২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চকরিয়ায় দুর্ঘটনায় তিন নারীসহ নিহত সাত

অন্যান্য স্থানে ২
-

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন নারীসহ সাতজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জন। এ ছাড়া গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্র নিহত এবং রাজবাড়ির বালিয়াকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।
চকরিয়া ও কক্সবাজার সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার বরইতলী নতুন রাস্তার মাথায় যাত্রীবাহী বাস ও যাত্রীবাহী পিকআপের (ছারপোকা) মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন নারীসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আহত হয়েছে ১০ জন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ এ দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ি দু’টি জব্দ করেছে। গতকাল দুপুর পৌণে ১২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এই দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেনÑ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি সিকদার পাড়ার মৃত যতীন্দ্র সিকদারের স্ত্রী বাসন্তী সিকদার (৬৫), চুনতি এলাকার মোস্তাক আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার মেয়ে একই এলাকার আবুল হাসেমের স্ত্রী জাইতুন নাহার (২৩), দুর্ঘটনায় পতিত পিকআপ চালক চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর স্টেশন এলাকার আহমদ হোসেনের ছেলে খাইর আহমদ (৩৬), চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের লালব্রিজ এলাকার মনজুর আলমের ছেলে জহির আহমদ (৩২), একই ইউনিয়নের পাহাড়তলী পাড়ার সৈয়দ আলমের ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক মীর কাশেম (২৭) ও চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের উত্তর পাড়ার মনজুর আলমের ছেলে কলেজছাত্র শফিকুল কাদের তুষার (২০)। তবে আহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মহাসড়কের বানিয়ারছড়াস্থ চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (আইসি) নূর-এ আলম জানান, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তিনজন মহিলা ও চারজন পুরুষ নিহত হয়েছেন। নিহত সাতজনের মধ্যে একজন পিকআপ চালক ও অন্য ছয়জন ওই গাড়ির যাত্রী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম ছেড়ে আসা কক্সবাজারমুখী স্টার লাইন পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৬৩৮) যাত্রীবাহী একটি বাস চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের নতুন রাস্তার মাথায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা চট্টগ্রামের লোহাগাড়ামুখী যাত্রীবাহী অন্য একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় আরো কয়েকজনকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পৌরশহরের বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আরো ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দিন এই দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় পতিত যাত্রীবাহী গাড়ি দু’টি মহাসড়ক থেকে ক্রেন দিয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রায় আধ ঘণ্টা পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্টার লাইন পরিবহনের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুকসুদপুর-গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মাইক্রোবাস চাপায় কিঞ্জর রায় (১২) নামের তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার দাসেরহাটে এই ঘটনা ঘটে। সে দাসেরহাট গ্রামের পিযুষ রায়ের ছেলে ও মুকসুদপুর ১৭৭ নং বি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল পাশা জানান, বাড়ি থেকে বের হয়ে কেনাকাটার জন্য ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক পার হচ্ছিল কিঞ্জর। এ সময় ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস শিশুটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মুকসুদপুর থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে সোপর্দ করে।
বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীতে মেয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে যাওয়ার পথে সড়ক দুঘর্টনা মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত তার ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বালিয়াকান্দি হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা: জুয়েল রানা জানান, পাংশার মোক্তার হোসেন মুকুলের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী কামরুন নাহার (৪৫) সোমবার সকালে রাইস কুকারের তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যায়। এ খবর শুনে কামরুন নাহারের মা ও ভাই বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণবাড়ী (শীতলদাহ) গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য আ: কাদের মিয়ার স্ত্রী রওশনারা বেগম (৬৫) ও ছেলে বালিয়াকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী রাশেদ মিয়া (৩০) মোটরসাইকেলে পাংশা যাচ্ছিলেন। তারা কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের মাজবাড়ী এলাকায় পৌঁছলে একটি অটোবাইককে ক্রস করে যাওয়ার সময় সামনে থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সাথে সংঘর্ষে মা-ছেলে দুইজনই মারাত্মক আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন মা ও ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে রওশনারা বেগম মারা যান। রওশনারা বেগমের লাশ ঢাকা থেকে বাড়িতে আনা হয়েছে। মা ও মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরের শ্রীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা উড়াল সেতুর ওপর এক গাড়ির চাপায় গতকাল এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত নাঈম আহমেদ (২৪) শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান।
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি দেলোয়ার হুসেন জানান, উড়াল সেতুর ওপর ঢাকাগামী লেনে অজ্ঞাত এক গাড়ি মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে চালক নাঈম গুরুতর আহত হন। টহলরত পুলিশের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তার আলহেরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরো সংবাদ