২০ নভেম্বর ২০১৮

ভয়ঙ্কর সব নতুন মাদকের হাতছানি

-

সময় কাল পাত্র ভেদে মাদকের চাহিদারও পরিবর্তন ঘটে। একজন মাদকসেবী দীর্ঘ দিন এক ধরনের মাদক ব্যবহার করতে থাকায় একসময় তার আর ভালো লাগে না। আবার বাজারে একই মাদক দীর্ঘ দিন থাকায় সেটি ভেজাল হতে শুরু করে। একসময় ওই মাদক তেমন কাজও করে না। যার কারণে ওই মাদকসেবী বিকল্প কিছুর সন্ধান করতে থাকে। আর এ সুযোগটাই লুফে নেয় মাদক তৈরি ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠানগুলো। তারাও কৌশলে বাজারে ছেড়ে দেয় নতুন কোনো মাদক। এতে দুই ধরনের লাভ হতে থাকে বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর। প্রথমে নতুন মাদক চড়া মূল্যে বিক্রি করতে পারে। আবার নতুন মাদক পাওয়ায় আসক্তরাও ব্যাপকভাবে সেটিকে লুফে নিতে থাকে। এতে চড়া মূল্যের নতুন মাদকের বিক্রি বেশি হওয়ায় বিপুল লাভ করে প্রতিষ্ঠানগুলো।
বছরের পর বছর এভাবেই চলে আসছে মাদকের বাজার। সম্প্রতি বাংলাদেশে ভয়ঙ্কর সব নতুন মাদকের হাতছানি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা, যার একটির নাম ক্রিস্টাল মেথ (crystal methamphetamine)। এটি ইয়াবার থেকেও ভয়ঙ্কর একটি মাদক। অপরটি নিউ সাইকোট্রপিক সাবসটেন্সেস (এনপিএস) বা খাত। দু’টি মাদকই এ দেশে নতুন বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। দু’টিই ইয়াবার মতো উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মাদক। তবে ক্রিস্টাল মেথ থেকে খাত কিছুটা দুর্বল। ক্রিস্টাল মেথ খাত থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাদক বলে উচ্চমূল্যের কারণে সব শ্রেণীর মাদকসেবীর কাছে এর ব্যবহার এখনো সমাদৃত বা সহজলভ্য হয়ে ওঠেনি।
ক্রিস্টাল মেথ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘বারাকা’ এডিকেটর এডিকেশন জাকিউল আলম মিলটন নয়া দিগন্তকে বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে নতুন মাদক হিসেবে ক্রিস্টাল মেথের ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশে এক গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ বিক্রি হচ্ছে হচ্ছে সাত থেকে ১০ হাজার টাকায়। উচ্চমূল্যের কারণে এই শ্রেণীর মাদক ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছেনি। এটি অতি গোপনে বড় বড় বার ও ক্লাবে ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, ক্রিস্টাল মেথ মূলত মেথাঅ্যামফেটামিনেরই ভিন্ন রূপ (লবণের দানার মতো স্ফটিক আকারের)। এটি ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম (synthetic) উপায়ে প্রস্তুতকৃত তীব্র নেশা উদ্রেককারী মনো-উত্তেজক (psychostimulant) মাদক। এটি ইয়াবার চেয়েও অনেক বেশি উত্তেজক। মূলত আমেরিকা থেকে আমাদের দেশে মাদকটি আসে। এ মাদকে অ্যামফেটামিনের পরিমাণ ৭০-৭৫%। ক্রিস্টাল মেথ মাদকের স্থানীয় নাম আইস, গ্লাস, বাল্ব। কাচের টোব্যাকো পাইপের তলায় আগুনের তাপ দিয়ে ধোঁয়া আকারে গ্রহণ করা হয় এটি। এ ছাড়া অনেকে কাচের গোল বাল্বে মাদকটি রেখে তলায় আগুনের তাপ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে ধোঁয়া গ্রহণ করে। এ মাদকে ভেজাল হিসেবে লবণের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। এটি অনুজ্জ্বল ও গন্ধহীন হয়ে থাকে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, মাদকসেবীদে মধ্যে বর্তমানে ইয়াবার চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে যে মনস্তাত্ত্বিক ও মানসিক সঙ্কট দেখা দিচ্ছে, ক্রিস্টাল মেথের চাহিদা বাড়লে এই সঙ্কট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে ধারণা করছেন তিনি।
অপর মাদক এনপিএস বা খাত সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার নয়া দিগন্তকে বলেন, খাত একটি উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মাদক। একধরনের গাছ থেকে তৈরি এ মাদককে ইথোপিয়ান ‘গাঁজা’ও বলে থাকেন কেউ কেউ। মাদকটি দেখতে অনেকটা চা-পাতার গুঁড়োর মতো। পানির সাথে মিশিয়ে তরল করে এটি সেবন করা হয়। সেবনের পর মানবদেহে একধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করে। অনেকটা ইয়াবার মতো প্রতিক্রিয়া হয়। এটি ‘খ’ ক্যাটাগরির মাদক।
ক্রিস্টাল মেথ সম্পর্কে নজরুল ইসলাম বলেন, এই মাদক বাংলাদেশে এখনো তেমন ব্যবহার হয়নি। তবে দু-একজন বিদেশী নাগরিকসহ দেশের কয়েকজন ব্যক্তি মাদকটি দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছিল; কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর তাদের নজরে রাখায় তারা সফল হতে পারেনি। তিনি বলেন, তারপরও এই মাদকের অস্তিত্ব দেশের বাজারে পাওয়া গেলে সে ব্যপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারণ এ মাদকও ইয়াবার মতোই ভয়ঙ্কর।


আরো সংবাদ