২০ মে ২০১৯

স্টলে উপচেপড়া ক্রেতা

-

জমেছে গ্রন্থমেলা। ছুটির দিন না থাকলেও গতকাল মঙ্গলবার মেলায় ছিল প্রচণ্ড ভিড়। প্রতিটি স্টলে ছিল উপচেপড়া ক্রেতা। অনেককেই ভিড় ঠেলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বই কিনতে হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, শেষ দিকে এসে জমেছে মেলা। গেট খোলার সাথে সাথেই দলবেঁধে আসছেন বইপ্রেমীরা। তারা জানান, এবার আড্ডা কম, ক্রেতা বেশি। সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় বিকেল ৪টার পর। শেষ অবধি মেলা থাকে জমজমাট।
গতকাল মেলা ঘুরে প্রতিটি স্টলেই ভিড় লক্ষ করা যায়। লেখক বলছি মঞ্চ, প্রকাশন মঞ্চ থেকে শুরু করে সর্বত্রই ছিল লোকে লোকারণ্য। সে সাথে খাবারের স্টলগুলোতেও বসার স্থান সঙ্কুলান হচ্ছিল না।
আদী প্রকাশনের মোকলেছ জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন দিনদিন বিক্রি বাড়ছে। সুবর্ণের স্টলে থাকা আখতার হোসেন বলেন, এখন মেলায় প্রচুর ক্রেতা আসছেন। তবে তাদের স্টলে সায়েন্স ফিকশন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
বই কিনতে আসা লোকমান আহমদ জানান, প্রচণ্ড ভিড়। প্রতিটি স্টলে অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে বই কিনতে হচ্ছে। তবে সায়েন্স ফিকশন তিনি বেশি পছন্দ করেন। প্রথমা প্রকাশনেও ছিল বেশ ভিড়। স্টলের বিক্রেতারা জানান, অন্যান্য বইয়ের সাথে আসিফ নজরুলের বইও ভালো বিক্রি হচ্ছে।
মেলায় এসেছে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বই আমাদের বিপন্ন পরিবেশ। বইটি প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন। হাবীবুল্লাহ সিরাজী ম্লান, ম্রিয়মাণ নয় বইয়ের সংস্করণ। এটি প্রকাশ করেছে টাঙ্গন। রকিব হাসানের পার্টি রহস্য। বইটির প্রকাশক কালো। এ ছাড়া এসেছে ‘পাতায়া বিচের লিয়ানা’, এটি লিখেছেন ডা: আনিস আহমেদ। বইটি প্রকাশ করেছে মুক্ত চিন্তা।
গতকাল নতুন বই এসেছে ১৪২টি। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন বড়–য়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আলম তালুকদার, আসলাম সানী, লুৎফর রহমান রিটন, আমীরুল ইসলাম ও আনজীর লিটন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।
প্রাবন্ধিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি বাতিঘর। সব জাতির জীবনে এমন আলোকবর্তিকা অর্জনের সৌভাগ্য হয় না। সে ক্ষেত্রে বাঙালি সৌভাগ্যবান জাতি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বিশ্বে এমন দেশই-বা কয়টি আছে? সুতরাং মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহঙ্কার। মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতিসত্তাকে উজ্জীবিত করেছে নতুনভাবে। শিল্প-সংস্কৃতির অন্যান্য শাখার মতো ছড়াসাহিত্যে ঘটেছে এর উজ্জ্বল প্রতিফলন। বিশেষত স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে স্বতন্ত্র সাহিত্যমাধ্যম হিসেবে ছড়াসাহিত্য পেয়েছে পূর্ণ মর্যাদা। মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যকে দিয়েছে মৌলিক ভিত্তি।
আলোচকরা বলেন, ছড়া কেবল শিশুতোষ বিষয় নয়। ছড়ার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয় জাতির আত্মা। বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে এ দেশের মহান মুক্তিসংগ্রাম উদ্ভাসিত হয়েছে অনন্য ব্যঞ্জনায়, আবার ছড়াই আমাদের মুক্তিসংগ্রামকে দিয়েছে বিপুল বেগ; কারণ ছড়ার সহজাত আবেগ সাধারণ মানুষকে স্পর্শ করে বিপুলভাবে। তারা বলেন, বাংলাদেশের ছড়াকাররা এ আবেগকে কোনো স্থূল অর্থে ব্যবহার না করে একে সংযুক্ত করেছেন গণমানুষের মুক্তির শাশ্বত সংগ্রামে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রূপায়িত হয়েছে নানা মাত্রায়। লোকায়ত ধারা থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত এ দেশের ছড়াসাহিত্যের মৌল মর্মে রয়েছে জনমানুষের মুক্তির চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্য তাই এক অভিন্ন অনুভবের নাম। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন মতীন্দ্র মানখিন, ফারুক মঈনউদ্দীন, ওবায়েদ আকাশ, রেজা ঘটক, আলতাফ শাহনেওয়াজ এবং বদরুল হায়দার। কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি রবীন্দ্র গোপ, মতিন বৈরাগী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রেজিনা ওয়ালী, এনামুল হক বাবু। এগনেস র্যাচেল প্যারিসের পরিচালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ ‘গীতিনাট’ পরিবেশন করেন এবং শাহাবুদ্দিন আহমেদ দোলনের পরিচালনায় ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন : ‘সুর ধারা সঙ্গীতায়ন’-এর পরিবেশনা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী শারমিন সুলতানা, সুমন চন্দ্র দাস এবং মো: জাকির হোসেন। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন অভিজিৎ রায় (তবলা), হোসেন আলী (বাঁশি), শ্যামা প্রসাদ মজুমদার (কিবোর্ড) এবং এস এম তৌহিদ সরকার (দোতারা)।
আজকের অনুষ্ঠান : আজ বুধবার মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সওগাত পত্রিকার শতবর্ষ : ফিরে দেখা শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন হাবিব আর রহমান, সোনিয়া নিশাত আমিন, আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ড. মুহাম্মদ সামাদ। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 


আরো সংবাদ