২৩ জুন ২০১৮

খুলনায় দৃষ্টিনন্দন মিনার ও গেট

অনন্য স্থাপত্য
খুলনা জামি’আ ইসলামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসার প্রবেশ ফটক ও সুউচ্চ মিনার ;নয়া দিগন্ত -

খানজাহানের স্মৃতিধন্য খুলনা মহানগরীর মুসলমানপাড়ায় ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত দারুল উলুম মাদরাসা; যা বর্তমান জামি’আ ইসলামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসা নামে পরিচিত। নগরী থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্বের পথ। মাদরাসা কম্পাউন্ডেই নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে সাদা টাইলস দিয়ে মসজিদ কমপ্লেক্স। কমপ্লেক্সের প্রধান গেটের নামকরণ করা হয়েছে তালাবওয়ালা শাহী গেট। মসজিদে প্রবেশের মূল দরজার পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মিনার; যার উচ্চতা ২২৬ ফুট। বর্তমানে এটিই খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ মিনার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মিনার ছাড়াও মসজিদটিতে রয়েছে চারটি গম্বুজ।
রমজান মাসকে ঘিরে আসরের নামাজের পর থেকে রোজাদার ও সাধারণ মুসল্লিদের পদচারণায় এ মিনার ও মসজিদ এলাকায় এক মোহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরাও এখানে এসে মুগ্ধ হন নির্মাণশৈলী দেখে।
এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা জানান, এই মাদরাসা ও মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা এ অঞ্চলের বিখ্যাত দানবীর মরহুম আবদুল হাকীম জোমাদ্দার। তারই ছেলে আবদুল জব্বারের উদ্যোগেই এই মসজিদ এবং দৃষ্টিনন্দন মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। অত্যন্ত রুচিশীল ও আধুনিক স্থাপত্যের ডিজাইনে পুরো মসজিদ, মিনার ও প্রবেশ গেট মনে করিয়ে দেয় ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে। মসজিদকে ঘিরে অসংখ্য সুপারি ও নারকেল গাছের সবুজ পরিবেশ। প্রবেশ গেট থেকে শুরু করে মিনার পর্যন্ত ভারত থেকে আনা বড় সাইজের ক্যাকটাস, টবে লাগানো বিদেশী ঝাউগাছ ও অর্কিড জাতীয় বিভিন্ন গাছ এলাকার পরিবেশকে আরো আকর্ষণীয় করেছে। মসজিদের ভেতর আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের ফিটিংস, লাইট, কাঠের কারুকার্য খচিত কাজ, যারা বসে নামাজ পড়েন তাদের জন্য নারকেল ও তাল গাছের গোড়া দিয়ে তৈরি প্রায় ২০টি মতো বসার চেয়ার রুচিশীলতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদের তিন পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সর্বোচ্চ এবং অন্যতম সুন্দর মিনার দেখে মুগ্ধ হন সবাই। সুউচ্চ এ মিনার থেকে আজানের ধ্বনি শিহরিত করে সবাইকে। মসজিদের জানালাগুলোতে বর্ণিল কাচ, মার্বেল পাথর, সিরামিকস, ঝাড়বাতির আলো ঝলমল পরিবেশ ইবাদত-বন্দেগিতে সবার মন জুড়িয়ে দেয়।
সন্ধ্যা নামলেই বর্ণিল আলোকচ্ছটার বিকিরণ নজর কাড়ে সবার। আঁধারে আলোর রৌশনিতে জামি’আর জামে মসজিদের চার পাশ এক মোহনীয় পরিবেশ তৈরি করে। ২২৬ ফুট সুউচ্চ মিনারে রাতে একটিমাত্র উচ্চ মতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক বাতি দূর-দূরান্ত থেকেও সবার মন ছুঁয়ে দেয়। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা জাপানি প্রবাসী তছলিম উদ্দীন বলেন, এমনিতেই দারুল উলুম খুলনার আলেম-ওলামাদের কেন্দ্রবিন্দু। ধর্মীয় বিষয়ে এখানের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে থাকেন সবাই। তার পর এখানের সুউচ্চ মিনার, মসজিদ ও প্রবেশ গেট এলেই খুলনাকে আরো এগিয়ে রেখেছে। পদ্মার এপারে মনে হয় এটিই সবচেয়ে বড় মিনার। খুলনার যেকোনো প্রান্ত থেকে রাতে আলো ঝলমল এ মিনারটি দেখে সবাই মুগ্ধ হন। তা ছাড়া এর পরিবেশ ও মসজিদ চত্বরের নামী-দামি গাছগুলো দেখলে মন জুড়িয়ে যায়।
মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা মোশারফ হোসেন জানান, প্রায় দুই হাজার মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটিতে পবিত্র রমজানে দুই ধরনের তারাবির নামাজ হয়। এক হলো ছয় দিনে খতম তারাবি। দুই হলো ২৭ দিনে খতম তারাবি।


আরো সংবাদ