২৩ আগস্ট ২০১৯
নিহত সেতুর বাড়িতে ইউএনও

ধর্ষকরা সমাজের জঘন্যতম কীট

সেতু মণ্ডলের স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন সিরাজদিখানের ইউএনও আশফিকুন নাহার; ইনসেটে সেতু :নয়া দিগন্ত -

‘যারা ধর্ষক তাদের কোনো ধর্ম নেই, কোনো ধর্মেই পাপকাজের স্থান নেই, ধর্ষকরা কোনো মানুষ না তারা সমাজের জঘন্যতম কীট’। গতকাল শনিবার সকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফিকুন নাহার গোয়ালখালী গ্রামের স্কুলছাত্রী সেতু মণ্ডলের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন। নিহত সেতু মণ্ডলের পরিবারকে তিনি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে এই ধর্ষকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব এবং তাদের শাস্তি নিশ্চিত করব। সেতু মণ্ডলের মৃত্যুকে শুধু আত্মহত্যা বললে ভুল হবে। কারণ আমরা তার মা-বোনের কাছ থেকে যে বক্তব্য পেয়েছি তাতে বোঝা যাচ্ছে তাকে জোর করে হোক বা প্রলুব্ধ করেই হোক যেই ছেলেগুলোর নাম এসেছে তারা নিয়ে নির্যাতন করেছে। মেয়েটি তার পরিবারের কাছে ফিরে আসার পর মানসম্মানের ভয়ে হয়তো তার পরিবারের কিছু ভুল ছিল। তারা আমাদের কাছে আগে শরণাপন্ন হলে আমরা হয়তো মেয়েটির জীবন রক্ষা করতে পারতাম। কিন্তু যারা দোষী তাদের শাস্তি অবশ্যই হবে। তাদের আমরা মোটামুটি শনাক্ত করতে পেরেছি। দু’জন আটক হয়েছে। বাকি আরো কয়েকজনকে সন্দেহভাজন মনে করা হচ্ছে। তাদেরও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইতোমধ্যে আমাদের কাছে একটি নির্দেশনা এসেছে প্রতিটি স্কুলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধমূলক কমিটি গঠনের জন্য। শিগগিরই সেটিকে বাস্তবায়ন করব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কান্তা পালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
এ দিকে সেতু মণ্ডলের মা ইউএনওর কাছে অভিযোগ করে বলেন, গোলামবাজার থেকে পুলিশ তার মেয়েকে উদ্ধার করার পর তাকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে স্থানীয় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কবিরুল ইসলাম। সেতুর মা টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করার পর কবিরুল ইসলাম সেতুকে কোর্টে প্রেরণ করার হুমকি দেয়। পরে তিনি তার প্রবাসী স্বামীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা এনে এসআই কবিরুল ইসলামকে দিয়ে মেয়েকে ছাড়িয়ে আনেন। তিনি আরো বলেন, টাকা গেল আফসোস নেই কিন্তু আমার সন্তানটাও বিদায় নিলো আমাদের কাছ থেকে। এ কষ্ট আমি কোথায় রাখব? পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেতুর মায়ের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের অযৌক্তিক দাবি কোনোভাবেই বৈধ নয়। কাজেই তার বিরুদ্ধেও অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং আমার অথরিটির কাছে এই অভিযোগটি তুলে ধরব প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলে নিখোঁজ হয় সেতু মণ্ডল। পরদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার গোলামবাজার থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে দেন। উদ্ধারের ছয় দিনের মাথায় গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। অপর দিকে পুলিশের ধারণা মেয়েটি ধর্ষণের স্বীকার হয়েছিল এবং কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিল। এতে মেয়েটি কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় আসার পরই আত্মহণনের পথ বেছে নেয়। ওসি সেতু মণ্ডলের মা রেখা মণ্ডলের বরাত দিয়ে বলেন, মানসম্মানের ভয়ে তারা মুখ খুলেননি। হাসপাতালে পর্যন্ত নেননি। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet