২১ এপ্রিল ২০১৯

রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মডেলে ঘর নির্মাণ শুরু

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করছে ওআইসি প্রতিনিধিদল : নয়া দিগন্ত -

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে জেলার উখিয়া উপজেলার ছয় হাজার একর ভূমিতে ১১ লাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে। অল্প জায়গায় এত বিপুল জনগোষ্ঠী গাদাগাদি করে বসবাসের ফলে ক্যাম্পের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রোহিঙ্গাসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠী নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
তাই স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান নির্মাণ করছে সরকার। নতুন নির্মাণাধীন এসব বাসস্থান পুরনো বাসস্থানের চেয়ে দ্বিগুণ টেকসই ও স্বাস্থ্যসম্মত হবে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা। রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ক সরকারি ও বেসরকারি একাধিক সংস্থার তথ্যানুসারে, শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের বাসস্থান নির্মাণের নিয়ম রয়েছে। শুরুতে রোহিঙ্গাদের ছোট ত্রিপলের অস্থায়ী ঘরে রাখা হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, একজন শরণার্থীর জন্য ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫ বর্গমিটার স্থান প্রয়োজন। তবে এসব মডেল বাসস্থানের দৈর্ঘ্য হবে ১৬ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। প্রতিটি বাসস্থানে গড়ে পাঁচজন করে বসবাস করতে পারবে। প্রতিটি বাসস্থানে ভেন্টিলেশন ছাড়াও অধিকতর স্থায়ী জায়গা রাখাসহ ক ঠাণ্ডা রাখতে বিভিন্ন স্থায়ী উপাদান ব্যবহার করা হবে।
এসব বাসস্থান তৈরির আগে উখিয়ার ২০ নম্বর ক্যাম্পে রেপ্লিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি বাসস্থানে থাকবে তিনটি জানালা। এক বাসস্থান থেকে অন্য বাসস্থানের দূরত্ব হবে ৬ থেকে সর্বোচ্চ ১০ ফুট। বাঁশ ও কংক্রিটের পিলার দিয়ে ঘরের মূল কাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত হওয়ায় নির্মাণের পর ন্যূনতম এক বছর এসব ঘর ঝড়-বৃষ্টিসহ যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনীয় হবে।
এ দিকে শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের বাসস্থান তৈরির জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোর আর্থিক সহযোগিতায় সরকারের রোহিঙ্গা শরণার্থীবিষয়ক একাধিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের নতুন বাসস্থান নির্মাণের কাজ তদারকি করছে। শুরুতে বাঁশ ও ত্রিপলবেষ্টিত ঘরে রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করা হলেও শুষ্ক মওসুমে আলো-বাতাসের অভাবে অনেক রোহিঙ্গা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ডিপথেরিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত। এ বিষয়ে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গারা সেখানে আসার পর তাদের আশ্রয় দেয়াই ছিল আমাদের প্রথম কাজ। ওই সময় ক্যাম্পগুলোয় যেসব ঘর তৈরি করা হয়েছে, তা অস্থায়ী। স্বল্প স্থানে কোনো রকমে মাথাগোঁজার ঠাঁই দেয়া হলেও বর্তমানে কিছুটা টেকসই আবাসস্থল নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী দু’টি সাইকোন মওসুমে টিকে থাকতে পারে এমন ঘর নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দুই লাখের বেশি মডেল ঘর নির্মাণ করে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হবে।
বেসরকারি সংস্থা কারিতাসের আঞ্চলিক সমন্বয়ক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ফায়ার ডিসট্যান্স ৬ থেকে ১০ ফুটের দূরত্ব দরকার। আমরা বিভিন্ন সংস্থার অধীনে ১০টি ডেমু শেল্টার, ৪৬১টি ট্রানজিশনাল শেল্টার ও ৮০টি মিডটার্ম শেল্টার নির্মাণ করেছি। অন্যান্য সংস্থাও আমাদের মতো স্বাস্থ্যসম্মত ঘর নির্মাণে কাজ করছে। এসব ঘর নির্মাণে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat