২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ঢাকা-১ আসনে মহাজোটে জটিল সমীকরণ

ঢাকা-১ আসনে মহাজোটে জটিল সমীকরণ - ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-১ সংসদীয় আসনটি দোহার ও নবাবগঞ্জ দু’টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দোহার ও নবাবগঞ্জ পৃথক দু’টি আসন ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর থেকে দোহার ও নবাবগঞ্জ দু’টি উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১ আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নানকে পরাজিত করে বিজয়ী হন তিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী হন অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান আর বিএনপির প্রার্থী না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আবদুল মান্নান খান সালমা ইসলামের কাছে পরাজিত হওয়ায় অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বর্তমানে এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও এ অঞ্চলের মহাজোটের কর্মী-সমর্থকেরা কাকে প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে পাচ্ছেন সেই হিসাব-নিকাশ থেকে অনেকটা দূরে থাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা।

এ বছর দোহার নবাবগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন দু’জন। একজন সাবেক গৃহায়ন ও গণ পূর্তপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ও অন্যজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমান। অন্য দিকে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। স্থানীয় আওয়ামী লীগে দীর্ঘ দিন দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিভাজন থাকায় কে মনোনয়ন পাচ্ছেন এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দলীয় কোন্দল নিরসন না হওয়ায় জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে- এমনটিই মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

আর মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন এমন সিদ্ধান্তে অনেক আগ থেকেই অটল রয়েছেন। সালমা ইসলাম নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সমাবেশে নিজের পক্ষে ভোটারদের ভোট চাইলেও এখনো আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর মধ্যে কাউকেই এখনো কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা কিংবা গণসংযোগ করতে দেখা যায়নি, যে কারণে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী দুই প্রার্থীর নেতাদের মধ্যে একধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ভোট দরজায় কড়া নাড়ছে অথচ তেমন তৎপর নেই দলটির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক সিনিয়র নেতা অভিযোগ করেন, এখনো কোনো নেতাকেই এখানে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে দেখা যায়নি; যে কারণে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হলে দেখা দেবে অসন্তোষ।

এ বিষয়ে কথা হয় জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের সাথে। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যদি এবার মহাজোটের সাথে নির্বাচন করেন তাহলে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে যেহেতু আমি বর্তমান এমপি, সেহেতু আমাকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে। আর যদি জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে বেরিয়ে নির্বাচন করে তাহলে সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করব। অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একজন আস্থাভাজন ও পরীক্ষিত কর্মী, সে হিসেবে আমি বিশ^াস করি এ আসন থেকে আমাকেই আগামী নির্বাচনের জন্য মনোনীত করা হবে। আর যদি দল থেকে অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে আমি তার পক্ষে কাজ করে নৌকার বিজয়কে নিশ্চিত করব। সালমান এফ রহমানের সাথে একাধিকবার মনোনয়নের ব্যাপারে জানার জন্য মোবাইলে চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 


আরো সংবাদ