২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা

শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্যই এই হামলা : রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

-

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার টার্গেট ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকে হত্যা করাই ছিল এ হামলার উদ্দেশ্য। আর এর মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তারেক রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার এ মামলার আইনি পয়েন্টের ওপর শুনানিতে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এসব কথা বলেন। এই মামলায় জামিনে থাকা আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে হাওয়া ভবনে এ হামলার ষড়যন্ত্র হয়। সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অন্য আসামিরা এ ষড়যন্ত্র করেন। সব আসামির একই অভিপ্রায় ছিল শেখ হাসিনাসহ সব আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করা। তাই দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।
রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালত আজ বুধবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।
প্রসঙ্গত, মামলাটি প্রমাণে চার্জশিটের ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। এ মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর রাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মামলার আরেক আসামি সাবেক মন্ত্রী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুলের ফাঁসি কার্যকর করায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯ জন। এর মধ্যে আটজন জামিনে, ১৮ জন পলাতক ও ২৩ জন কারাগারে আছেন।
এ মামলার জামিনে থাকা আসামিরা হলেনÑ খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব:) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো: আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম। অন্য দিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে আছেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৮ জন আসামিকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন শতাধিক নেতাকর্মী। এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদি হয়ে মতিঝিল থানায় তিনটি এজাহার দায়ের করেন।

 


আরো সংবাদ