১৯ এপ্রিল ২০১৯
আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত

আইসিসির বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

-

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করলে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারপতিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের এ ঘোষণা দেয়ার কথা।
১৯৯৭ সালের ১৭ জুলাই রোম স্ট্যাচুট বা রোম সংবিধি গৃহীত হয়। এ নীতিমালা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে রোম সংবিধি কার্যকর করতে ১২০টি দেশের স্বীকৃতির প্রয়োজন ছিল। ১২০ দেশের স্বীকৃতির পর ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার কার্যক্রম শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এ আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করলেও প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তা প্রত্যাহার করে নেন। এই আদালত সাধারণত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের অভিযুক্ত করে থাকে।
সোমবার ওয়াশিংটনে রক্ষণশীল গোষ্ঠী ফেডারেলিস্ট সোসাইটিতে বক্তব্য রাখার কথা ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের। হোয়াইট হাউজে যোগদানের পর এটাই তার প্রথম বড় ধরনের বক্তৃতা। এরইমধ্যে বোল্টনের বক্তব্যের খসড়া লিপি হাতে পেয়েছে রয়টার্স। তাতে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান ঘোষণা করবেন বোল্টন।
বক্তব্যের খসড়ায় লেখা হয়েছে, ‘আমাদের দেশের নাগরিক ও আমাদের মিত্রদেরকে এ অবৈধ আদালতের অন্যায্য বিচার থেকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’ বোল্টনের বক্তব্যে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কার্যালয় বন্ধ করে দেয়ারও ঘোষণা দেয়ার কথা। আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এ ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে পিএলওর ওয়াশিংটন কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। বোল্টন তার বক্তব্যে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু ও মিত্র হিসেবে উল্লেখ করবেন এবং দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করবেন।
বোল্টনের বক্তব্যের খসড়া থেকে আরো জানা গেছে, আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক যুদ্ধাপরাধ সঙ্ঘটনের অভিযোগ নিয়ে অপরাধ আদালত যদি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে তবে ট্রাম্প প্রশাসন এর বিরুদ্ধে জবাব দেবে। এ ধরনের তদন্ত শুরু হলে, বিচারপতি ও প্রসিকিউটরদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ওই বিচারপতি ও প্রসিকিউটরদের আর্থিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাদের বিচার করা হতে পারে।
বোল্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মৃত। বক্তব্যে তিনি বলবেন, ‘আমরা আইসিসিকে সহযোগিতা দেবো না। আমরা আইসিসির সাথে যোগ দেবো না। আইসিসিকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে। তাদের সকল অভিপ্রায় ও উদ্দেশ্যের জন্য আইসিসি আমাদের কাছে এখনই মৃত।’
উল্লেখ্য, নাইন-ইলেভেনের হামলার পর ২০০১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অভিযান শেষ হয় ২০১৪ সালে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এখনো আফগান সেনাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

 

 


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al