২৩ জুন ২০১৮

ঈদে বেড়ানোর নয়নাভিরাম স্থান প্রকৃতিকন্যা মৌলভীবাজার

হামহাম জলপ্রপাত ;নয়া দিগন্ত -

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নয়নাভিরাম পর্যটন সমৃদ্ধ প্রকৃতির কন্যা মৌলভীবাজার জেলার আকর্ষণীয় স্পটগুলো আপনাকে ঈদে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, কুলাউড়ার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ত্রিপুরা সীমান্তবর্র্তী ধলই চা বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, ছায়া নিবিড় পরিবেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মাধবপুর লেক, সীমান্তবর্তী ঝরনাধারা হামহাম জলপ্রপাত, হ্রদ ও গলফ মাঠ, শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরীসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিভিন্ন জাতিসত্তার জীবন ধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ যেকোনো পর্যটকের মন ও দৃষ্টি কড়ে নেবে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
দেশের ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংরতি বনাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে দর্শনীয়, নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। পশুপাখি, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। এ উদ্যানে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সবুজ বৃরাজি। বিশ্বের বিলুপ্ত প্রায় জীব উল্লুকসহ কয়েকটি জন্তু ও বিলুপ্ত প্রায় কয়েকটি মূল্যবান গাছগাছালির শেষ নিরাপদ আবাসস্থল হলো লাউয়াছড়া। এই উদ্যান ভ্রমণপিপাষুদের জন্য এখন একটি আকর্ষণীয় স্থান। ১৯৯৬ সালে ১২৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে লাউয়াছড়াকে ঘোষণা করা হয় জাতীয় উদ্যান হিসেবে। ঢাকা থেকে প্রায় সোয়া ২ শ’ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে লাউয়াছড়ার অবস্থান। ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেন অথবা বাসযোগে শ্রীমঙ্গল নেমে খুব সহজেই আসতে পারেন। সময় লাগবে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টা।
লাউয়াছড়ায় কী আছে
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মোট এলাকার ৮৫০ হেক্টর জায়গাজুড়ে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি বাগান, ১৭০ হেক্টর এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক প্রজাতির বাগান, ২১ হেক্টর এলাকায় বাঁশ ও বেত, ১৫০ একর এলাকায় মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি ও ১০০ একর এলাকায় খাসিয়াদের পান জুম। এ ছাড়া জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির প্রাণ বৈচিত্র্যের ভেতর ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভয়চর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরিসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির অর্কিড, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং ১৭ প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে। আগর বাগান, বিরল প্রজাতির গাছ, নানা প্রজাতির পাখির ডাক, ছড়া, বনফুল, অর্কিড, চশমাবানর, বিশ্বের বিলুপ্ত প্রায় দুর্লভ উল্লুক এগুলো এই বনের বিশেষ আকর্ষণ। এ বনের বিচিত্র পশুপাখি ও পোকা মাকড়ের অদ্ভুত ঝিঁ ঝিঁ শব্দ, বানরের ভেংচি, ভালুকের গাছে গাছে ছোটাছুটির দৃশ্য দেখতে ভালো লাগে। জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর ইউএসআইডির অর্থায়নে নিসর্গ সহায়তা প্রকল্প এই উদ্যানের জীববৈচিত্র্য ও বৃ রণাবেণ এবং পর্যটকদের আকর্ষণীয় করে তুলতে উদ্যান ভ্রমণে একটি ৩ ঘণ্টার, একটি ১ ঘণ্টার ও ১টি আধাঘণ্টার প্রাকৃতিক ট্রেইল বা পায়ে হাঁটার পথ চিহ্নিত করেছে। নিসর্গ সহায়তা প্রকল্প তৈরি করেছে ইকো ট্যুরিস্ট গাইড। লাউয়াছড়া সম্পর্কে জানতে ও বনের অভিজ্ঞতা অর্জনে গাইড ছাড়াও উদ্যানে রয়েছে পর্যটকদের জন্য তথ্য কেন্দ্র, ইর্কো কটেজ, ইন্সপেকশন বাংলো, গোলঘর, ফেন্সিবীজ প্রভৃতি। নিসর্গের পরিবর্তে বর্তমানে আইপ্যাক (সমম্বিত রক্ষিত সহব্যবস্থাপনা) কাজ করছে।
বাইক্কা বিল
বাইক্কা বিল, ঢাকা থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মৌলভীবাজার জেলার প্রখ্যাত চা সমৃদ্ধ শহর শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে পূর্বদিকের প্রায় ১০০ হেক্টর আয়তনের একটি জলাভূমির নাম। ১ জুলাই ২০০৩ তারিখে বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয় এই বিলটিকে মৎস্য সম্পদের একটি অভয়াশ্রম হিসেবে সংরণের সিদ্ধান্ত নেয়। আইড়, কই, মেনি, ফলি, পাবদাসহ আরো অনেক প্রজাতির মাছ এখানে বংশবৃদ্ধি করে পুরো হাওর ছড়িয়ে পড়ে। এই বিল মাছের জন্যই শুধু নয়, পাখি এবং অন্যান্য অনেক প্রাণীর জন্যও একটি চমৎকার নিরাপদ আবাসস্থল। এটি একটি নয়নাভিরাম জলাভূমি যেখানে হাজারো শাপলা আর পদ্মফুল ফোটে। এ ছাড়া এই বিলের বুনো বাসিন্দা আর শীতে আগত পরিযায়ী পাখিদের ভালোভাবে দেখার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি পর্যবেণ টাওয়ার।
বিলের কিনারে ফোটে হাজারো পানা, শাপলা আর পদ্মফুল। বিলের পানিতে সকাল-সন্ধ্যা চলে রঙিন ফড়িংয়ের বিরতিহীন উড়াউড়ি। বৃষ্টিহীন উষ্ণ দিনে বিলের ফুলের পাশে আসে আরো একদল পতঙ্গপ্রজাতি। প্রকৃতিপ্রেমীর চোখে পাখিই এই অভয়াশ্রমের সেরা প্রাণী। শীত মওসুমে এখানে আসে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। এই বিলের উল্লেখযোগ্য পাখিÑ পানকৌড়ি, কানিবক, ধলাবক, গোবক, ধুপনিবক, রাঙ্গাবক, দলপিপি, নেউপিপি, পান মুরগি, বেগুনি কালেম, কালোমাথা কাস্তেচরা, শঙ্খ চিল, পালাসী কুড়া ঈগল। শীতের অতিথি হয়ে এই বিলে আসে অনেক জাতের সৈকত পাখি। এদের মধ্যেÑ গেওয়ালা বাটান, মেটেমাথা চিটি আর কালাপঙ্খ ঠেঙ্গী, ধলা বালিহাঁস, পাতি সরালী, রাজসরালী, মরচেরং, ভূতিহাঁস, গিরিয়াহাঁস, ল্যাঙ্গাহাঁস ও গুটি ঈগল।
বাইক্কা বিলে প্রতি বছর শীত মওসুমে প্রচুর পরিযায়ী পাখির সমাগম ঘটে। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের এক গবেষণায় বাইক্কা বিলে ২০৩ প্রকার পাখি শনাক্ত করা হয়েছে যার মধ্যে পরিযায়ী পাখি ১৫৩টি এবং স্থায়ী বসবাসকারী পাখি ৫০টি। বাইক্কা বিলকে সংরতি এলাকা ঘোষণা করায় পাখির সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার অনেক বেড়েছে। দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির চলাচল, গতিবিধি, পর্যবণে ও পাখির জীবনাচরণের বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষেণার জন্য পাখিদের পায়ে রিং পরানো হয়েছে।
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
প্রায় ২ শ’ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের অবস্থান মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায়। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিত এই স্থানটিতে বর্তমানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের রেস্ট হাউজ ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বেড়েছে পর্যটন সম্ভাবনা। এ ছাড়া সরকারি উদ্যোগে পুরো এলাকাটিকে ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে ‘মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক’। শ্যামল সবুজ বনরাজি বেষ্টিত মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক, নয়নাভিরাম দৃশ্য, নান্দনিক পিকনিক স্পট, সুবিশাল পর্বতগিরি, পাহাড়ি ঝরনার প্রবাহিত জলরাশির কল কল শব্দÑ সব মিলিয়ে মাধবকুণ্ড বেড়াতে গেলে পাওয়া যায় বাড়তি মাত্রা।
প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটন ভিড় জমান এই ঝরনা ধারার সৌন্দর্য উপভোগে। মাধবকুণ্ড থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে আরো একটি ঝরনা। এর নাম পরীকুণ্ড। মাধবকুণ্ড যাওয়ার উত্তম সময় হচ্ছে বর্ষাকাল, এই সময় ঝরনা পানিতে পূর্ণ থাকে। শীতকালেও এর সৌন্দর্যের কমতি হয় না। মাধবছড়াকে ঘিরেই খাসিয়াদের জীবনযাত্রা আবর্তিত হয়। ফলে আদিবাসী জীবনযাত্রা আর সংস্কৃতিও উপভোগ করা যাবে এখানে।
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে এলে চোখে পড়বে উঁচু নিচু পাহাড়ি টিলায় দিগন্ত জোড়া চা বাগান। টিলার ভাঁজে ভাঁজে খাসিয়াদের পানপুঞ্জি ও জুম চাষ। পাহাড়িদের সনাতনী বাড়ি ঘর জীবনযাত্রা দৃশ্য সত্যিই অপূর্ব। মাধবকুণ্ড অতীত থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের চৈত্র মাসে ভগবান মাধবেশ্বরের আশীর্বাদ নিতে হাজার হাজার মানুষ এখানে আসে। এ সময় মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে পুণ্যার্জন ও বারুনী স্নান করে পাপ মুক্তির কামনা করেন তারা। মাধবকুণ্ডে মাধবের মন্দির ছাড়াও রয়েছে শিব মন্দির। বিশালাকার শিবলিঙ্গ পুজা করাও হয়ে থাকে। চৈত্র মাসের ওই সময়ে বিশাল মেলা বসে।
মাধবকুণ্ডের নামকরণ
মাধবকুণ্ডের নামকরণ সম্পর্কে কথিত আছে যে শ্রীহট্টের রাজা গঙ্গাধ্বজ ওরফে গোবর্ধন পাথারিয়া পাহাড়ে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ শুরু করলে সেখানে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মাটির নিচে একজন সন্ন্যাসীকে দেখতে পান। তখন তিনি এ সন্ন্যাসীর পদ বন্দনা ও স্তুতি শুরু করলে সন্ন্যাসী তাকে নানা উপদেশসহ তাকে (সন্ন্যাসীকে) এ কুণ্ডে মাধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথীতে বিসর্জন দিতে নির্দেশ দেন। রাজা তা পালন করেন। সন্ন্যাসী বিসর্জিত হওয়া মাত্র তিনবার মাধব, মাধব, মাধব নামে দৈববাণী হয়। সম্ভবত এ থেকে ‘মাধবকুণ্ড’ নামের উৎপত্তি। আবার কারো কারো মতে মহাদেব বা শিব-এর পূর্ব নাম মাধব এবং এর নামানুসারেই তার আবির্ভাব স্থানের নাম ‘মাধবকুণ্ড’।
মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী থানা বড়লেখার ৮ নম্বর দণিভাগ ইউনিয়নের অধীন গৌরনগর মৌজার অন্তর্গত পাথারিয়া পাহাড়ের গায়ে এই জলপ্রপাতের স্রোতধারা বহমান। মাধবকুণ্ড সিলেট সদর থেকে ৭২ কিলোমিটার, মৌলভীবাজার জেলা থেকে ৭০ কিলোমিটার, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে ৩২ কিলোমিটার এবং কাঁঠালতলী থেকে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।
মাধবপুর লেক
কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুরে নয়নাভিরাম মনোরম দৃশ্য মাধবপুর লেক ভ্রমণপিপাষু মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান। এখানকার পাহাড়ি উঁচু নিচু টিলার মধ্যে দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩ কিলোমিটার পানির হ্রদ ও তার শাখা প্রশাখা, চারপাশে পাহাড়ি টিলার ওপর সবুজ চা বাগানের সমারোহ, জাতীয় ফুল দুর্লভ বেগুনি শাপলার আধিপত্য, ঝলমল স্বচ্ছ পানি, ছায়া নিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি আনন্দের বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে। এক দিনেই মাধবপুর লেকের দৃশ্য উপভোগ করে বেরিয়ে এসে একই রাস্তায় প্রায় ১০ কিলোমিটার যাওয়ার পরই বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ ঘুরে আসা যাবে।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান আত্মোৎসর্গের কারণে বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করেছে। হামিদুর রহমানের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে তৎকালীন শ্রীমঙ্গলের ১৭ রাইফেল ব্যাটালিয়ন ধলই সীমান্ত ফাঁড়িসংলগ্ন স্থানে শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান ‘বীরশ্রেষ্ঠ স্মরণী’ নির্মাণ করে। ২০০৬ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গণপূর্ত বিভাগ ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই চা বাগানে বিজিবির সীমান্ত ফাঁড়িসংলগ্ন এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এখানে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক, দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন এ স্মৃতিসৌধ দেখতে আসছেন। সকালে বের হলে লাউয়াছড়া ভ্রমণ শেষে মাধবপুর লেক ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ ঘুরে আসা যাবে।
হামহাম জলপ্রপাত
কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দেিণ রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিট এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাত। স্থানীয় পাহাড়ি অধিবাসীরা এ জলপ্রপাত ধ্বনিকে হামহাম বলে। তাই এটি হামহাম নামে পরিচিত। সেখানে সরাসরি যানবাহন নিয়ে পৌঁছার ব্যবস্থা নেই। কুরমা চেকপোস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তায় স্থানীয় বাস, জিপ ও মাইক্রোবাসে যেতে হয়। বাকি ১০ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। সেখান থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত এলাকায় ত্রিপুরা আদিবাসী পল্লী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা তৈলংবাড়ী কলাবন বস্তি থেকে হেঁটে রওনা হতে হবে। প্রায় ৬ কিলোমিটার পাহাড় টিলা ও ২ কিলোমিটার ছড়ার পানি অতিক্রম করে ৩ ঘণ্টা হাঁটার পর ১৬০ ফুট উচ্চতার হামহাম জলপ্রপাতের দেখা পাওয়া যাবে। হামহাম জলপ্রপাত ভ্রমণ করতে এক দিনের প্রয়োজন। এ ছাড়াও ভ্রমণের জন্য রয়েছে মৌলভীবাজারের বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, কমলগঞ্জে পাক বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের নীরব সাী বধ্যভূমি, ব্রিটিশদের শোষণের প্রতীক তিলকপুর নীলকুটি, ঘটনাবহুল মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ড, বর্ণময় শিল্পসমৃদ্ধ মণিপুরী সম্প্রদায়সহ টিপরা, খাসি, গারো সমাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এলাকাগুলো।

 


আরো সংবাদ