১৪ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হামিদিয়া তাজ মসজিদ

অনন্য স্থাপত্য
-

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের অনন্য স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী চন্দনপুরা হামিদিয়া তাজ মসজিদ বা মসজিদ ই সিরাজ উদদৌলা যা চন্দনপুরা মসজিদ হিসেবেই পরিচিত। মোগল স্থাপত্য নকশার আদলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের খ্যাতি দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে আছে। কারুকাজ দেখে সহজেই অনুমান করা যায় এটি মোগল স্থাপিত্যশৈলীর আদলে তৈরি। ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটির অবস্থান ইসলামের প্রবেশদ্বারখ্যাত চট্টগ্রামের দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসার পূর্ব পার্শ্বে নবাব সিরাজ উদদৌলা সড়কলাগোয়া।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৬৬৬ সালে শায়েস্তা খানের সেনাবাহিনী আরাকান মগরাজাদের কবল থেকে চট্টগ্রামকে মুক্ত করলে এখানে মোগল শাসন কায়েম হয়। তখন শাহি ফরমান বলে বিজিত অঞ্চলে অনেকগুলো মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে সে সময়কার হামজা খানের মসজিদ, আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদ, অলি খাঁ জামে মসজিদ অন্যতম। বাংলায় মোঘল শাসনামলে এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও মূলত ব্রিটিশ শাসনামলে এ মসজিদের প্রথম সংস্কার করেন মাস্টার হাজী আব্দুল হামিদ। মসজিদে ঢুকতে কার্নিশে খোদাই করে লিখা আছে নামটি।
জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে শুরু হয়ে পাকিস্তান আমলে ১৯৫০ সালের দিকে মসজিদের প্রথম সংস্কার কাজ সমাপ্ত হয়। আর সে সময় সংস্কার কাজের জন্য লèৌ থেকে আনা হয় মোগল ঘরানার কারিগর। সে সময় সংস্কার কাজে ব্যয় হয়েছিল তখনকার প্রায় চার লাখ টাকা। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মসজিদ নির্মাণের জন্য নানা উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছিল। মসজিদটির নান্দনিকতা বাড়াতে নির্মাণ করা হয় ১৫টি গম্বুজ। জনশ্রুতি আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গম্বুজ নির্মাণে ব্যবহার করা হয় প্রায় ১০ টন পিতল।
এক সময় পিতলে নির্মিত সুউচ্চ প্রকাণ্ড গম্বুজটি সূর্যালোকে ঝলমল করত। তবে এখন সেই নান্দনিকতা নেই। স্থাপত্য শিল্পে তাক লাগানো এই মসজিদের আয়তন তিন গণ্ডার মতো। দানবীর মরহুম আবু সৈয়দ মিয়া এ মসজিদের পেছনে অনেক মেহনত করে গেছেন। মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লি মোজাহেরুল হক। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানেরও স্মৃতি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এখানে জীবনের শেষ জুমার নামাজ আদায় করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এর মাত্র ১৩ ঘণ্টা পরেই তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শাহাদতবরণ করেন।
মসজিদটির দেশ-বিদেশে খ্যাতি রয়েছে। চট্টগ্রামের আইকনিক ছবি হিসেবে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটির ছবি ব্যবহৃত হয়ে থাকে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকাশনায়। জাপানের এশিয়া ট্রাভেল টুরস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেও মসজিদটির ছবি ব্যবহৃত হয়েছে। দেশী-বিদেশী পর্যটকরা এই মসজিদ দেখে মুগ্ধ হন।
মসজিদের সুউচ্চ মিনার, দেয়াল, দরজা-জানালা থেকে শুরু করে সব কিছুতেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সূক্ষ্ম কারুকাজ। মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মসজিদের গম্বুজের চারপাশে আহলে বায়তে রাসূলসহ আশারায়ে মোবাশশারা তথা দুনিয়ায় জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবির নাম লেখা। যখন মাইকের ব্যবহার ছিল না তখন মসজিদটির চার তলা সমান উঁচু মিনারে উঠে আজান দেয়া হতো। এ ধরনের দু’টি মিনার এখনো আছে।


আরো সংবাদ