১২ ডিসেম্বর ২০১৮

আ’লীগ-বিএনপি উভয় দলেই একাধিক প্রার্থী

ঝিনাইদহ-২ আসন
-

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ ও গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রে তদবির থেকে শুরু করে নিজ নিজ গ্রুপের পাল্লা ভারী করার জন্য মাঠে ময়দানে কাজ করে চলেছে। ঝিনাইদহ-২ আসন (সদরের একাংশ ও হরিণাকুণ্ডু) থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি থেকে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তারা বিশেষ বিশেষ দিন উপলক্ষে মোড়ে মোড়ে ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দাবি এলাকায় গ্রুপিং কোন্দল নেই, দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তাকেই বিজয়ী করার জন্য কাজ করবে তারা।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে যারা চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগে সদ্য যোগদানকৃত তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি, সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস।
সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু এলাকায় থাকেন ও সব সময় জেলার উন্নয়নে কাজ করেন, তিনি যুবসমাজের কাছে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। অন্য দিকে সদ্য যোগদানকৃত সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি সপ্তাহে দুই দিন এলাকায় আসেন। তার নিজের প্রোগ্রাম শেষে তিনি ঢাকায় চলে যান। তিনি পাওয়ার প্লান্ট ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। অপর সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু তিনিও গার্মেন্ট ব্যবসা করেন। সে কারণে এলাকায় মাঝে মধ্যে আসেন।
এ দলের মধ্যেও একাধিক গ্রুপে বিভিক্ত ও দলীয় কোন্দল প্রকাশ্য রয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কেন্দ্রে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন নিজ নিজ মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের গ্রুপ শক্তিশালী করার জন্য মাঠে কাজ করে চলেছেন। এসব প্রার্থী গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন; যার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা পড়েছেন বিপাকে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, দলে কোনো কোন্দল নেই, নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তাকে বিজয়ী করার জন্য ভোট করবেন।
আবার জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মজিদ বিশ্বাস বলেন, বিএনপির মধ্যে কোনো গ্রুপিং না থাকলেও মামলা ও ধরপাকড়ে জর্জরিত। তারা মাঠে নামতে পারছে না মামলার কারণে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মসিউর রহমানকে দুদকের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সংযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তবে তিনি যদি আইনি জটিলতায় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন তাহলে তার স্ত্রী জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি মাহাবুবা রহমান শিখা মনোনয়ন চাইবেন। অন্য দিকে জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মজিদ বিশ্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য মসিউর রহমানের চাচাতো ভাই জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মজিদ এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম মসিউর রহমান দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ দলে বড় ধরনের গ্রুপিং কোন্দল না থাকলেও ছোট একটি অংশের নেতা জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর রবিউল ইসলাম লাবলু তিনিও মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়ে মাঠে রয়েছেন।
রাজনীতি বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপি থেকে এবারো আইনি জটিলতা না থাকলে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মসিউর রহমানের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
এ আসন একসময়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেলেও সেটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি মরিয়া হয়ে উঠেছে। অন্য দিকে আওয়ামী লীগ এ আসনটি ধরে রাখতে চায়।
এ ছাড়াও জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নূর উদ্দিন আহমেদ ও রাশেদ মাজমাদার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুণ্ডুর উপজেলার দু’টি পৌরসভা, ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে ঝিনাইদহ-২ আসন গঠিত। দুই উপজেলার চেয়ারম্যানই বিএনপির, দু’টি পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগের। এ ছাড়া ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে দু’টিতে বিএনপি ও ১৯টিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান রয়েছেন।
এ আসনে তিন লাখ ৮৯ হাজার ৭৩৯ জন ভোটার। এর মধ্যে মহিলা ভোটার এক লাখ ৯৬ হাজার ১৯৬ জন ও পুরুষ এক লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৩ জন।
নির্বাচনের এক জরিপে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এক লাখ ৬২ হাজার ৪৬৪ ভোটের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মশিউর রহমান পান ৭৬ হাজার ১ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের মতিয়ার রহমান পান ৩৭ হাজার ১৬৬ ভোট। আর এ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর আবুল কাশেম পান ৩৩ হাজার ৯৭৫ ভোট।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির মশিয়ার রহমান পান ৮৩ হাজার ৯৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নুর-এ আলম সিদ্দিকী পান ৬৯ হাজার ৩৫৩ ভোট, জায়ামাতের নুর মোহাম্মাদ পান ৪১ হাজার ২৪৭ ভোট।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মসিউর রহমান পান এক লাখ ৪৪ হাজার ৯৫১ ভোট ও আওয়ামী লীগের নুরে-এ আলম সিদ্দিকী পান এক লাখ ১৭ হাজার ৭০৬ ভোট এবং এ আসনে বিএনপির মসিউর রহমান নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সফিকুল ইসলাম অপু নৌকা প্রতীকে পান এক লাখ ৬১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির মশিউর রহমান পান এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৬ ভোট।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সফিকুল ইসলাম অপু পান ৫১ হাজার ২৪৪ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাহজীব আলম সিদ্দিকী পান ৬৭ হাজার ৯৮৪ ভোট। তাহজীব আলম সিদ্দিকী এ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ঝিনাইদহ-২ আসন (হরিণাকুণ্ডু ও ঝিনাইদহ সদর) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে মশিউর রহমান (বিএনপি), ২০০৮ সালে শফিকুল ইসলাম অপু (আওয়ামী লীগ) এবং ২০১৪ সালে নুরে আলম সিদ্দিকীর ছেলে তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

 


আরো সংবাদ

ঢাকা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বাসা লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ নজরুল চেয়ারম্যান রিজভী সদস্যসচিব ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি নেতা জামান মোল্লার উদারতা অবজার্ভা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এডুকেশন সেন্টারের পরিচালক আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ১৭ ডিসেম্বর থেকে খিলগাঁও এক্সচেঞ্জের ‘৭২৫’ গ্রুপের টেলিফোন নম্বর পরিবর্তন মতাসীন দল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে : নূর হোসাইন কাসেমী ১০ গায়েবি মামলায় বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার জামিন অনাবাসী বাংলাদেশী প্রকৌশলীদের প্রথম সম্মেলন ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে অবিলম্বে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন : মুফতি রেজাউল করীম আবদুল হাই মাশরেকী ছিলেন চেতনাবোধ জাগ্রত করার কবি দুই ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট ইস্যু আজ

সকল