২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মন্ত্রিসভায় শিশু একাডেমি আইন ও মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা অনুমোদন

-

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন ও মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা পরিষদ আইন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সভা শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সম্মেলন কক্ষে এক প্রেসব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ কথা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইনে ১৯ সদস্যের বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতদিন এটি শিশু একাডেমি ১৯৭৬ সালের একটি অধ্যাদেশ অনুসারে চলে আসছিল। এর আগে গত ৯ জুলাই বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন ২০১৮ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। তখন মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, উচ্চ আদালত এবং মন্ত্রিসভার নির্দেশ রয়েছে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত এবং বাংলায় রূপান্তর করার। তাই এই আইন অনুমোদন করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রধান দফতর রাজধানী ঢাকায় স্থাপিত হবে। তবে সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশের অন্যান্য বিভাগ এবং জেলাতেও শিশু একাডেমির অফিস স্থাপন করা যাবে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালনা ও প্রশাসন সরকার গঠিত বোর্ডের ওপর ন্যস্ত থাকবে। ব্যবস্থাপনা বোর্ড নামে পরিচিত এই বোর্ডে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট ১৭ জন সদস্য থাকবেন। বোর্ডে নতুন করে আইসিটি ডিপার্টমেন্টের একজন প্রতিনিধি থাকবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদশ শিশু একাডেমির নতুন আইনের ৮ ধারা মোতাবেক ফেলোশিপ প্রদান করার বিধান রাখা হয়েছে। এই ফেলোশিপ দেয়ার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সাত সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির কার্যক্রম বিধির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির নতুন আইন অনুসারে পরিচালকের জায়গায় মহাপরিচালক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডের এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম হবে এবং বোর্ড বছরে ছয়টি সভা করবে। ব্যবস্থাপনা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সরকার নিযুক্ত করবে। চেয়ারম্যানের চাকরি সরকারের বিধির মাধ্যমে নির্দেশিত হবে। তবে তিনি সার্বক্ষণিক হবেন না।
মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা অনুমোদন; বছরে ১৫ লাখ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, দেশে বিশ্বমানের মোটরসাইকেল তৈরি এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ‘মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০১৮’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তিনি বলেন, দেশীয় মোটরসাইকেল শিল্পের প্রসার ঘটাতে এ নীতিমালা করা হয়েছে, যেন মোটরসাইকেল আমদানি করতে না হয়। বাংলাদেশে বিদ্যমান মোটরসাইকেল সংযোজন শিল্পের পরিবর্তে বিশ্বমানের মোটরসাইকেল উৎপাদন কারখানা সৃষ্টির জন্য উৎসাহিত করা হবে, উদ্দেশ্য হচ্ছে এ খাতে বিপুল কর্মসংস্থান করা। নীতিমালা সম্পর্কে শফিউল বলেন, নতুন করে মোটরসাইকেল তৈরি বা সংযোজন যেটাই করা হোক দেশীয় শিল্পকারখানার মাধ্যমে উৎপাদন করা হবে।
শফিউল আলম বলেন, মোটরসাইকেল খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান পাঁচ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে তা ১৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে পাঁচ লাখ এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ১০ লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে মোটরসাইকেল তৈরি করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত মোটরসাইকেল জিডিপিতে ০.৫ শতাংশ অবদান রাখছে। ২০২১ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা ২.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সেক্টরে এখন কাজ করছে পাঁচ লাখ মানুষ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রফতানি করার উদ্দেশ্যে দেশে ২৫০ সিসি মোটরসাইকেল উৎপাদন করা যাবে। রফতানি করা মোটরসাইকেলের ট্যাক্স নির্ধারণে এনবিআর নীতিমালা অনুসৃত হবে। এছাড়া ট্যাক্স নির্ধারণে একটি ট্যারিফ নীতিমালাও প্রণয়ন করা হবে।
প্রকৌশল গবেষণা পরিষদ আইন নিরীক্ষায় কমিটি
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা পরিষদ আইন ২০২৮ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে দিয়েছে সরকার। এ কমিটির প্রধান হবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এ চারজন প্রকৌশলী ও স্থপতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এ সংস্থার আরো কিভাবে উন্নয়ন করা যায় তা দেখবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রকৌশল গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠানটা হবে, এ জন্য প্রকৌশল বা স্থাপত্য বিদ্যায় যাদের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে তাদের আইনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
একাত্তরের জননী রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, একাত্তরের বীরাঙ্গনা ও লেখক রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন রমা চৌধুরী।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এলাকার রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী রমা চৌধুরীর বাড়িতে হানা দেয়, ধর্ষণের পর তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয় হানাদাররা। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৩ মে তিন শিশু সন্তান নিয়ে বোয়ালখালীর পোপাদিয়া গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন রমা চৌধুরী। এ সময় তার স্বামী ছিলেন ভারতে। ওই ঘটনার পর থেকেই খালি পায়ে হাঁটতেন রমা চৌধুরী। রমা চৌধুরীর দুই সন্তান সাগর ও টগর এই ঘটনার দুই বছরের মধ্যেই মারা যায়। তার আরেক সন্তান মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। রমা চৌধুরী ৭১ এর জননী, এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্ম, ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথসহ ১৯টি বই লিখে গেছেন। নিজের লেখা বই নিজেই তিনি বিক্রি করতেন।


আরো সংবাদ