২৩ জুলাই ২০১৯

অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছে সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংক

অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ ৬২২ কোটি টাকা, আদায় ১০ কোটি টাকা; সবচেয়ে বেশি অবলোপনকৃত ঋণ আইসিবিতে ২৬৩ কোটি টাকা
-

সরকারি ৫ বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের অবলোপনকৃত ঋণ আদায় করতে পারছে না। এসব ব্যাংকে বর্তমানে অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ ৬২১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কিন্তু অর্থবছরে (২০১৮-২০১৯) ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায় করা গেছে মাত্র ১০ কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে অবলোপনকৃত ঋণ আদায় জোরদার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বলা হয়েছে, শ্রেণিকৃত ঋণ যেহেতু সম্পূর্ণ আদায় করতে হবে, তাই শ্রেণিকৃত ঋণ হতে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও বৃদ্ধি করতে হবে।
সম্প্রতি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সাথে এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো শ্রেণিকৃত ঋণ হতে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সঠিকভাবে নির্ধারণ করছে না। তাদের শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সঠিকভাবে নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিশেষায়িত ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণের পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঋণ অবলোপন করেছে সরকারি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ ২৬৩ কোটি টাকা। কিন্তু এই অবলোপনকৃত ঋণের মধ্য থেকে অর্থবছরে ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) আদায় করা সম্ভব হয়েছে।
একইভাবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) এর অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ ২২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আদায় ৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। রাজশাহী কৃষি ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণ ১২৭ কোটি টাকা। বিবেচ্য সময়ে আদায় করা গেছে মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কর্মসংস্থান ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণ ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আদায় ২১ লাখ টাকা। আনসার-ভিডিপির অবলোপনকৃত ঋণ ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আদায় ৫০ হাজার টাকা।
এ দিকে সরকারি আট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চলতি অর্থবছরে মোট ১৪ হাজার ২৬২ কোটি টাকা ঋণ (শ্রেণিকৃত ও অশ্রেণিকৃত) আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিকেবিকে আদায় করতে হবে ৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা (জুলাই-মার্চ সময়ে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৪১১ কোটি টাকা অর্থাৎ ৮১%)। রাকাবকে অর্থবছরে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা। ৯ মাসে আদায় হয়েছে এক হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা (৯৩%)। কর্মসংস্থান ৭১০ কোটি টাকা। আদায় ৭১৫ কোটি টাকা(১০১%)। আনসার-ভিডিপি ৬০০ কোটি টাকা। আদায় ৫০১ কোটি টাকা (৮৪%)। বিএইচবিএফসি ঋণ ৫৮০ কোটি টাকা। আদায় ৩৭০ কোটি টাকা (৬৪%)। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭২ কোটি টাকা। আদায় ৫৬ কোটি টাকা(৭৮%)। আইসিবির লক্ষ্যমাত্রা ১৫০০ কোটি টাকা। আদায় ৭৩৯ কোটি টাকা(৪৯%) এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার কোটি টাকা। জুলাই-মার্চ প্রান্তিকে আদায় ৫৪৩ কোটি টাকা(৫৪%)।

 


আরো সংবাদ

সকল




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi