১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চূড়ান্ত করা সম্ভব হচ্ছে না ব্যাংক একীভূতকরণের গাইড লাইন  

গাইড লাইন তৈরির বিষয়টি মাঝপথে আটকে আছে
-

এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ব্যাংক একীভূতকরণের একটি গাইড লাইন চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। গত বছরের মাঝামাঝি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বলা হয়েছিল, গাইড লাইনটি চূড়ান্ত করা হলে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলো এটি অনুসরণ করে অন্য ব্যাংকের সাথে একীভূত হতে পারবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এই গাইড লাইনটি প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংককে। চলতি বছরের মাঝামাঝি এই গাইড লাইনটি চূড়ান্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত গাইড লাইনটির খসড়া তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে বছরের বাদ বাকি সময়ে এই গাইড লাইনটি প্রণয়ন ও চূড়ান্ত করা সম্ভব কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জুলাইতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আয়োজিত এক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভাগের তৎকালীন সচিব ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বলা হয়- বর্তমানে ব্যাংক কোম্পানি আইনে ব্যাংকগুলো কী অবসায়ন নাকি একীভূত হবে তা নির্দিষ্টভাবে বলা আছে। এরপরও বিষয়টি আরো সহজ ও নমনীয় করার জন্য এই গাইড লাইন প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। গাইড লাইনটি তৈরির দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংককে। তবে এ বিষয়ে যাবতীয় সহযোগিতা করবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, দেশে বর্তমানে ব্যাংকের সংখ্যা ৫৭টি। এই ব্যাংকের মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। অদূর ভবিষ্যতে এই ব্যাংকগুলোকে টিকে থাকতে হলে মার্জারের (একীভূতকরণের) প্রয়োজন হয়ে পড়বে। তাই আমরা মার্জার বিষয়ে একটি গাইড লাইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে এই মার্জার কার্যক্রম সহজ হয়।
গাইড লাইন তৈরির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাইড লাইন তৈরির বিষয়টি অনেকটা মাঝপথে এসে আটকে আছে। কিছু বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গাইড লাইনটির খসড়া তৈরি করা যাচ্ছে না। তবে আশা করা যায়, শিগগিরই কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি চূড়ান্ত হতে পারে।
জানা গেছে, মার্জারের গাইড লাইন তৈরিতে পাশের কয়েকটি দেশের এ সম্পর্কিত নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে অন্যান্য দেশ কিভাবে ব্যাংকিং খাতে মার্জার করে থাকে। এই ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার উদ্ভব হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্র জানায়, মার্জার বা একীভূতকরণ গাইড লাইনটি তৈরি হয়ে গেলে এরই আলোকে দুর্বল আর্থিক ভিত্তি সম্পন্ন ব্যাংকগুলো মার্জার করার জন্য পরামর্শ দেয়া হবে। কারণ বর্তমানে বেসরকারি খাতে একটি ব্যাংককে মার্জার করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। একই সাথে আরেকটি সরকারি ব্যাংককে মার্জার করার জন্য বলা হতে পারে।
দুর্বল হয়ে যাওয়া দু-একটি ব্যাংককে একীভূতকরণ বা মার্জারের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি পরামর্শ দিয়ে একটি পত্রও প্রেরণ করেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো এক পত্রে বলা হয়েছে, কয়েকটি ব্যাংক বর্তমানে বেশ দুরবস্থায় রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, এসব ব্যাংকের কোনোটার উদ্যোক্তারা ব্যাংকটিকে দেউলিয়া করছেন। আবার কোথাও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঝগড়া বেধে গেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে। আবার কোথাও কিছু পরিচালক জোট বেঁধে উদ্যোক্তাকে কোণঠাসা করে মালিকানা পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন। ব্যাংকিং খাতের এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তার সঠিক দায়িত্ব পালন করছে এমন ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী চিঠিতে বলা হয়- বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বত্রই তার নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। আবার কোনোটায় তদন্ত করছে। পরিচালক পরিবর্তন করছে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এই অবস্থায় দুরবস্থায় থাকায় ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার পরামর্শ দিয়ে অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বলা হয়, ‘এই সুযোগে দু-একটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ বিবেচনায় আনলে ভালো হবে। এ দেশে অচিরেই ব্যাংকগুলোর সঞ্চয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আমার মনে হয়। সেজন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়ার সময় হয়তো হয়েছে। এটি আমার একটি পরামর্শ বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রীর এ পরামর্শ খুবই সময় উপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক ও সরকারি ব্যাংকের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের অবস্থা খুবই খারাপ।
এ দিকে ৭২ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা মনে করেন বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ব্যাংক রয়েছে তা কমাতে হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এ বছরের শুরুতে এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

 


আরো সংবাদ