২৪ জুন ২০১৯

অ্যাপসে মিলছে না ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে বিক্রির আশঙ্কা

-

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর বিমানবন্দর রেল স্টেশনে গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী গন্তব্যর ২ জুনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে। এ দিন স্টেশনে টিকিট নিতে আসা কিছু টিকিট প্রত্যাশী অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের চালু হওয়া মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে কোনভাবেই টিকিট কেনা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তারা টিকিট কিনতে ভোরেই স্টেশনের কাউন্টরের লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়েও তারা পড়েছেন ভোগান্তিতে। কারণ এক জায়গায় অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরও লাইন এগোচ্ছে না।
ভোর পৌনে ৬টায় ধানমন্ডি ১৫ নম্বর থেকে টিকিটের জন্য বিমানবন্দর আসেন মঈন উদ্দিন মো: তারেক নামের এক যুবক। তিনি লাইনে দাঁড়িয়েও অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট কেনার প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টা করেও তার ভাগ্যে টিকিট জোটেনি। তারেক বলেন, রেলসেবা অ্যাপসে ৫০ ভাগ টিকিট বরাদ্দ দেয়া থাকলেও যতবার চেষ্টা করেছি, ততবারই সার্ভার ডাউন পাচ্ছি। কোনোভাবেই টিকিট কিনতে পারিনি। তাই টিকিট নিতে ধানমন্ডি থেকে বিমানবন্দর স্টেশনেই চলে এসেছি। পাশেই ৭ নম্বর কাউন্টারের সামনে দাঁড়ানো আরেক যাত্রীর অভিযোগ,প্রায় এক ঘণ্টা ধরে একই স্থানে দাঁড়িয়ে আছি। তাহলে টিকিটটা পাচ্ছে কে? অ্যাপে টিকিট বিক্রির প্রথম দিনই বলা হলো ৭০ শতাংশ টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। অথচ অ্যাপসে কাজ করছে না! কাজ করলে অ্যাপসে ৭০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হলো কিভাবে? তবে অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট মিলেছে বলে জানান মো: জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট পাওয়ায় তিনি বাড়ির উদ্দেশে ফেরার সময় সাংবাদিকদের জানান, সেহরির পর থেকে আমার বড় ভাই অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট টাকার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সাবমিট নিচ্ছিল না। তখনই আমি টিকিটের জন্য বিমানবন্দর স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিই। ভোর সাড়ে ৫টায় স্টেশনে এসে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়াই। সকাল ৯টায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ঠিক ৯টা ১৫ মিনিটে বড় ভাই ফোন করে জানান, অনলাইনে তিনি টিকিট পেয়েছেন। তাই এখন আমি বাসায় ফিরে যাচ্ছি। বিমানবন্দর স্টেশন মাস্টার মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, আজকে যাত্রীদের যে ভিড় দেখা যাচ্ছে, সেটা স্বাভাবিক ভিড়ের মতোই। যাত্রীরা অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট কাটতে পারছে না, এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অ্যাপসের হিসাব আমাদের কাছে নাই। আমাদের জন্য যে টিকিট বরাদ্দ আছে, তার সবই আমরা যাত্রীদের দিয়ে দিচ্ছি। অ্যাপসে টিকিট কিনতে ভোগান্তি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো: মিয়াজাহান তার কার্যালয়ে নয়া দিগন্তের এ প্রতিবেদককে বলেন, সিএনএসবিডি কম পুরো কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। তাদেরকে সমস্যা সমাধানে পাঁচ দিনের সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা যদি সমাধান করতে না পারেন তাহলে অ্যাপসের অবিক্রীত টিকিটগুলো আমরা ২৭ মে থেকে কাউন্টারে বিক্রির জন্য দিয়ে দেবো। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মূলত সিএনএসবিডি.কম এর সার্ভারটি পুরনো। গতি কম থাকার কারণে সমস্যা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা ঈদে ঘরমুখো ট্রেনের যাত্রীদের জন্য পাঁচ-ছয় দিনের জন্য স্ট্যান্ডিং টিকিটসহ সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ যাত্রীর চাহিদা পূরণ করতে পারব। এর বেশি পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব না।
এ দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে রাতভর লাইনে দাঁড়িয়েও যারা টিকিট কিনতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন এবারো নানা কৌশলে টিকিট কালোবাজারে চলে যাবে। দালাল চক্র লাইনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল দিয়ে টিকিট নিয়ে যাচ্ছে। তাদের সাথে স্টেশনের কেউ না কেউ জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে কালোবাজারি ঠেকাতে র্যাব পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রেলওয়ের মনিটরিং দলের সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।


আরো সংবাদ