১৯ নভেম্বর ২০১৮

একতরফা নির্বাচনের পাঁয়তারা বরদাশত করবে না জনগণ : বাম গণতান্ত্রিক জোট

-

বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, একতরফা নির্বাচনের পাঁয়তারা দেশের মানুষ আর বরদাশত করবে না। কারণ বর্তমান সরকারে অনুগত নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জেদ ও একগুঁয়েমি পরিহার করে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নিন।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি, নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের দেশব্যাপী ‘দাবি দিবস’-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল আয়োজিত সমাবেশে জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন : সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো: শাহ আলম, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আজিজুর রহমান, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর হোসেন দুলাল, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরউদ্দিন পাপ্পু ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু। সভা পরিচালনা করেন বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটার ও প্রার্থী বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নির্বাচনীব্যবস্থাকে অকার্যকর করে ফেলেছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। প্রশাসন ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। তারা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় সরকার পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করে দেয়ার কৌশল হবে আত্মঘাতী এবং দেশের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টিকারী।
তারা বলেন, আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, কিন্তু এ মুহূর্তে দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, অর্থবহ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। নেতৃবৃন্দ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ করার জন্য তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সব দল ও সমাজের অপরাপর মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন, বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানান। নির্বাচনীব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্য সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন, অর্থ, পেশিশক্তি, ধর্মের অপব্যবহার ও প্রশাসনের কারসাজি বন্ধের জন্য আরপিওর সংশোধনী দাবি করেন। ভোটাধিকার রক্ষায় গণসংগ্রাম-গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনগণকে আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


আরো সংবাদ