সে দাদির হাত ছেড়ে দিয়ে দৌড় দেয়। এ সময় একটি দ্রুতগতির মাইক্রোবাসের ধাক্কায় সেতু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
লালমনিরহাট সংবাদদাতা জানান, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী বাজার এলাকায় রংপুর-বুড়িমারী মহাসড়কে গতকাল সকালে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হন অপর আরো সাত যাত্রী। নিহতরা হলেনÑ বিশ্বনাথ রায়ের ছেলে নান্দু চন্দ্র রায় (৫৪) ও নূর উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক রবিউল ইসলাম (৪১)। তাদের বাড়ি জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ওয়াপদা বাজার এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে পরীক্ষায় অংশ নিতে অভিভাবকসহ কালীগঞ্জের ওয়াপদা বাজার এলাকার আটজন একটি অটোরিকশা রিজার্ভ নিয়ে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে যাচ্ছিলেন। পথে পলাশী বাজার এলাকায় একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিলে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই চালক রবিউল ও যাত্রী নান্দু চন্দ্র নিহত হন। এ সময় আহত হন অটোরিকশার অপর সাত যাত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা হাসপাতাল ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়।
উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা-উজিরপুর আঞ্চলিক সড়কে গতকাল দুপুরে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চাঁপায় রফিকুল মিয়া (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। নিহত শিশু রফিকুল সাতলা গ্রামের শরীফ মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাফিজুলের ভায়রার ছেলে দুলাল খন্দকার হাফিজুলের ইজিবাইক নিয়ে রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে চালাতে থাকে। এ সময় চলন্ত ইজিবাইকের নিচে চাপা পড়ে যায় শিশু রফিকুল। স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় রফিকুলকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi