২২ মে ২০১৯

এলডিপির গোলটেবিল সভায় বক্তারা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে

এলডিপির আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন কর্নেল (অব:) অলি আহমদ হনয়া দিগন্ত -

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে আরো শক্তিশালী করতে নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বলেছেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে বসে থাকলে চলবে না। আমরা বিএনপিকে বলব- হয় আপনারা নেতৃত্ব দেন, না হলে আমাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন। গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এলডিপি আয়োজিত ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে অলি আহমদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জেলে থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া সম্ভব নয়। তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডন থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকাও সম্ভব নয়। সুতরাং আমাদেরই সেই দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমি সেই দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রস্তুত। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, বিএনপিকে তথা নেতাদের অনুরোধ করব- আপনারা নেতৃত্ব দেন, তা না হলে আমাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না।
অলি আহমদ বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্র ফের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক জায়গায় একত্রিত হোন। আমাদের হাতকে শক্তিশালী করুন। তা না হলে আপনাদের হাত শক্তিশালী করার জন্য আমাদের বলেন, আমরা সেটা করতে রাজি।
তিনি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিতে গিয়েও পারি নাই, এবার স্বৈরশাসকের হাতে জীবন দিতে প্রস্তুত আছি। বিএনপির যারা আছেন, আপনারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। কারা কারা আসবেন, আমাদের সাথে আসেন। এলডিপিকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। আপনারা নতুনভাবে এটার নামকরণ করেন। আমার নেতৃত্বে আসতে হবে, এটাও নয়। আপনাদের মধ্যে যদি কেউ নেতৃত্ব দিতে পারে, তার নেতৃত্বেও আমরা কাজ করতে প্রস্তুত; যার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে জাতির কাছে। যে জাতির সাথে বেঈমানি করেনি, যার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যে কারো সাথে আপস করবে না, দুর্নীতির কাছে মাথা নত করবে না। তাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে আমার কোনো আপত্তি নেই।
গোলটেবিল আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মাদ গোলাম পরওয়ার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, নিলোফার চৌধুরী মনি, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
‘বিএনপি সংসদে গিয়ে সরকারকে বৈধতা দিয়েছে’ মন্তব্য করে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, আজ এখানে ২০ দলীয় জোটের অনেকে আছেন। আপনাদের অনুরোধ করব, অন্য দিকে তাকানোর সুযোগ নেই। আপনারা এখানে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে বিভিন্নভাবে ব্যাখা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আসলে আপনাদের এটার মূল স্পিরিটটা দেখতে হবে। বিএনপি সংসদে গেছে, এটাই হলো বাস্তবতা। বিএনপি এ সরকারকে বৈধতা দিয়েছে- এটাই হলো বাস্তবতা।
তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন মানে এটা নয় যে, আড়াই বছর পরে নির্বাচন হবে। এটা কালও হতে পারে, পরশুও হতে পারে। আপনাদের কে বলেছে আগামী নির্বাচনও এ সরকারের অধীনে হবে? এ সরকারের অধীনে তো আমরা নির্বাচন করে দেখলাম। এরা তো দিনের বেলা নির্বাচন করে না। কারণ তারা দিনের আলোতে ভয় পায়, রাতের বেলা অন্ধকারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তারা নিশাচর, তাই আমাদেরও মশাল হাতে নিয়ে বের হতে হবে। নিশাচরদের তালাশ করে বের করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে মুক্তির আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের সাথে ছিল এবং থাকবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার টেলিফোন আলাপ, যেটা মিডিয়ায় এসেছে তাতে প্রমাণিত হয় বেগম জিয়া আদালতের কাছে আটকে যায়নি, তাকে আটকে রাখা হয়েছে তিনি মূলত ফ্যাসিবাদের জিঞ্জিরায় আবদ্ধ হয়ে আছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মুক্তির আন্দোলন একই সংগ্রাম। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ বর্তমানে ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট বলি আর ২০ দল বলি আমাদের সবাইকেই কৌশলের বিষয়ে স্পষ্ট হতে হবে। জনগণের সাথে আমরা রাজনীতি করি তাদের সেন্টিমেন্ট যদি আমরা না বুঝি সেটাকে মানুষ কোনোভাবেই কৌশল হিসেবে নেয় না।
ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে দেশবিরোধী ভূমিকা পালনের জন্য দলটিকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে। ২০ দলের অন্যতম শরিক দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তারা যদি সত্যিকার অর্থে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় তাহলে তাদের জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বের করে আনতে সামগ্রিক আন্দোলনের প্রয়োজন। সেই আন্দোলনের মূল ভূমিকা বিএনপিকেই রাখতে হবে। বিএনপিকে সব ধরনের ভুল-ত্রুটি ভুলে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কাজ করতে হবে।
‘খালেদা জিয়াকে আটক রেখে প্রধানমন্ত্রী ভুল করছেন’ এমন মন্তব্য করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনি মহাভুল করছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন। তারপর তিনি যখন গ্রেফতার হন তখন সেনানিবাসে আবদ্ধ ছিলেন। এরপর ধানমন্ডির বাড়িতে দু’জনই একসাথে ছিলেন। কিন্তু আজ একজন বন্দী আর একজন বাইরে। আপনি আত্মরক্ষা করতে চান তাহলে আর দেরি না করে খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যবস্থা করে দিন।

 


আরো সংবাদ

কাশ্মীরে নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতনের লোমহর্ষক বিবরণ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী পেশাজীবীদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার ৬ মাস পর কারামুক্ত বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে তিন মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ২ জুলাই ৩ টাকার বালিশ তুলতে খরচ ৫ টাকা? রুমিন ফারহানার প্রার্থিতা বৈধ কৃষকেরা অধিকার থেকে বঞ্চিত : মাওলানা আতাউল্লাহ শাহজালাল বিমানবন্দরে সোয়া ৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ একজন গ্রেফতার পশ্চিম রাজাবাজারের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি আওয়ামী লীগ-বিএনপির তরুণ নেতাদের

সকল




agario agario - agario