২২ জুলাই ২০১৯

পদ্মার ভাঙনে আতঙ্কে টংগীবাড়ি ও লৌহজংয়ের ১০ গ্রামের মানুষ

মুন্সীগঞ্জে পদ্মার ভাঙন : নয়া দিগন্ত -

বর্ষার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পদ্মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। ভাঙনের তাণ্ডব দেখা দিয়েছে মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ি দীঘিরপাড়ের হায়ারপাড়, কামারখাড়া, হাসাইল বানারী ইউনিয়ন ও লৌহজংয়ের নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে। দীঘিরপাড়ের হায়ারপাড় এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। অপর দিকে লৌহজং উপজেলার সামুর বাড়ি এলাকা এবং হারিদিয়া, ডহরী ও বেজগাঁও গ্রামেও পদ্মার ভাঙনের তাণ্ডব চলছে। গত এক সপ্তাহে দুই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দীঘিরপাড় হায়ারপাড়, কামারখাড়া, হাসাইল বানারী নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায় সেখানকার নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষ অন্যত্র চলে গেছে। একটি মসজিদ ও একটি বাড়ি যেকোনো সময় পদ্মার পেটে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। লৌহজংয়ের ভাঙনকবলিত এলাকার লোকদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, এখনই নদীতে বিলীন হচ্ছে সামনে বর্ষা মওসুমে কী হবে আল্লাহই ভালো জানেন।
অন্য দিকে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দুই উপজেলার দীঘিরপাড়ারের হায়ারপাড়, কামারখাড়া, হাসাইল বানারী ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী এলাকা ও লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া, কুমারভোগ ইউনিয়নের শিমুলিয়া বাজার, খড়িয়া গ্রাম, মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রাম, যশলদিয়া গ্রাম, মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাটসহ পদ্মা তীরবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এসব গ্রামের অনেক পরিবার তাদের বসতবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া টংগীবাড়ি ও লৌহজং উপজেলার ১০-১২টি গ্রামের দুটি বাজার, একাধিক মসজিদ, মাদরাসা, বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের মুখে রয়েছে।
হায়ারপাড় এলাকার ফরিদ জানান, ৫০টি পরিবারের ৩ শ’ সদস্য নিয়ে নদীভাঙন আতঙ্কে রাত-দিন অতিবাহিত করছেন। প্রতিদিনই পদ্মায় ভেঙে পড়ছে। হায়ারপাড় আল মদিনা জামে মসজিদটি যেকোনো সময় রাক্ষুসে পদ্মার করাল গ্রাসে পড়ে অতল গভীরে চলে যেতে পারে।
টঙ্গিবাড়ীর বড়াইল গ্রামের মাসুম মোল্লা জানান, তিন বছরের ব্যবধানে তাদের পাঁচটি বাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। চলতি মওসুমে আবার ভাঙন শুরু হওয়ায় তাদের পরিবারসহ বড়াইল গ্রামের সাত শতাধিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে গেছে, কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে।
লৌহজং উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বর্ষা মওসুমের পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে প্রতি বছরই কিছুটা ভাঙন দেখা দেয়। তবে এবার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তারপরও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে জানাতে বলা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খন্দকার মুঈনুর রহমান জানান, শামুরবাড়ী, কামারখাড়া, ডহুরী বাজার, ডহুরাী গ্রাম, কলমায় নদী ভাঙনকবলিত এলাকায় নদী শাসনের কাজ চলছে। লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া, টঙ্গিবাড়ীর হায়ারপাড়, হাসাইল বানারী এলাকায়ও পর্যায়ক্রমে নদী শাসনের কাজ করব।

 


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi