২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগে নতুন শর্ত আরোপে ক্ষুব্ধ শিক্ষকেরা

শিক্ষায় বৈষম্য ৩
-

আগে প্রভাষক এবং সহকারী অধ্যাপকরা অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে পারতেন। কিন্তু গত বছর জারি করা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় এ নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক এবং ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ পদে এখন আবেদন করতে হলে উপাধ্যক্ষ পদে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অর্থাৎ উপাধ্যক্ষ না হয়ে কেউ অধ্যক্ষ হতে পারবেন না। আর উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে ভাইস পিন্সিপাল পদেও আবেদন করার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে প্রভাষকদের। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল পদে আবেদন করতে হলে তাকে সহকারী অধ্যাপক হতে হবে।
গত বছরের জারি করা নীতিমালায় এ নিয়ম চালু করার কারণে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা বিরাজ করছে কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে।
আগে কলেজের একজন শিক্ষক ১৫ বছর প্রভাষক পদে শিক্ষকতা করলেই তিনি অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে পারতেন। আর সহকারী অধ্যাপক পদে তিন বছর শিক্ষকতা করলে তিনিও অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে পারতেন এবং অধ্যক্ষ হতে পারতেন। আর প্রভাষকরা ১২ বছর শিক্ষকতা করলে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে আবেদন করতে পারতেন। এখন তাদের আর সে সুযোগ নেই। শুধু ডিগ্রি কলেজে প্রভাষকদের ভাইস প্রিন্সিপাল পদে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ক্ষুব্ধ অনেক শিক্ষক জানান, বর্তমানে বেসরকরি কলেজে অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন যারা ২৫ থেকে ২৬ বছর পর্যন্ত লেকচারার বা প্রভাষক পদে শিক্ষকতা করছেন। সরকারের নীতিমালার কারণে তারা সহকারী অধ্যাপক হতে পারছেন না। অথচ তাদের অনেকে উচ্চ শিক্ষিত এবং অধ্যাপক হওয়ার যোগ্য। তাদের অনেকে কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ারও যোগ্য। কিন্তু সরকার নিয়ম করে তাদের প্রথমে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বন্ধ করেছে। এরপর নিয়ম করে তাদের বেতনও কমিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছে। আর এখন তাদের অধ্যক্ষ হওয়ার পথও রুদ্ধ করে দেয়া হলো।
অপর দিকে উচ্চমাধ্যমিক কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল পদেও প্রভাষকদের আবেদন করার অধিকার কেড়ে নেয়ায় ভবিষ্যতে কলেজ প্রশাসনে যোগ্য নেতৃত্বের সঙ্কট সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন অনেকে।
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সহসভাপতি নারায়ণগঞ্জের হাজী বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হারুনুর রশীদ অধ্যক্ষ এবং উচ্চমাধ্যমিক কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল পদের জন্য নতুন এ নিয়মের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, এতে করে কলেজে নেতৃত্বের সঙ্কট দেখা দেবে। কারণ বেসরকারি কলেজে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে যাদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হয় সেটা যোগ্যতার ভিত্তিতে নয় বরং জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে। ফলে সরকারের আরোপ করা আনুপাতিক নিয়মের কারণে যেসব এমপিওভুক্ত প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান না তাদের মধ্যে অনেক যোগ্য লোক বাদ পড়ে যান। কিন্তু আগে তারা সরাসরি বিভিন্ন কলেজে অধ্যাপক পদে, ভাইস প্রিন্সিপাল পদে আবেদন করতে পারতেন এবং তারা নিয়োগ পেলে প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে তারা তাদের মেধা কাজে লাগাতে পারতেন। কিন্তু এখন তাদের সে সুযোগ আটকে দেয়া হলো।
ব্রাহ্মহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় অবস্থিত গোপীনাথপুর আলহাজ শাহ আলম কলেজের সহকারী অধ্যাপক কাজী আশরাফুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের কোথাও বদলির কোনো সুযোগ নেই। অধ্যপক্ষ পদে, ভাইস প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগের মাধ্যমে প্রভাষক এবং সহকারী অধ্যাপকরা অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার একটা সুযোগ পেতেন। তা ছাড়া তাদের বেতনও অনেক বাড়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাদের এ সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হলো। তিনি আফসোস করে বলেন, সরকারের আরোপিত নিয়মের কারণে যেসব এমপিওভুক্ত প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক হতে পারতেন না তাদের মধ্যে যারা যোগ্য তাদের জন্য ভালো একটা সুযোগ ছিল অধ্যক্ষ পদে এবং উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ লাভের। এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গেল।
আশরাফুজ্জামান বলেন, এমনিতেই পদোন্নতিবঞ্চিত প্রভাষকরা ভীষণভাবে হতাশায় নিমজ্জিত। সরকারের এ নতুন নিয়মের কারণে তাদের হতাশা বঞ্চনা আরো বাড়ল।
বেসরকরি স্কুল-কলেজ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ তে বলা হয়েছে ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজে অধ্যক্ষ হতে হলে ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ অথবা উচ্চমাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ অথবা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সাথে প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক পদে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ হতে হলে উপাধ্যক্ষ পদে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সাথে প্রভাষক অথবা সহকারী অধ্যাপক পদে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা।
অপর দিকে ডিগ্রি কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল বা উপাধ্যক্ষ পদে প্রভাষকদের আবেদন করার সুযোগ থাকলেও উচ্চমাধ্যমিক কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে প্রভাষকদের আবেদনের সুযোগ রাখা হয়নি। উচ্চমাধ্যমিক কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে আবেদন করতে হলে সহকারী অধ্যাপক হতে হবে।
উচ্চমাধ্যমিক কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে প্রভাষকদের আবেদনের সুযোগ বন্ধ করা হলেও ডিগ্রি কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে প্রভাষকদের আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। একে অনেক শিক্ষক স্ববিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme