২০ জুন ২০১৯

ঈদ কেনাকাটায় মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটছে দোকানিদের

বিপণিবিতানগুলো লোকারণ্য
-

ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে বিপণিবিতানগুলোয়। অভিজাত শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাথ পর্যন্ত সর্বত্রই লোকে লোকারণ্য। পছন্দের পোশাক কিনতে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সৌখিন ক্রেতারা। আর নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরায় সেই হতদরিদ্র মানুষগুলোও প্রিয়জনের জন্য নতুন কাপড় কিনতে ছুটছেন ফুটপাথ কিংবা মওসুমি মেলায়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা। দম ফেলার সময় নেই তাদের, নেই দামাদামির সুযোগও। আগামী কয়েক দিনে কেনাকাটার ব্যস্ততা আরো বাড়বে বলে অনুমান করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল শনিবার সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীর শপিংমলগুলোয় দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। যে দিকে তাকানো যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। হাতে হাতে ব্যাগ। কেউ কিনেছেন পোশাক, কেউ জুতা, কেউ প্রসাধনী। কেউ পোশাক পছন্দ করছেন, কেউবা দরদাম জিজ্ঞেস করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একই চিত্র। রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, গাজী ভবন, পলওয়েল মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক, কনকর্ড শপিংমল, রাপা প্লাজা প্রভৃতি মার্কেট এবং আশপাশের এলাকায় মানুষের ভিড়ে চলাফেরা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। লেগে থাকছে দীর্ঘ যানজন। আর শোরুম হিসেবে আড়ং, অঞ্জনস, রিচম্যান, সেইলরস, লুবনান, ইয়েলো, ইনফিনিটি, কে ক্রাফট, ফ্রিল্যান্ড, রেড, সিক্স লাইফ স্টাইল প্রভৃতি দেশী ফ্যাশন হাউজে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড় লেগেই আছে।
বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদ উৎসবকে অন্য সময়ের তুলনায় একটু আলাদাভাবেই গুরুত্ব দিয়ে পোশাকে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করে থাকে বিক্রেতারা। আর সেটা টিয়ে তোলা হয়, রঙ আর নকশার মাধ্যমেই। এবারের ঈদ পোশাকেও তার ব্যতিক্রম নয়। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ ও ছোটদের পোশাকসহ সবকিছুতেই আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। অন্যান্যবারের তুলনায় এবারে পাঞ্জাবির ডিজাইনে নতুনত্ব এসেছে অনেক বেশি। কাপড়গুলোও বেশ আরামদায়ক করা হয়েছে; গরমের বিষয়টা মাথায় রেখে। আর দামের দিক থেকেও রয়েছে মোটামুটি সাধ্যের মধ্যেই। আর মেয়েদের সালোয়ার-কামিজে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে গলা ও হাতায়। এবার অফ শোল্ডার বা কাঁধ থেকে একটু নামানো সালোয়ার-কামিজও খুঁজছেন অনেকে। হাতায় এবার ঢোলা কাট বা চোস্তের মতো কুচি কিংবা বাটন দেয়া থাকবে। গরমের কারণে আরামের বিষয়টিও থাকছে উপকরণে।
বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ে বিক্রেতাদের দম ফেলার সময় নেই। ঈদ উপলক্ষে শপিংমলের সব দোকানই সেজেছে ঈদের আমেজে। দোকানগুলোর সামনে বাহারি রঙের পোশাক টানিয়ে রেখেছেন দোকানিরা। সবাই দোকানে তুলেছেন হালের কালেকশন। দোকান ও শোরুমগুলোতে ক্রেতাদের যেমন ভিড়, তেমনি ছিল দর্শনার্থী এবং পণ্যের দাম যাচাই করতে আসা মানুষেরও। শালিমারের ম্যানেজার আব্দুল কাইয়ুম জানান, সাত হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা মূল্যের কাঞ্জিবরণ এবং দুই হাজার থেকে আড়াই হাজারের মধ্যে সুতি শাড়ির চাহিদা বেশি। এর বেশি দামের শাড়ির চাহিদা কিছুটা কম। তবে অনেক মানুষ কিনছেন, আবার কেউ কেউ দেখছেন।
সারা বছর তেমন বেচাকেনা না হলেও ঈদ উপলক্ষে বেশ জমেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক। এখানকার ফ্যাশন হাউজগুলো ঘুরে দেখা মিলল ঈদ-পোশাকে ঋতুবৈচিত্র্যের নানা রূপ। বিশেষ করে দেশীয় ব্র্যান্ডের পোশাকে ঈদের আনন্দ ও আভিজাত্যে যুক্ত হয়েছে গ্রীষ্ম ও বর্ষার নান্দনিকতা এবং আরাম ভাবনা। সেটা কী কাপড়ে, কী রঙে, কী নকশায়।
লুবনানের বিক্রেতা নূর আলম জানান, রোজা বাড়ার সাথে সাথে লোকসমাগমও বাড়ছে। বিক্রি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। ঈদ পর্যন্ত এ রকম চললে খুব ভালো ব্যবসা হবে। এই দোকানের শার্ট ও পাঞ্জাবির প্রতি বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের। এক হাজার ৩৫০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকার শার্ট, এক হাজার ৬৯০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকার পাঞ্জাবির প্রতি ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ বলে তিনি জানান।
মগবাজার আড়ংয়ে গিয়ে দেখা যায় চার দিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। চারতলা ভবনের কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সবাই কেবল পোশাক পছন্দ করছেন। কারো সাথে কারো কথা সময় নেই। বেশির ভাগ জামা-কাপড়েরই দ্বিতীয় পিস নেই। নেই আকার পরিবর্তনের সুযোগও। বিক্রয়কর্মীরা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিচ্ছেন, ছোট-বড় হবে না। ডিসপ্লেতে যা আছে তাই। মানুষ হুমড়ি খেয়ে তাই কিনছেন। বিক্রয়কর্মীরা জানান, এবারের ঈদে পেস্ট, নীল, আকাশি, বেগুনি, সাদা ও সবুজ রঙ্গের পোশাক বেশি বিক্রি হয়েছে। আর কাপড়ের ক্ষেত্রে সুতি, সিল্ক, এন্ডি সিল্ক, এন্ডি কটন। তারা জানান, প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রস্তুতি এমন আছে যাতে চাঁদরাত পর্যন্তু ক্রেতাদের ভিড় সামাল দেয়া যাবে।
বসুন্ধরা দিচ্ছে গাড়ি উপহার : বরাবরের মতো এবারো বসুন্ধরা শপিংমলের ক্রেতাদের জন্য রয়েছে গাড়ি জেতার সুযোগ। কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই শপিংমলে ঈদুল ফিতরের আগের দিন (চাঁদরাত) পর্যন্ত প্রতি এক হাজার ৫০০ টাকার কেনাকাটায় একটি স্ক্র্যাচ কার্ড পাবে ক্রেতা। যে যত বেশি কেনাকাটা করবে, তত বেশি স্ক্র্যাচ কার্ড পাবে এবং পুরস্কার বিজয়ী হবে। পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে প্রাইভেট কার, ডায়মন্ড সেট, ইয়ামাহা মোটরসাইকেল, মিনিস্টার ফ্রিজ, এলইডি টিভি, ডায়মন্ড রিং, স্মার্ট ফোনসহ নানা উপহারসামগ্রী।
যমুনায় কোটি টাকার উপহার : ‘কোটি টাকার ঈদ উপহার’ ক্যাম্পেইনের আওতায় যমুনা ফিউচার পার্কের যেকোনো শোরুম থেকে কেনাকাটা করে যে কেউ পেতে পারেন মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজ, স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক আইটেমসহ নানা পণ্য। এ ছাড়া প্রতিটি কেনাকাটার বিপরীতে ক্রেতারা নিশ্চিত উপহার পাবেন। যমুনা ফিউচার পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে ক্রেতাকে ন্যূনতম এক হাজার টাকার কেনাকাটা করতে হবে। এরপর গুগল প্লেস্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক অ্যাপ ডাউনলোড করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তাতে কেনাকাটার বিবরণ দিলেই ক্রেতা তৎক্ষণাৎ নিশ্চিত উপহার পাবেন। গিফট বুথ থেকে সাথে সাথেই সংগ্রহ করতে পারছেন তার গিফট।


আরো সংবাদ