২৩ জুন ২০১৮
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা

সিলেট অঞ্চলের ৫ উপজেলায় ১১৩ গ্রাম প্লাবিত ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

আশ্রয়শিবিরে ছুটছে মানুষ ; ঈদের আনন্দ ম্লান
কুলাউড়ায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে :নয়া দিগন্ত -

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, রাজনগর, সিলেটের জৈন্তাপুর এবং রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। গতকাল পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলের এই ৫ উপজেলার ১১৩ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে তিন লক্ষাধিক মানুষ। বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানির তোড়ে ভারত-বাংলাদেশের কৈলাসহরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা জানান, টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু নদী চারটি ও ধলাই নদী দু’টি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বুধবার রাতে ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে বানের পানি প্রবেশ করলে কুলাউড়া, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার ৮০টি গ্রামের দুই লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন। সেই সাথে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এ দিকে অনেকের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশুসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে মনু ও ধলাই নদীর বাঁধের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যাকবলিত লোকজনের অভিযোগÑ এখন পর্যন্ত তাদের কেউ খোঁজ নেয়নি। স্থানীয় লোকজন বলছেন, মনু ও ধলাইর পানি ক্রমশ বাড়ছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
মো: মোস্তাফিজুর রহমান, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) জানান, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে আরো সাতটি ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে উপজেলার মাধবপুর, আলীনগর, আদমপুর, পতন ঊষার ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নতুন ও পুরনো ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় শতাধিক গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানির তোড়ে অর্ধ শতাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত। কমলগঞ্জ ভায়া মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ টু আদমপুর এবং শ্রীমঙ্গল ভায়া শমসেরনগর সড়কে এক ফুট পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। সব মিলিয়ে কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ভানুগাছ বাজার সংলগ্ন, রামপাশা, আলেপুর এলাকায় আরো তিনটি স্থান ঝুঁকির মুখে। বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কমলগঞ্জ পৌরসভা ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ১২৫টি পানিবন্দী পরিবারের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে ১০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। এখন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।
টানা বর্ষণে মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভার করিমপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সুরান্দনপুর এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ১২টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। তলিয়ে যায় রাস্তাাঘাট। পানিবন্দী হয়ে পড়েন ৩০০ পরিবার। এ দিকে মঙ্গলবার ১০টায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে নতুন করেমাধবপুর কাটাবিল, ইসলামপুরের শ্রীপুর, কোনাগাঁও, বনগাঁও ও কেওলিঘাট আদমপুরের ঘোরামারা নামক এলাকায় নতুন করে ভাঙন দিয়ে জালালপুর, কোনাগাও, শ্রীপুর, বনগাঁও, ঘোরামারা, তিলকপুর, আলীনগর ইউনিয়ের শ্রীনাথপুর, কামুদপুর, কালিপুরসহ পতনঊষার, শমসেরনগর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। ঘোরামারায় ভাঙন দেখায় রাতে কমলগঞ্জ আদমপুর সড়ক ১ ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাত থেকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে এখনো পানি রয়েছে। রাস্তায় পানি রয়েছে। আলীনগর এলাকায় পানি বাড়ায় কমলগঞ্জ ভায়া শমসেরনগর সড়কের আলীনগর গ্যাস পাম্পের সামনের সড়ক বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। উপজেলার প্রায় সাতটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষজন। বৃষ্টি হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ায় আশঙ্কা রয়েছে। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন আকস্মিক বন্যায় মানুষের ঈদের আনন্দ মাটি হয়েছে বলে বন্যায় আক্রান্তরা জানান। এ দিকে পানিতে উঠতি ফসল তলিয়ে গেছে। প্রায় ৮০০ হেক্টর আউস ফসল তলিয়ে গেছে। কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ বলেন, করিমপুর এলাকায় নদীর ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় পৌর এলাকার গোপাল নগর, করিমপুর, যুদ্ধাপুর ও নাগড়া গ্রামের ৩০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ চলছে।
শংকর দুলাল দেব, রাজনগর (মৌলভীবাজার) জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার তারাপাশা এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। গত ১২ জুন ভোর রাতে কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর, তারাপাশাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রায় ২০টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অব্যাহত বারিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে আরো ১৫-২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন দুর্গত এলাকার লোকজন।
বন্যাকবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মনু নদীর উজানে ভারতের ধর্মনগর, কৈলাশহরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর স্থানে গত ১২ জুন মঙ্গলবার ভোরে মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলে রাজনগর উপজেলার ভোলানগর, কোনাগাঁও, দস্তিদারেরচক, ইসলামপুর জালালপুর, তেঘরি, করাইয়া, মৌলভীরচক, আদমপুর, কামারচাক, খাসপ্রেমনগর, বিশালী, মিঠিপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়াও পানি বৃদ্ধির কারণে নতুন করে আরো ১৫-২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন দুর্গত এলাকার লোকজন। কামারচাক ইউনিয়নের যেসব গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে সেগুলো হলোÑ চাটিকোনাগাঁও, মূর্তিকোনা, মশাজান, প্রেমনগর, মেলাগড়, শান্তকুল, পঞ্চানন্দপুর, একাসন্তোষ, হাটিকরাইয়া এবং টেংরা ইউনিয়নের হরিপাশা, আকুয়া, কোনাগাঁও, টগরপুর, ভাঙ্গারহাট ইত্যাদি। প্লাবিত এসব এলাকায় খাবার পানি, গোখাদ্যসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত এলাকার লোকজন মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের উঁচু জাগায় আবার অনেকে পাশের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
ময়নুল হক পবন কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) জানান, অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর ১০টি স্থানে বাঁধ ভেঙে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন কুলাউড়ার চারটি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। বিশেষ করে মনুর প্রতিরক্ষা বাঁধের শরীফপুর ইউনিয়নের অংশে ছয়টি স্থানে বড় বড় ভাঙনের ফলে এ ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম অর্থাৎ শতভাগ গ্রামই বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। অন্ততপক্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষের বাড়িঘর বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অপর দিকে হাজীপুর, টিলাগাঁও ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নে এ আকস্মিক বন্যায় রাস্ত ঘাট ডুবে গেছে, পানি প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হওয়ায় আউশক্ষেতসহ মানুষের বাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে এতদঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষকে। শমসেরনগর-কুলাউড়া ও ভারতের কৈলাশহরের সাথে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ দিকে মনুর ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় এমপি মো: আব্দুল মতিন ও উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম, ইউএনও চৌধুরী গোলাম রাব্বি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
সোমবার ও মঙ্গলবারের টানা বৃষ্টিতে সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানিতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। মঙ্গলবার বিকেলে শরীফপুর ইউনিয়ন কার্যালয়সংলগ্ন চাতলা সেতু এলাকায় পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জুনাব আলী জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় আমলা বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হলে গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যরা মিলে শতাধিক বস্তা বালু দিয়ে এ স্থান রক্ষা করেন। তবে রাত আড়াইটায় বাঘজুর ও তেলিবিল গ্রাম এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে দ্রুত গতিতে ঢলের পানি গ্রামে প্রবেশ করে। এ পানিতে বসতঘরসহ ফসলি জমি তলিয়ে যায়। ফলে বাঘজুর, তেলিবিল, চানপুর, খাম্বারঘাট, শরীফপুর, বটতলা, সঞ্জরপুরসহ পুরো ইউনিয়নের সব ক’টি গ্রাম অর্থাৎ ২৫-৩০ টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। ইউপি চেয়ারম্যান মো: জুনাব আলী আরো জানান, এ অবস্থায় পানিবন্দী মানুষ সঠিকভাবে শবেকদরের ইবাদত করতে পারেনি। এমনকি তারা ঈদুল ফিতরও সঠিকভাবে পালন করতে পারবে কি না সন্দেহ রয়েছে। একই সময় চাতলা সেতুর উত্তর দিকে কয়েক মাস আগে নির্মিত প্রতিরক্ষা বাঁধও ভেঙে ঢলের পানি দ্রুত গতিতে গ্রামে প্রবেশ করে। ফলে নছিরগঞ্জ, ইটারঘাট, মনোহরপুর, নিশ্চিন্তপুর, মাদানগর গ্রামের এক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন।
ঢলের পানিতে শমশেরনগর-চাতলাপুর চেকপোস্ট সড়কের বটতলা থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত ২ কিমি. সড়ক ৩ ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হলে মঙ্গলবার রাত থেকে বাংলাদেশের সাথে ভারতের উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশহরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
জৈন্তাপুর সিলেট) সংবাদদাতা জানান, সিলেটের জৈন্তাপুর গত ১২ জুন হতে টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ইউনিয়ন নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সারী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বিপৎসীমার দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলের পরিবারগুলো। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার নি¤œ আয়ের দিনমজুর ও শ্রমিক পরিবারগুলো। ঢলের পানি পরিবারগুলোর ঈদের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। কোনোভাবে নি¤œ আয়ের মানুষ যৎ সামান্য আনন্দের মধ্যে ঈদুল ফিতর পালনের প্রস্তুতি নিলেও বন্যায় বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত সীমান্তবর্তী তিনটি ইউনিয়নের বন্যায় আটকে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে ইফতারসামগ্রী, কিংবা শুকনো খাবার উপজেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা পরিষদ থেকে পরিবারগুলোর মধ্যে পৌঁছেনি। অপর দিকে বন্যায় আটকে পড়া পরিবারের লোকজনকে নিজ উদ্যোগে নৌকা অথবা ভেলায় ইফতারসামগ্রী সংগ্রহ করতে বাজারে আসতে দেখা যায়। এ দিকে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। সরেজমিনে বন্যাকবলিত এলাকা উপজেলা নিজপাট ইউনিয়নের মাহুতহাটি, দর্জিহাটি, মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, মোরগাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদারপাড়া, নয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, মাস্তিং ও হেলিরাই। জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মুক্তাপুর, বিরাইমারা, বিরাইমারা হাওর, লামনীগ্রাম, কাটাখাল, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ১নং লক্ষ্মীপুর, ২ নং লক্ষ্মীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, কাঁঠালবাড়ী, নলজুরী হাওর। চারিকাটা ইউনিয়নের বালিদাঁড়া, লালাখাল, লালাখালগ্রান্ট, রামপ্রসাদ, থুবাং, বাউরভাগ উত্তর, বাউরভাগ দক্ষিণ, পুঞ্জীসহ উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ দিকে সারীনদী, বড়গাং নদী ও নয়া গাং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সারী নদীর পানি বিপৎসীমার দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান সারী-গোয়াইন বেড়িবাঁধ প্রকল্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো: আলা উদ্দিন। তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি থামলে পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হবে।
রাঙ্গামাটি সংবাদদাতা জানান, তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাত ও সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির উপজেলার ১৪টি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। গ্রামগুলো হলোÑ করেঙ্গাতলী, বাঘাইহাট, বঙ্গলতলী, রূপকারী, কদমতলী, তুলাবান, গুচ্ছগ্রাম, মুসলিম ব্লক, ইমাম পাড়া, মাস্টার পাড়া, গুনিয়া পাড়া, সরকার পাড়া, কলেজ পাড়া ও পুরনো মারিষ্যা।
পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় বাঘাইছড়ির বিস্তৃত এলাকার কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মার্কেটসহ বিভিন্ন পাকা ভবনে অবস্থান নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের জন্য এখনো কোনো ত্রাণতৎপরতা শুরু করতে পারেনি। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও অতি বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় লংগদু, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচরের নি¤œাঞ্চলের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে ডুবে গেছে।
এ দিকে নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসের মাটি চাপায় নিহত ১১জনের সৎকার মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে তিন দিন পর বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আর কোথাও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি। পাহাড় ধসের আশঙ্কায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেয়া লোকজন বাড়িঘরে আবার ফিরতে শুরু করেছেন। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কসহ রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যোগাযোগ আবার চালু হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ জানান, বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি ঢলে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে সেখানে বসবাসরত মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।


আরো সংবাদ