১৮ আগস্ট ২০১৯

  বোয়ালমারীতে আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

-

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ৯ জনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের চণ্ডিবিলা গ্রামে সংঘর্ষ হয়। আহতরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের সহায়তায় এ হামলা চালানো হয়েছে।
হামলায় আহতদের মধ্যে ঘোষপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মুন্নু মোল্যা (৪২), স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ কর্মী কাজী রফিউদ্দিন (৬০), তার ছেলে কাজী শামীম (৩৫), মোস্তফা মোল্যা (৫০), সাইফুর রহমান (৫০), আবদুর রাজ্জাক (৭০), মতিয়ার রহমান (৫০), কবির হোসেন (৫৫) ও সাহেব আলীকে (২৬) ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক এস এম ফারুক হোসেন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চান মিয়া এবং আলাউদ্দিন আহমেদের সমর্থক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জামাল মেম্বার ও আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠি নিয়ে ঘুমন্ত মানুষদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আগের রাতে বোয়ালমারী থানা পুলিশের সাথে আতাত করে এ হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে আওয়ামী লীগ নেতা ও ঘোষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চান মিয়া বলেন, আগের দিন রাতে আমার লোকদের ওপর ঘোষপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের লোকেরা হামলা চালিয়ে আহত করে। এ কারণে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
হামলায় আহত কাজী রফিউদ্দিনের মেয়ে কাজী শাহনাজ বলেন, ভোরে সাহরি খেয়ে আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। এরপর সকালে ঘুম ভাঙলে দেখি লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলাকারীরা আমাদের বাড়িঘর ঘিরে রেখেছে। এরপর আমার বাবা ও দুই ভাইকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তিনি বলেন, ওদের সাথে আমাদের জায়গাজমি বা অন্য কিছু নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। শুধু আধিপত্য বিস্তারের জন্যই এভাবে ওরা নৃশংসভাবে হামলা করেছে।
হামলায় আহত রাখাগাছি গ্রামের সাহেব আলী বলেন, আমরা পাঁচজন সকালে চণ্ডিবিলা গ্রামে কাজী রফিউদ্দিনের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। এ সময় ওরা এসে আমাদের প্রথমে পিটিয়ে সারা শরীর থেতলে দেয়। এরপর সড়কি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। হামলার ব্যাপারে পুলিশের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘোষপুর ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি ঘোষপুর ইউনিয়নের বালুমহাল ইজারাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চাঙ্গা হয়ে ওঠে। মাসখানেক আগেও দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে সাতজন আহত হন।

 


আরো সংবাদ

রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময়ে এক সেনাসদস্য নিহত স্মিথের বদলি লাবুশানে; টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার এখন ফ্যাসিস্ট মোদির হাতে : ইমরান খানের হুঁশিয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনো ঘড়যন্ত্র করছে : আইনমন্ত্রী দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো একটি পরিবার, ঈদ আনন্দে বিষাদের ছায়া ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদক হতে ইচ্ছুক ১০৮ তরুণ নেতা মানিকগঞ্জে বেড়েই চলছে ডেঙ্গু রোগী সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গু রোগে আক্রন্ত কলেজ ছাত্রের মৃত্যু উপকূল সুরক্ষায় ৬৪২ কিলোমিটার সুপার ডাইক নিমার্ণের উদ্যোগ ছাগলের ক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধা খুন

সকল




bedava internet